Jump to content
News Ticker
  • News ticker sample
  • News ticker sample
Sign in to follow this  
  • entries
    12
  • comments
    5
  • views
    1,881

About this blog

কিছু কথা

আমি প্রফেশনাল আর্টিকেল লেখক নই। আমার লেখা আর্টিকেলগুলো তথ্যমূলক। তাই আর্টিকেল লেখা বা সংকলের সময় বিভিন্ন রেফারেন্স, ওয়েব সাইট, পত্র-পত্রিকা এবং ব্লগ এ প্রদত্ত তথ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। সেখান থেকে তথ্য নিয়ে আমি আমার আর্টিকেলটি অলংকৃত করি। চেষ্টা করি আর্টিকেলগুলো আরো তথ্যবহুল এবং মান সম্মত করতে। 

আপওয়ার্ক বাংলাদেশ কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

জিয়া, তারিখঃ ২৫/০৪/১৭

 

Entries in this blog

md. ziaul haque

কম্পিউটার গ্রাফিক্স কি?

কম্পিউটার মনিটরে অস্থায়ীভাবে প্রদর্শিত বর্ণ, সংখ্যা, বিশেষ ধরনের অক্ষর, ছবি, চিত্র ইত্যাদিকে কম্পিউটার গ্রাফিক্স বলে।

 

কালার মোড

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর ক্ষেত্রে বহুল পরিচিত সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করতে গেলে বিভিন্ন কালার মোড দেখা যায়। কালার মোডগুলো হলো;

০১. এ্যাডোবি আরিজিবি (RGB)

০২. সিএমওয়াইকে (CMYK)

০৩. ইনডেক্স মোড (২৫৬ রঙ) (Index Mode-256 Colors)

০৪. ল্যাব কালার মোড (Lab Color Mode)

০৫. গ্রে-স্কেল মোড (Gray Scale Mode)

০৬. বিটম্যাপ কালার মোড (Bit Map Color Mode)

০৭. ডুওটোন মোড (Duotone Mode)

০৮. মাল্টিচ্যানেল মোড (Multichannel Mode)

০৯. এসআরজিবি (SRGB)

তন্মধ্যে আরিজিবি (RGB) এবং সিএমওয়াইকে (CMYK) কালার মোড দুটিই মূলত বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

এ্যাডোবি আরজিবি(RGB) কালার মোডঃ

আরজিবি কালার মোডের নামকরণ করা হয় লাল (Red), সবুজ (Green), নীল (Blue) এর ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষরগুলো একসাথে নিয়ে। অর্থাৎ Red এর R, Green এর G, Blue এর B একসাথে করে হয় RGB এই তিনটি রঙের বিভিন্নটিকে বিভিন্ন পরিমাণে মিশিয়ে দৃশ্যমান অন্যান্য রঙ তৈরি করা যায়। যেমন লাল সবুজ আর নীল তিনটি রঙকেই সমপরিমাণে মেশালে সাদা রঙ পাওয়া যাবে আবার যদি শুধু লাল এর সবুজ মেশানো হয় তবে হলুদ রঙ পাওয়া যাবে, লাল আর নীল মেশালে ম্যাজেন্টা রঙ পাওয়া যাবে। এভাবেই এই তিনটি রঙকেই বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পরিমানে মিশিয়ে বিভিন্ন রঙ তৈরি করা হয়। আর যখন তিনটি রঙের কোনটিই উপস্থিত থাকেনা তখন কালো রঙ পাওয়া যায়।

এ্যাডোবি আরজিবি(RGB) কালার কোড দেখুন

ওয়েব ডিজাইনের জন্যে যে গ্রাফিক্সের কাজ করা হয় তা কেবল কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিণেই দেখা হয় সেহেতু শুধু আরজিবি কালার মোডই ব্যবহার করা হয়। RGB কালার মোড ব্যবহৃত হয় Visul Media এর ক্ষেত্রে।

 

এসআরজিবি (SRGB) (Standard Red Green Blue)

এসআরজিবি (SRGB) মানে হচ্ছে (Standard Red Green Blue)। ওয়েব গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্যে এসআরজিবিই (sRGB) সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। কারণ বেশিরভাগ কম্পিউটার মনিটরই এসআরজিবি কালার স্ক্রিণে দেখাতে পারে। অন্যদিকে অ্যাডবি আরজিবিতে এসআরজিবির চাইতে ৪৫% বেশি রঙ নির্বাচন করার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ অ্যাডবি আরজিবিতে রঙের পরিমাণ এসআরজিবি্র চাইতে শতকরা ৪৫ ভাগ বেশি! তবুও অ্যাডবি আরজিবির চাইতে এসআরজিবিই বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ বেশিরভাগ কম্পিউটার মনিটর অ্যাডবি আরজিবির অতিরিক্ত রঙগুলো নাও দেখাতে পারে। বর্তমানে আধুনিক ক্যামেরাগুলোর অনেকগুলোতেই অ্যাডবি আরজিবি কালার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

প্রিন্টিং এর জন্যে আরজিবি কালার মোড ব্যবহার করা সম্ভব না। আরজিবি কালার মোডে করা গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজগুলো কম্পিউটার স্ক্রিণেই সঠিকভাবে দেখা সম্ভব। তা প্রিন্ট আউট করে বের করলে কম্পিউটারের মতো করে দেখা সম্ভব না। অর্থাৎ কম্পিউটারে যে রঙ যেভাবে দেখা যেতো সে রঙ ঠিক সেভাবে দেখা যাবেনা। যদিও ভালো মানের আরজিবি প্রিন্টার বাজারে পাওয়া যায়, তবে সেটা বিশাল বিশাল ছাপানোর কাজে ব্যবহার সম্ভব না।

 

সিএমওয়াইকে (CMYK)

সিএমওয়াইকে কালার মোডের নামকরণ করা হয় নীলসবুজ (Cyan), ম্যাজেন্টা (Magenta), হলুদ(Yellow) এবং কালো (Black) এর ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষরগুলো একসাথে নিয়ে। অর্থাৎ Cyan এর C, Mageta এর M, Yellow এর Y এবং Black এর K একসাথে করে হয় CMYK  উল্লেখ্য যে, প্রত্যেকটির প্রথম অক্ষর নিয়ে এবং কালো এর প্রতিক হিসেবে K নিয়ে এর নামকরণ করা হয় CMYK (সিএমওয়াইকে)

আরজিবি কালার মোডের দুটো রঙ একসাথে মেশানো হয় তখন সিএমওয়াইকে কালার মোডের একটি রঙ তৈরী হয়। যেমন সবুজ এবং নীল মিলিয়ে হয় সায়ান রঙ, লাল এবং নীল মিলিয়ে হয় ম্যাজেন্টা রঙ, লাল এবং সবুজ মিলিয়ে হয় হলুদ রঙ। এই প্রস্তুতকৃত সায়ান, ম্যাজেন্টা আর হলুদ প্রত্যেকেই সিএমওয়াইকে কালার মোডের মৌলিক রঙ এবং সেই সাথে কালো রঙ জুড়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ কালো, সায়ান, ম্যাজেন্টা আর হলুদ এই চারটি রঙ মিলে সিএমওয়াইকে কালার মোড তৈরী হয়।

সিএমওয়াইকে (CMYK) কালার কোড দেখুন

প্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে সিএমওয়াইকে কালার মোড ব্যবহার করা হয়। 

 

গ্রাফিক্স এর প্রকারভেদ

  • প্রকৃতিগত দিক থেকে

প্রকৃতিগত দিক থেকে গ্রাফিক্সকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

০১. স্থির গ্রাফিক্স যেমন কোন ফটোগ্রাফ বা ডিজিটাল ইমেজঃ কম্পিউটার বা এ জাতীয় কোন মাধ্যমের দ্বারা কোন বস্তুর প্রতিরূপ আমার দেখেপাই তাই হল ডিজিটাল ইমেজ। কম্পিউটার অনেকগুলি     “1”  কে পরিমাপ ও গণনা করে এক একটি পিক্সেল(Pixel) তৈরী করে। তারপর ওই পিক্সেলস (Pixels) গুলি একত্রিত করে যে প্রতিরূপ সৃষ্টি করে তাই ডিজিটাল ইমেজ

০২. চলমান গ্রাফিক্স যা এনিমেশন বা ভিডিও নামে পরিচিত; যেমন কম্পিউটারে তৈরী কোন এনিমেশন মুভি ক্লিপ।টারজান, আলাদিন, টম অ্যান্ড জেরি, পাপাই, থান্ডার ক্যাটসমিনা কার্টুন সবই এনিমেশনের ফসল।  

  • গঠনগত দিক থেকে

কম্পিউটারে যেসমস্ত গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়ে থাকে গঠনগত দিক থেকে তাদের দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। সেগুলো হলো; 

০১. ভেক্টর গ্রাফিক্স 

০২. রাস্টার বা পিক্সেল গ্রাফিক্স

  

ভেক্টর গ্রাফিক্স (Vector Graphics)

ভেক্টর গ্রাফিক্স জিওমের্টিক্স মডেলিং বা অবজেট ওরিয়েনটেশন নামেও পরিচিত।

ভেক্টর গ্রাফিক্স হচ্ছে জ্যামিতিক প্রিমিটিভ যেমন বিন্দু, রেখা, বক্ররেখা, বহুভুজ, ইত্যাদির গাণিতিক সমীকরণ ব্যবহার করে কম্পিউটার গ্রাফিক্স এর ছবি উপস্থাপনের একটি পদ্ধতি।

এডোবি ইলাষ্ট্রেটরের যেকোন আর্টওয়ার্কই ভেক্টর গ্রাফিক্স (Vector Graphics)। Vector গ্রাফিক্স Line এবং Curve এর সমন্বয়ে এক ধরণের জ্যামিতিক Object দিয়ে তৈরী হয়, যাকে বলে VectorVector গ্রাফিক্স কে বড় করলে এর অবজেক্টগুলো অপরিবর্তিত থাকে, ইমেজগুলো ফেটে যায়না। বিভিন্ন ধরণের অলংকরণ, টেক্সট এবং লোগোর মতো গ্রাফিক্সের কাজে Vector গ্রাফিক্স বহুল ব্যবহৃত হয়।

Vector গ্রাফিক্স অনেকগুলো পাথের (path)  সমন্বয়ে গঠিত। প্রত্যেকটি পাথ আবার স্টার্টিং পয়েন্ট,এন্ডিং পয়েন্ট সহ অন্যান্য পয়েন্ট, কার্ভ এবং এঙ্গেলের সমন্বয়ে গঠিত। পাথগুলো বিভিন্ন আকারের হতে পারে যেমন সরলরেখাকৃতি, ত্রিভূজাকৃতি ইত্যাদি।এই পাথগুলো  সরল এমনকি জটিল ডায়াগ্রাম  তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু এটি রাস্টার গ্রাফিক্সের মত নির্দিষ্ট সংখ্যক ডটের সমন্বয়ে গঠিত নয়, তাই একে আকারে বড় করলেও এর ইমেজের মানের কোন পরিবর্তন হয় না।

ভেক্টর গ্রাফিক্সকে জুম করা হলেও তা পরিস্কার পরিছন্ন থাকে।এছাড়া ভেক্টর ইমেজ ফাইল কে খুব সহজেই পরিবর্তন করা যায়।

Adobe illustrator হল ভেক্টর গ্রাফিক সফটওয়্যার ।সাধারনত ভেক্টর গ্রাফিক এর ফরম্যাট .EPS হয়ে থাকে ।

 

রাস্টার গ্রাফিক্স (Raster Graphics)

ফটোশপের সমস্ত ইমেজই রাস্টার গ্রাফিক্স (Raster Graphics)বা পিক্সেল গ্রাফিক্স (Pixel Graphics)। রাস্টার গ্রাফিক্স চারকোনা টাইলস এর মতো সেপের পিক্সেল দিয়ে তৈরী হয়। রাস্টার ইমেজে পিক্সেল থাকার কারনে ইমেজকে বড় করলে এই পিক্সেলগুলো বেড়িয়ে আসে বা ইমেজ ফেটে যায়। রাস্টার গ্রাফিক্সকে বিটম্যাপ ইমেজও বলা হয়ে থাকে।

রাস্টার ইমেজের পিক্সেলের এবং কালারের ভ্যালু নির্দিষ্ট থাকে। যখন কোন রাস্টার ইমেজকে এডিট করা হয় তখন আসলে এই ইমেজের পিক্সেলকেই এডিট করা হয়। মূলত রাস্টার ইমেজের পিক্সেলের এবং কালারের ভ্যালু নির্দিষ্ট থাকার কারনে জুম করলে ইমেজটি ফেটে যায়।

ডিজিটাল ক্যামেরাডিজিটাল স্ক্যানার বা পিক্সেল এডিটিং প্রোগ্রাম (যেমন: এডোবি ফটোশপ) দিয়ে রাস্টার গ্রাফিক চিত্র তৈরি হয়। রাস্টার ইমেজ একটি ম্যাট্রিক্স (গ্রিড) বা বিটম্যাপের ডিজিটাল ছবি উপাদান (পিক্সেল) দিয়ে গঠিত হয়। কালো, সাদা, ধূসর বা রঙিন বর্গক্ষেত্র অথবা আয়তক্ষেত্র দিয়ে সাধারণত পিক্সেলগুলো তৈরি হয়। রাস্টার গ্রাফিক চিত্রকে খুব সহজে ভেক্টর গ্রাফিক চিত্রে রুপান্তরিত করা যায় না।

ইন্টারনেটে বিভিন্ন ছবি এবং ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবির অধিকাংশই রাস্টার গ্রাফিক্স । এগুলো সাধারনত বিটম্যাপ ফরমেটে থাকে । এক্ষেত্রে বড় সাইজের ছবির জন্য বেশি মেমরীর প্রয়োজন হয় । উদাহরনসরূপঃ ৬৪০x ৪৮০ সাইজের ছবির জন্য ৩০৭২০০ পিক্সেল ছবির প্রয়োজন হয়। আবার ৬.৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার ক্ষেত্রে ৩০৭২x২০৪৮ সাইজের ছবির জন্য ৬২৯১৪৫৬ পিক্সেলের প্রয়োজন হয়।

 

ভেক্টর ইমেজ এবং রাস্টার ইমেজের মধ্যে পার্থক্যঃ

ভেক্টর কতগুলো বিন্দুর সমন্নয়ে গঠিত।রাষ্টার ইমেজ পিক্সেল এর সমন্নয়ে গঠিত হয়। কিন্তু তার পিক্সেল এর মধ্যে অসখ্য ফাকা জায়গা থাকে। কিন্তু ভেক্টর ইমেজের পিক্সেলের মধ্যে ফাঁকা জায়গা পুরন করে দেয়। ফলে ইমেজ কে যত জুম করুন না কেন তা ফেটে যায় না। কিন্তু রাষ্টার ইমেজে আপনি যত বেশি পিক্সেল দেন না কেন, তা একটি নিদিষ্ট পর্যায়ে গিয়ে ফেটে যাবে।

 

পিক্সেল (Pixel)

পিক্সেল বলতে কোন গ্রাফিক ছবির ক্ষুদ্রতম অংশ বা বিন্দুকে বোঝায়। এটি ছবির ক্ষুদ্রতম একক যার অভ্যন্তরে আর কোন ভগ্নাংশ নেই; অর্থাৎ পিক্সেল ছবির অতি ক্ষুদ্র অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রত্যেক পিক্সেলের নিজস্ব অবস্থান বা খুঁজে পাওয়ার ঠিকানা রয়েছে বলা যায়। কারণ পিক্সেলের অবস্থান নির্দিষ্ট স্থানাংকের সাথে সম্পর্কযুক্ত।পিক্সেল সাধারণত দ্বি-মাত্রিক তলে সাজানো থাকে এবং ডট বা চারকোণা আকৃ্তির হয় যার প্রতিটি অবস্থানের আলাদা স্থানাংক থাকে। প্রত্যেক পিক্সেল মূল ছবির একটি নমুনা। পিক্সেল যত ছোট হয় তা তত বেশি নির্ভূলভাবে একটি ছবির প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন -আমরা বলি ৫০০*৫০০ পিক্সেল । এর মানে হল ইমেজ টির ৫০০ পিক্সেল লম্বা আর ৫০০ পিক্সেল চওড়া । গ্রাফিক কার্ড এর মাধ্যমে জুম করে দেখলে  ইমেজ এর পিক্সেল কে দেখা যায় ।

 

রেজুলেশন (Resolation)

রেজুলেশন হল ইমেজ এর প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেলের সংখ্যা । অর্থাত মনিটরের পর্দায় হরাইজন্টাল ও ভার্টিক্যাল বরাবর মোট পিক্সেলের সংখ্যাকে রেজোলুশন বলে। প্রকৃত পক্ষে মনিটরের অনুভূমিক ও উল্লম্ব বরাবর পিক্সেলের সংখ্যাই রেজোলুশনের পরিমাপ। কম্পিউটার গ্রাফিক্স এর জন্য High Resolation মানে  high Quality ইমেজ নয় । যেটি  গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো পিক্সেলে ইমেজ টির মোট সাইজ । যেমন আমরা বলি মনিটরের রেজিউলেশন ১০২৪*৭৬৮ । এর মানে হলো যে, মনিটরের height 1024 pixel  আর  width 768 pixel

 

কমার্শিয়াল প্রিন্টিংয়ের মাপ অনুযায়ী বিভিন্ন রকম রেজুলেশন:

(১) পিপিআই (ppi) পিক্সেল পার ইঞ্চি।
(২) ডিপিআই (dpi) ডটস পার ইঞ্চি।
(৩) এলপিআই (lpi) লাইনস পার ইঞ্চি।

ওয়েবসাইটের জন্য সঠিক রেজুলেশন

প্রিন্টি কাজের জন্য সঠিক রেজুলেশন

৭২ ডট পার ইঞ্চি

৩০০ ডট পার ইঞ্চি

উল্লেখ্য যে, ৩০০ পিস্কেল পার ইঞ্চির একটি রেজুলেশন ছোট পিক্সেল প্রডিউস করবে। আর ৭২ পিক্সেল পার ইঞ্চি বড় পিক্সেল প্রডিউস করবে।

 

প্রিন্ট সাইজ অনুযায়ি সবচেয়ে ভাল রেজুলেশনঃ

* ছোট প্রিন্ট কাছ থেকে দেখা হয়। আর তাই ছোট মাপের ছবির রেজুলেমন বেশী হোয়াই উচি‍‍‌‌‍ৎ।
* বড় প্রিন্ট সাধারণত কিছুটা দুর থেকে দেখা হয়, তাই ভাল বড় ছবির জন্য রেজুলেমন মধ্যম মানের হলেই চলে।
* র্থাৎ প্রিন্ট সাইজ যত বড় হবে, রেজুলেশন ততটাই কম প্রয়োজন হবে।

ছবি: ১২০x৯০ ইঞ্চি রেজুলেশন : ২০ (সঠিক রেজুলেশন)
ছবি :১২০x৯০ ইঞ্চি রেজুলেশন : ১০০ (অপ্রয়োজনীয় রেজুলেশন)

 

বিলবোর্ডে ছবির রেজুলেশন

একটি বিল বোর্ড সাইজের ছবির রেজুলেশন হয় ১০ থেকে ২০ পিপিআই। কারণ, যে ব্যাক্তি ছবিটি দেখবে সে অনেক দুর থেকে তা দেখবে।

 

ছোট ছবি বড় করতে চাইলে সঠিক রেজুলেশন

একটি ছোট ছবিকে বড় করতে প্রথমে এটিকে ৩০০ ডিপিআই এ প্রিন্ট করুন। এবার ছবিটিকে ৬০০ ডিপিআই এ স্ক্যান করুন। এটি বড় রেজুলেশনে সেভ হবে। এবার ইমেজ >ইমেজ সাইজে >ইমেজটিকে রিস্যামপল করুন এবং ডিপিআই পরিবর্তন করে ৬০০ থেকে ৩০০ তে আনুন। ছবিটি বড় হয়ে যাবে এবং এটি হাই কোয়ালিটির ছবি হিসেবে সেভ হবে।

 

কম্পিউটার ডিসপ্লে বা মনিটরের জন্য

কম রেজুলেশনের ছবি সাধারণত ডিজাইন করা হয় কম্পিউটার ডিসপ্লে বা মনিটরের জন্য এটি সবচেয়ে ভাল বোঝান যায় পিক্সেল ডাইমেনশনে যেমন- ৬৪০ পিক্সেল ওয়াইড ৪৮০ পিক্সেল

 

ইন্কজেট প্রেন্টারের জন্য রেজুলেশন
* ইঙ্কজেট প্রিন্টার সাধারণত ১৮০ থেকে ৩৬০ পিপিআই রেজুলেশনে ভাল কাজ করে যেমন- ১৮০ পিপিআই x১০ ইঞ্চিতে

 

অফসেট প্রিন্টারের জন্য রেজুলেশন
* অফসেট প্রিন্টিং স্ট্যান্ডার্ড হলো ৩০০ পিপিআই

 

নিউজ পেপার প্রিন্টে
* নিউজ পেপার প্রিন্ট সাধারণত ৮৫ এলপিআই রেজুলেশনে করা হয় এতে ছবির সব চেয়ে ভাল রেজুলেশন হয় ১৭০ পিপিআই


 

সূত্রঃ বই, ওয়েব, সংকলঃ জিয়া, আপলোডঃ ২৩/০৫/১৭

 

md. ziaul haque

পেপ্যাল কি: PayPal (Nasdaq: PYPL)

বিশ্বজুড়ে অনলাইনে অর্থ লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম পেপ্যাল।

PayPal Holdings, Inc  বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টারনেট ভিত্তিক পেমেন্ট কোম্পানি । এটা অনলাইন বিক্রেতা কোম্পানি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা, যার জন্য এটি কিছু পারিশ্রমিক গ্রহণ করে থাকে। বিনিময়ে তাদের সুবিধা ভোগ করতে দেয়।

পেপ্যাল একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থের স্থানান্তর করতে সহায়তা দিয়ে থাকে। অননলাইন স্থানান্তরের এই পদ্ধতি গতানুগতিক অর্থের লেনদেনের পদ্ধতি যেমন চেক বা মানি অর্ডারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পেপ্যাল এর রয়েছে সারা বিশ্বজুড়ে ২০৩ মিলিয়ন একটিভ একাউন্ট হোল্ডার।

 

অবস্থান ও ঠিকানাঃ

PayPal Holdings, Inc একটি আমেরিকান কোম্পানি ।

কর্পোরেট হেডকোয়ার্টারঃ

২২১১ নর্থ ফার্স্ট স্ট্রিট, সান জোসে, ক্যালিফোর্নিয়া ৯৫১৩১, ইউএসএ।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড অপারেশনঃ

১২৩১২ পোর্ট গ্রেস বৌলেভার্ড

লা ভিয়েস্তা, নেবরাসকা ৬৮১২৮

ইউএসএ।

পেপ্যাল এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

 

প্রতিষ্ঠার বছরঃ

এটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

দেশ, ব্যবহারকারী এবং মুদ্রাসংখ্যাঃ

বর্তমানে ১৯টি দেশে পেপ্যাল সেবা প্রদান করে আসছে। প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারী ২৬টি মুদ্রায় পেপালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে থাকে।

পেপ্যাল ওয়েব সাইট মতে, পেপ্যাল ব্যবস্থায়, তার কনজ্যুমার এবং মার্চেন্ট ১০০টি মুদ্রায় টাকা গ্রহণ করতে পারে, ৫৬টি মুদ্রায় টাকা উত্তোলন করতে পারে এবং ২৫টি মুদ্রায় তার ব্যলেন্স হোল্ড করে রাখতে পারবে।

 

কেন পেপ্যাল

  • পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম এবং সহজ ও নিরাপদ টাকা এবং অনলাইনে কেনাকাটার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম পেপ্যাল সিষ্টেম।
  • ফ্রীল্যান্সারদের তাদের আয়কৃত ডলার কে দেশে আনতে অসংখ্য ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যদিও বা টাকা পেওনার ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে তোলা যায় কিন্তু তাতে অনেক চার্জ কেটে নেয় পেওনার এবং বাংলাদেশি ব্যাংকগুলো যেখানে পেপ্যাল এর চার্জ অনেক কম।
  • বাংলাদেশে মানিবুকার্স, এ্যালার্টপে এবং লিবার্টি রিজার্ভ এর মতো অন্যান্য টাকা আদান-প্রদানের মতো ওয়েবসাইটগুলোর সুবিধা থাকলেও তাদের সুবিধাগুলো পেপ্যালের মতো নয় এগুলোর মাধ্যমে টাকা দেরীতে আসে, বেশী চার্জ কাটে। আর এগুলো বেশীরভাগ ওয়েবসাইটেই সাপোর্ট করে না বা এগুলোর সুবিধা নেই
  • সরকারী বন্ধের দিনে পেপ্যালে শুধুমাত্র আপনার মাউসের একটি ক্লিকেই টাকা পাঠানো যায় কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই
  • বাংলাদেশে পেপ্যাল না থাকার কারণে অনেক নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও কিন্তু গড়ে উঠেছে। যেমন পেপালবিডি তারা অষ্ট্রেলিয়ান ডলারে লেনদেন করে এজন্য চার্জ বেশি দিতে হয় আবার তাদের সেখানে এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য একটা বাৎসরিক চার্জ দিতে হয় আবার তারা লেনদেনের টাকার অংকের পরিমাণের উপরে চার্জ কাটে

 

পেপ্যাল এর অধীনস্থ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলোঃ

  • Braintree
  • Paydiant
  • Venmo
  • PayPal Credit
  • Xoom Corporation

 

বাংলাদেশে পেপ্যাল+জুম

বাংলাদেশে পেপ্যাল আসেনি, কিন্তু তাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘জুম (Xoom)’ কার্যক্রম শুরু করেছে পেপ্যাল চলতি জুলাই মাসের শুরুতে জুমকে ৮৯০ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় মেক্সিকো, ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশে সেবার পরিধি বাড়াতেই পেপ্যাল জুম কিনেছে বিশ্বের ৩৭টি দেশে প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহককে অনলাইন অর্থ লেনদেন সেবা দিচ্ছে জুম এর মাধ্যমে পেপ্যাল এর সেবা ৮০ ভাগ পাওয়া যাবে পেপ্যাল এর একটি অংশ জুম।

জুম শুধুমাত্র আন্তর্জাতিকভাবে আর্থিক লেনদেনে সাপোর্ট প্রদান করে থাকে।

জুম পেপ্যাল পরিবারের একটি সদস্য। জুম এর মাধ্যমে দ্রুত, সহজে এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিকভাবে পরিবার এবং বন্ধুদের নিকট টাকা প্রদান, মোবাইল লোড এবং বিল প্রদান করা যাবে।

পেপ্যা্ল এর মধ্যে জুম একটি পৃথক সার্ভিস, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টাকা পাঠানো/জমা/উত্তোলন করা যায়. এছাড়া মোবাইলে টাকা লোড করা যায় এবং আন্তর্জাতিক বিল পরিশোধ করা যায়।

 

ফেসবুকে জুম

 

জুম সার্ভিসের সুবিধাগুলো

  • মুহুর্তে জমা এবং টাকা পাঠানো

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট থাকলে মুহুর্তে টাকা জমা এবং পাঠানো যায় বছরের ৩৬৫ দিনের যেকোন দিনে যেকোন সময়। প্রভু মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা জমা এবং পাঠানো যায়।

  • মুহুর্তে টাকা উত্তোলন

জুম এর রয়েছে ৬১৫৭ টি লোকেশন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক সহ। যেকোন লোকেশন থেকে যেকোন দিন যেকোন সময় টাকা উত্তোলন করা যাবে।

  • ২ দিন ডিপোজিট সুবিধা

যখন টাকা পাঠানো হয় বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ব্যাংকিং আওয়ারে (সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং ব্রাক ব্যাংক সহ অন্যান্য ব্যাংকসহ), তখন জুম তার গ্রাহককে ২ দিনের ডিপোজিট রাখার সুবিধা দিয়ে থাকে।

  • ৪.৯৯ ইউ ডলার এবং চার্জ বিহীন

ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১০০০ ইউএস ডলারের জন্য জমু ৪.৯৯ ইউএস ডলার চার্জ ধার্য করে থা্কে। কিন্তু ১০০০ ইউএস ডলারের উপরে পরিশোধের জন্য কোন চার্জ নেই বা চার্জ ফ্রি।

  • আর্থিক লেনদেন ট্র্যাকিং

কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে টেক্স মেসেজ, ইমেইল নোটিফিকেশন এবং অনলাইন এক্সেস এর মাধ্যমে ২৪/৭ দিনই গ্রাহক তার আর্থিক লেনদেন ট্র্যাক করতে পারেন।

  • রেফারের মাধ্যমে উপহার

একজন বন্ধুকে রেফার করলে এবং তার প্রথম আর্থিক লেনদেনর জন্য গ্রাহক ২০ ইউএস ডলার সমমূল্যের একটি গিফট পাবে।

  • কাস্টমার সার্ভিস ২৪/৭

জুমের রয়েছে কাস্টমার সার্ভিস ২৪/৭।টোল ফ্রি কল করতে (৮৭৭) ৮১৫-১৫৩১।

  • মানি ব্যাক গ্যারান্টি

জুম তার গ্রাককে মানি ব্যাক গ্যারান্টি দিয়ে থাকে।

 

বাংলাদেশে টাকা উত্তোলনের লোকেশনগুলো

অগ্রণী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক,বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ব্রাক ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, পুবালী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ, রূপালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ, সোনালী ব্যাংক লিঃ, জনতা ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ, উত্তরা ব্যাংক লিঃ এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিঃ।

 

সেন্ড মানি

টাকা পাঠানোর জন্য এই লিংকে প্রবেশ করুন

 

মোবাইল রিলোড

মোবাইল রিলোডের জন্য এই লিংকে প্রবেশ করুন

 

জুম সার্ভিসের আওতাভুক্ত দেশগুলো

আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কলম্বিয়া, কস্টারিকা, ক্রয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, ডমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাডর, ইস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী, গ্রিস, গুয়েতেমালা, গুয়ানা, হাইতি, হন্ডুরাস, হংকং, হাঙ্গেরী, ইন্ডিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইটালী, জ্যামাইকা, জাপান, মেক্সিকো, মোনাকো, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নিকারাগুয়া, নাইজিরিয়া, নরওয়ে, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপিনস, পোল্যন্ড, পর্তুগাল, সানমারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সাউথ আফ্রিকা, স্পেন, শ্রীলংকা, সুইডেন, ইউনাইটেড কিংডম, উরুগুয়ে এবং ভিয়েতনাম।

 

জুম ব্যবহার করতে কি পেপ্যাল একাউন্ট এর প্রয়োজন?

না, জুম ব্যবহারের জন্য পেপ্যাল একাউন্ট এর দরকার হয়না।

জুম বাংলাদেশে সাইন আপ করুন। তারপর আপনার ইমেইল এড্রেস এবং প্রাপ্ত জুম পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করুন।

 

পেপ্যাল একাউন্ট দিয়ে কি জুম সার্ভিস পাওয়া যাবে?

হ্যা, পাওয়া যাবে। এজন্য লগ ইন স্ক্রীনে কনটিন্যু উইথ পেপ্যাল সিলেক্ট করতে হবে।

 

পেপ্যাল ব্যলেন্স থেকে জুম ট্রানজাকশনের জন্য অর্থ পরিশোধ করা যাবে?

না, এই মুহুর্তে এটা করা যাবে না। পেপ্যাল ব্যালেন্স এর মাধ্যমে শুধুমাত্র পেপ্যাল সংশ্লিস্ট ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড এবং ডেবিট কার্ডে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

 

চার্জ এবং ফি

ব্যাংক একাউন্ট, ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডে প্রতি ১০০০ ইউএস ডলার আর্থিক লেনদেনে গ্রাহককে ৪.৯৯ ইউ এস ডলার চার্জ পরিশোধ করতে হয়। তবে ক্রেডিট কার্ডে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অতিরিক্ত চার্জ ধার্য্য করতে পারে।

 

ঝুকিঃ

পেপ্যাল ব্যবস্থায় অন্যতম ঝুকি হচ্ছে মানিলন্ডারিং। তবে মানি লন্ডারিং ঠেকাতে, গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া ট্রাভেল কোটার মধ্যে কেনাকাটা করতে হবে

 

জুম এবং পেপ্যালে সহযোগীতা পেতে

(877) 815-1531 (within the U.S.) | +1 (415) 395-4225 (outside the U.S.)

পেপ্যালে হেলপ লাইন // জুম বাংলাদেশে যোগাযোগ

 

জুম এ্যাপ

অ্যান্ড্রয়েড // আইফোন

 

পরিশেষে

বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে পেজা, স্ক্রিল পেওনিয়ার সেবা দিচ্ছেআউট সোর্সিং আয়ের কোটি ডলার এসব সেবার মাধ্যমে আসে এর বড় একটি অংশ আসে পেওনিয়ারের মাধ্যমে

md. ziaul haque

ওয়েব কুকিজ আসলে কি?

কুকিজ হলো কিছু ফাইল, যেগুলো আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজারের ক্যাশ মেমোরিতে সংরক্ষিত হয়। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যাবার পরে এই কুকিজগুলো কম্পিউটারে সেভ হয়ে থাকে। এটি আপনার পরিদর্শন করা ওয়েবসাইটগুলো আপনার কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে। ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় সার্ভার থেকে আপনার ব্রাউজারে অবিরত পাঠানো প্যাকেট ডাটা, যা ব্রাউজার আবার সার্ভারে ফেরত পাঠায়এই সকল প্যাকেট ডাটাকে কুকিজ বলা হয়। ওয়েবসাইটের সেটিংস অনুসারে যখন আপনি সাইটে ফেরত আসবেন, সংশ্লিষ্ট ব্রাউজার এই সাইট সম্পর্কিত কুকি ফেরত পাঠায় এটি আপনার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সাইটটিকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী প্রদর্শন করতে অনুমতি প্রদান করে

মনে করুন আপনি অ্যামাজন বা ইবে এর মতো কোন ই-কমার্স সাইটে গেলেন বা কোন টিকিট বা হোটেল বুকিং এর সাইটে গেলেন তো এইসব সাইট আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজারে তাদের কুকিজ বসিয়ে দেবে। এখন এই কুকিজ বসানোর পরে আপনি সেই সাইট গুলোতে গিয়ে কি কি প্রোডাক্ট বা প্লেস সার্চ করলেন বা কোন আইটেম বেশি সময় ধরে দেখলেন আর কোন আইটেম কম সময় ধরে, এই সমস্ত ডাটা গুলো আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজার কুকিজের মাধ্যমে সেই ওয়েবসাইট টির কাছে লাগাতার পাঠাতে থাকে। যাতে আপনি যদি পরবর্তীতে সেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন তবে সেই ওয়েবসাইট টি আপনাকে রেকমেন্ড রেজাল্ট দেখাতে পারে। মনে করুন আপনি গতবার অ্যামাজনে একটি ব্র্যান্ডের ঘড়ি সার্চ করেছিলেন এবং কুকিজের মাধ্যমে সেই ডাটা গুলো অ্যামাজনের কাছে চলে গেছে এবার এখন যদি আবার অ্যামাজন ভিসিট করেন তবে আপনাকে আরো ঐরকম ঘড়ি দেখানো হবে আপনাকে একই দাম রেঞ্জের আরো প্রোডাক্ট দেখানো হবে ইত্যাদি।

 

কুকিজ কিভাবে কাজ করে

একজন ইউজারকে সনাক্ত করতে কুকি ব্যবহার করা হয় কুকি মুলত একটি ছোট ফাইল যেটা সার্ভার ইউজারের কম্পিউটারে লাগিয়ে দেয় প্রায়ই সময় যদি একটা কম্পিউটার কোন একটা পেজকে বারবার রিকোয়েস্ট করে সেক্ষেত্রে কুকি সেই পেজটিকে যে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সেই পেজটিকে সার্চ করা হয়েছে সেই তথ্যগুলো ব্রাউজারে আউটপুট করে দেয় যাতে করে সহজেই সেই কাজটা করা যায় যেমন অনেক সময় দেখা যায় ইউজার একটি কম্পিউটারে বসে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড লিখে তার ইমেইলে প্রবেশকরেছে পরে লগ আউট করে বের হয়ে গিয়েছে পরবর্তীতে যখন আবার সে কম্পিউটারে বসে লগ ইন করতে যাচ্ছে তখন ইউজার টেক্সট বক্সে ইউজার নেমটা লেখা শুরু করলেই ইউজার নেমটা পুরাটা লেখা চলে আসবে এই কাজটা কম্পিউটার করে থাকে কুকির মাধ্যমে

 

বিভিন্ন প্রকার কুকিজ

  • ফার্স্ট পার্টি কুকিজ 

ফার্স্ট পার্টি কুকিজ সরাসরি ওয়েবসাইট ব্রাউজিং এর সাথে জড়িত পরিদর্শনকৃত সাইট থেকে এই কুকিজ জেনারেট হয় এগুলো রিলিভেন্ট ইনফরমেশন সংরক্ষণ করে ইন্টারনেট surfing সহজ personalized করে

  • থার্ড পার্টি কুকিজ 

থার্ড পার্টি কুকিজ একটি ওয়েবসাইট ব্রাউজিং এর সময় অন্য কোন স্থান যেমন কোন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্রাউজকৃত ওয়েবসাইটে আসতে পারে এই cookies গুলো সাধারণত জেনারেট হয় advertising website দ্বারা ( যেমন google এর doubleclick dart cookie) এগুলো বিভিন্ন ওয়েবপেইজে ইউজারের এক্টিভিটি track করে তাদের নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখায় ৷এটি প্রাইভেসি লংঘন করে মনে হলেও অত্যন্ত সেনসিটিভ তথ্য track হয় না বলে এখনও গ্রহণযোগ্য

  •  ম্যান্ডেটরি কুকিজ

নিয়মিত ভিজিট করেন, এমন ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আবশ্যক এই কুকিজ বেশ কাজের জিনিস সাধারণত ব্যবহারকারীর নাম, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি সংগ্রহ করে রাখা এদের কাজ

  • সেশন কুকিজ

সাধারণত -কমার্স সাইটগুলোতে ব্যবহৃত এই কুকি অনলাইন ট্রানজেকশন পদ্ধতির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং নির্ধারিত সময় পরে বা ব্রাউজার বন্ধ করা হলে বন্ধ হয়ে যায় একটি session cookie ইউজার এর ব্রাউজার বন্ধ না করা পর্যন্ত স্থায়ী হয় session cookie ইউজার এর current information ধারণ করে যেমন – main user id. session cookie এর মেয়াদকাল খুবই স্বল্প হয় এবং ওয়েব ব্রাউজার সম্পূর্ণ বন্ধ করার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়

  • ম্যালেসিয়াস কুকিজ

malicious cookies ইউজার এর অনলাইন এক্টিভিটি ট্র্যাক করতে পারে ৷ইউজার দ্বারা ভিজিট করা বিভিন্ন ওয়েবপেইজ surfing habit এর উপর ভিত্তি করে ওয়েব প্রোফাইল তৈরী করে সংরক্ষণ করতে পারে৷ তবে ভালো এন্টিভাইরাস ফায়ারওয়াল প্রোগ্রাম  থাকার ফলে এগুলো কোনো ক্ষতি সাধনের আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত (flagged) হয়ে যায়৷

  • এইচটিটিপি কুকিজ

এইচটিটিপি কুকি হচ্ছে ছোট ছোট ডিজিটাল শনাক্তকারী কৌশল (ফাইল বা ডেটা) যা বিভিন্ন ওয়েবসাইট কর্তৃক ভিজিটরের কম্পিউটারে পাঠানো  হয় এরা ব্যবহারকারীর ব্রাউজ করার অভ্যাস, অনলাইনে ক্রয়কৃত পণ্য সম্পর্কিত তথ্য প্রভৃতি সংগ্রহ করে স্ব স্ব সার্ভারে প্রেরণ করে থাকে

  • পার্সিসটেন্ট কুকিজ

একটি persistent cookie হচ্ছে সেই cookie যেটি ব্রাউজার বন্ধ করার পরও সিস্টেমে থেকে যায়৷ persistent cookie ডিলিট করা যায় একমাত্র manually অথবা সেগুলোকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া expiration time পৌঁছালে৷ এই cookies গুলো একবার শেষ হয়ে গেলে ইউজার কে প্রয়োজনীয় authentication এর মাধ্যমে fresh cookies জেনারেট করতে হয়৷

 

কুকিজ এর প্রয়োজনীয়তা

  • কুকিজ ওয়েবসাইটের কর্মক্ষমতা, ভিজিটর বা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সাহায্য করে,
  • রেফারার ট্র্যাক উন্নত করতেও এই কুকিজ সাহায্য করে,
  • বিজ্ঞাপন প্রচারের উন্নত করতেও কুকিজগুলো সাহায্য করে
  • ভিজিটরের পরিচয় সনাক্ত করে এবং ভিজিটর কোন দেশে অবস্থান করছেন তা সনাক্ত করতে সাহায্য করে
  • ব্রাউজারের ধরন এবং ডিভাইস চেক করে
  • যেই সাইট থেকে ব্যবহারকারীকে রেফার করা হয়েছে সেই সাইট ট্র্যাকিং করা হয়
  • তৃতীয় পক্ষকে তাদের প্রয়োজন অনুসারে বিষয়বস্তু কাস্টমাইজ করার অনুমতি দেয়

 

সবচাইতে ভয়ঙ্কর হলো থার্ড পার্টি কুকিজ 

অনেক ওয়েবসাইটে অনেক ধরনের অ্যাড চলে থাকে। এদের মধ্যে কিছু পপআপ অ্যাড থাকে যেখানে ক্লিক করা মাত্র ৮-১০ টি ব্রাউজার উইন্ডো স্বয়ংক্রিয় ভাবে খুলে যায়। এখন ঐ স্বয়ংক্রিয় উইন্ডোতে খোলা ওয়েবসাইট গুলো যদি আপনার ব্রাউজারে কোন তৃতীয়পক্ষ কুকিজ প্লান্ট করে দেয় তবে আপনার সকল অনলাইন নিরাপত্তা ধ্বংস হতে পারে।

ব্রাউজারে কুকি গুলো ইনক্রিপটেড অবস্থায় থাকে না যদিও কুকিজে আইডি পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য বিবরণ সংরক্ষিত থাকেনা কিন্তু  লগইন সেশন সেভ করা থাকে কুকিতে তৃতীয়পক্ষ কুকিজ শুধু একটি সাইটের ডাটা নয় বরং আপনার ভিসিট করা সকল ইন্টারনেট ডাটা কোন তৃতীয়পক্ষ ওয়েবসাইটের কাছে পৌঁছে দেয় তাছাড়াও আপনার সকল অনলাইন লগইন সেশনও চুরি করে নিয়ে যায় আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটে আপনার আইডি এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশ করিয়ে লগইন করেন তখন সেই ওয়েবসাইট টিতে আপনার একটি লগইন সেশন তৈরি হয় এবং এই সেশন সেই ওয়েবসাইট টি আপনার ইন্টারনেট কুকিজ টিতে সেভ করে রাখে যদি কেউ আপনার সেই কুকিটি চুরি করে নিজের ব্রাউজারে বসিয়ে দেয় তবে সেই ওয়েবসাইট টিতে লগইন করার জন্য তার আর কোন আইডি বা পাসওয়ার্ড এর প্রয়োজন পড়বে না অনেক সময় দেখে থাকবেন যে একবার আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগইন করার পরে যদি লগআউট না করা হয় তবে পরের বার প্রবেশ করলে লগইন করার জন্য আর আইডি এবং পাসওয়ার্ড এর প্রয়োজন পড়ে না আপনি সেখানে স্বয়ংক্রিয় ভাবে লগইন হয়ে যান কারন ফেসবুক আপনার লগইন সেশন আপনার ব্রাউজারে অবস্থিত ইন্টারনেট কুকিজে সেভ করে রাখে

তাছাড়াও কোন লগইন সেশনে আপনি যদি আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস, ক্রেডিট কার্ড নাম্বার, আপনার ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য গুলো প্রবেশ করিয়ে থাকেন তবে সেগুলো তথ্যও তৃতীয়পক্ষ কুকিজ বড়ই আরামে চুরি করে নিয়ে যেতে পারে

থার্ড পার্টি কুকিজ বিভিন্ন সাইটে ইনপুটকৃত তথ্য সংগ্রহ করে বলে এটি ডিজ্যাবল করা রাখাই ভালো  কখনোইঅ্যালাউকরা উচিত নয় থার্ড পার্টি কুকিজ

 

থার্ড পার্টি কুকিজ থেকে রক্ষা পেতেঃ

  • ব্লক অল কুকিজ

আপনার ওয়েব ব্রাউজারের সেটিংস অপশনে যান এবং সেখানে একটি অপশন আছে ব্লক অল কুকিজসেটি এনাবল করে নিন। এর মানে হলো আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজার সকল প্রকারের ওয়েবসাইটকে কুকিজ প্লান্ট করা থেকে বাধা প্রদান করবে, সেটা বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট হোক আর তৃতীয়পক্ষ কোন ইন্টারনেট কুকিজ হোক।

  • ব্লক থার্ড পার্টি কুকিজ

এর মানে হলো যে কুকিজ গুলো কোন সাধারন ওয়েবসাইট থেকে আসে আপনার সেবার মান উন্নয়ন করানোর জন্য সেগুলো তো ঠিক আছে, কিন্তু যে কুকিজ গুলো তৃতীয়পক্ষ কোন ওয়েবসাইট থেকে আসে বিজ্ঞানপনের মাধ্যমে বা কোন পপআপ অ্যাড ব্লক থার্ড পার্টি কুকিজ এর মাধ্যমে সেগুলোকে ব্লক করে দেয়।

  • কুকিজ এনাবল

আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজারে আরেকটি অপশন আছে যেটি চালু করলে আপনার ব্রাউজারে কোন কুকি প্লান্ট হওয়ার আগে আপনার কাছ থেকে বারবার অনুমতি চাওয়া হবে। মনে করুন আপনি যে কোন একটি ব্রাউজারের মাধ্যমে যেকোনো একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেন, সে অবস্থায় আপনার ব্রাউজার আপনাকে জিজ্ঞাস করবে যে ঐ ওয়েবসাইট টির জন্য কি আপনি কুকিজ এনাবল করতে চাচ্ছেন কিনা। যদি ইচ্ছা হয় তো এনাবল করতে পারেন আর যদি ইচ্ছা না করে তবে ইগনর করতে পারেন।

  • অ্যাড ব্লক এক্সটেনশন

পরিশেষে আরেকটি অপশন হলো অ্যাড ব্লক এক্সটেনশন ব্যবহার করা। এই প্রকারের এক্সটেনশন প্রায় সকল প্রকার ব্রাউজারের জন্য প্রাপ্য। এই এক্সটেনশনটি ব্যাবহারে আপনি বিরক্তিকর পপআপ অ্যাড এবং তৃতীয়পক্ষ কুকিজ থেকে বাঁচতে পারেন। এবং আপনার ব্রাউজারে ওয়েব পেজ অনেক ফাস্ট লোড হবে।

  • বিভিন্ন ব্রাউজারে থার্ড পার্টি কুকিজ ডিসেবল করতেঃ

ফায়ারফক্সে থার্ড পার্টি কুকিজ বন্ধ করার উপায়  //  গুগল ক্রোম এ থার্ড পার্টি কুকিজ বন্ধ করার উপায়  //  ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে থার্ড পার্টি কুকিজ বন্ধ করার উপায়

  • এবাউট এ্যাডস

এবাউট এ্যাডস লিন্কে গিয়ে আপনি আপনার ব্রাউজারে উল্লেখ করে দিতে পারেন যে এসব থার্ড পার্টি কুকি আপনার কাছে অনাকাংখিত এবং এগুলো যাতে ভবিষ্যতে আর সেভ না নয়, তা সিলেক্ট করে দিন এছাড়াও প্রতিটি ব্রাউজার সেটিংস থার্ড পার্টি কুকি নিয়ে সেটিংস আছে যা সাধারনত প্রাইভেসী সেকশন পাবেন আপনার কম্পিউটারে যদি ওপেরা, ক্রোম বা ফায়ারফক্স থাকে, মনে রাখবেন প্রতিটি ব্রাউজার দিয়ে অন্তত একবার হলেও এই লিঙ্কে যেতে হবে

  • ডুনট কল

মোবাইল কোম্পানি থেকে অন্যরা আপনার নাম, ঠিকানা, নাম্বার নিয়ে আপনাকে অনবরত কল দিতেই থাকে এসব প্রতিহত করার জন্য আপনি এ্ই সাইটে গিয়ে আপনার ফোন নাম্বার রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন এখানে রেজিস্ট্রেশন করার পরে টেলিমার্কেটাররা আর আপনাকে আইনানুযায়ী কোন কল দিতে পারবেনা যদি দেয়, আপনি এদের বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারবেন একি সাইটে

  • অপট্আউট

আরেকটি মাধ্যমে মার্কেটিং কোম্পানীরা আপনার তথ্য নিয়ে থাকে যেটা হলো আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যুরো থেকে কয়েকটি ক্রেডিট ব্যুরো রয়েছে যেগুলো আপনার ক্রেডিট সম্পর্কিত তথ্য অন্যন্যদের কাছে বিক্রি করে আপনার তথ্য নিরাপদ রাখতে এই সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন

 

ব্রাউজারে কুকিজ এর স্টোরেজ লোকেশন :

একটি cookie হল একটি টেক্সট স্ট্রিং যা কোনো ওয়েব সার্ভার ইউজার এর লোকাল স্টোরেজে (হার্ডডিস্ক ) সংরক্ষণ করে যোগাযোগ সহজতর করার জন্য cookie এর অন্তর্গত সব তথ্যই name-value pair আকারে সংরক্ষিত থাকে   ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম এবং ভিন্ন ব্রাউজারে কুকিজ গুলো বিভিন্ন ডাইরেক্টরিতে সেভ করা থাকে

  • Internet Explorer এর cookie স্টোরেজ লোকেশন :

Internet Explorer এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা windows explorer দিয়ে খুব সহজেই তাদের cookie গুলো দেখতে পারে cookie গুলোর location সাধারণত এইরকম :
C:\Documents and Settings\User name\Local Settings
অথবা C drive এর system32 folder এর অনুরূপ কোন directory তে থাকে  
অন্যান্য ব্রাউজার গুলোর cookie সেগুলোর installation directory তে থাকে

  • Chrome এর cookie স্টোরেজ লোকেশন :

C:\Documents and Settings\<user name>\Local Settings\Application Data\Google\Chrome\User Data\Default\Cookies

  • Firefox এর cookie স্টোরেজ লোকেশন :

Firefox এর cookie একটি text file সংরক্ষিত হয় যেটি সকল cookie ধারণ করে ৷এটি এই location স্টোর হয় :
C:\Documents and Settings\Windows login\User name\Application Data\Mozilla\Firefox\Profiles\profile folder
একটি cookie তুলনামূলক কম ডাটা থেকে অনেক বড় আকারের ডাটা স্টোর করতে পারে সবচেয়ে simple cookie শুধু একটি user id স্টোর করে আবার অপেক্ষাকৃত complex cookies 
~ user id
~ session id 
~ time for session initiation
~ এবং প্রচুর পরিমাণে অন্যান্য value যেগুলোর মধ্যে ইউজার এর login data এবং অন্যান্য অনুরূপ তথ্য স্টোর করে

 

Cookie stealing কি ?

Cookies ব্যবহৃত হয় session data স্টোর করার জন্য এবং login data ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোতেও প্রবেশ করা যায় ইউজার এর system স্টোর করা cookies এর মাধ্যমে

cookie stealing হচ্ছে মূলত কম্পিউটার সেশন (the session key) কে ব্যবহার করে ইউজারের সিস্টেমের ওয়েবসার্ভিস অথবা সংরক্ষিত তথ্যে প্রবেশাধিকার পাওয়া

 

 Methods of Cookie Stealing :

cookie stealing অনেক পদ্ধতিতে করা যায় সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো :

[+] Cross Site Scripting (CSS/XSS) :

এর মাধ্যমে ভেরিফাইড সোর্স থেকে আসা হয়েছে দেখিয়ে ইউজার কম্পিউটার কে ধোঁকা দিয়ে এতে কোড রান করানো হয় এটি হ্যাকারকে ইউজার সিস্টেমে থাকা cookie গুলোর একটি copy চুরি করার অনুমতি দেয়

[+] Session Key Stealing :

কোনো সিস্টেমে সরাসরি প্রবেশাধিকার আছে এমন attacker ইউজার কম্পিউটার অথবা নির্দিষ্ট সার্ভারের file system প্রবেশ করে session key চুরি করতে পারে  
যেমন আপনার পরিচিতজন, বন্ধুবান্ধব, সাইবার ক্যাফের কম্পিউটার, অথবা আপনার ল্যাপটপ, মোবাইল চোর !

[+] Using Packet Sniffing (session side jacking) :

দুইটি ভিন্ন ইনফরমেশন সিস্টেমের মধ্যবর্তী ট্রাফিক read করে session cookie চুরি করার জন্য packet sniffing পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়

[+] Session Fixing :

হ্যাকারের নির্দিষ্ট session id যুক্ত malicious link ক্লিক করানোর মাধ্যমে ইউজার এর সেশন আইডি manipulate করা হয় যখন ইউজার লগইন করে তখনই হ্যাকার সেনসিটিভ ইনফরমেশন হাতিয়ে নিতে পারে

 

ইন্টারনেটের সর্বত্রই cookie ছড়িয়ে আছে cookie অনেক interesting একটা জিনিস. কিন্তু ঠিকমত take care না করলে এগুলো আপনার private information চুরি করতে পারে

 

তথ্যঃ ওয়েব, সংকলকঃ জিয়া, আপলোড তারিখঃ ২০/০৫/২০১৭

md. ziaul haque

র‌্যানসমওয়্যার হামলাঃ

১২ মে, শুক্রবার  সন্ধ্যায় ৭ টি দেশে হ্যাকারদের তৈরী করা ভাইরাস র‌্যানসমওয়্যার প্রথম হামলা শুরু করে। বিশ্বের ১০০টির মতো দেশে রেনসমওয়্যারে আক্রান্ত হয় স্বাস্থ্য ও টেলিকমসহ বিভিন্ন খাতের বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক। ‌উল্লেখ্য যে, ঐদিনই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) কম্পিউটারগুলোতে এই রেনসমওয়্যার ব্যবহার করে সাইবার হামলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়। দিনের শেষে তা এশিয়া ও ইউরোপের অন্তত ৭৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেড় লাখেরও বেশি কম্পিউটার আক্রান্ত হয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের দেড়শটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই রেনসমওয়্যার হামলা। আর এই হামলার শিকার হয়েছে প্রায় দুই লাখ কম্পিউটার। নিরাপত্তা সফটওয়্যার নির্মাতা অ্যাভাস্ট জানিয়েছে, ৯৯টি দেশে অন্তত ৫৭ হাজার কম্পিউটারে সাইবার হামলা চালানো হয়। যার মধ্যে বেশিরভাগ হামলাই চালানো হয় রাশিয়া, ইউক্রেন ও তাইওয়ানে।

 

বাংলাদেশে এর প্রভাবঃ

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ক্রাইম রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে, ম্যালওয়্যার রেনসমওয়্যারে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৩০টিরও বেশী কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে।পাশাপাশি বেশ কিছু পার্সোনাল পিসিতে এ্যাটাক হয়েছে।

 

কেন এই হামলাঃ

ধারণা করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পাওয়া একটি ভাইরাসকে কাজে লাগিয়ে এটি বানানো হয়েছে। কোনোভাবে এই ভাইরাসটির তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। এরপরই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, এই তথ্য ফাঁসের ফলে কিছুদিনের মধ্যেই ‘স্বয়ংক্রিয়’ ‌‌ ‌‌'র‍্যানসমওয়্যার ভাইরাস আবিষ্কৃত হবে। এরপর মাস দুয়েক পার হতে না হতেই বিশ্বব্যাপী সাইবার আক্রমণের এ ঘটনা ঘটল। ওয়ানাক্রাই কে বানিয়েছে এখনও কেউ জানে না।
 

র‌্যানসমওয়্যার কিঃ

রেনসমওয়্যার একটি ম্যালওয়ার বা ম্যালিসিয়াস সফটওয়ার। এটি একটি ক্ষতিকারক সফটওয়ার, যা একটি কম্পিউটারে সংরক্ষিত ডাটা বা তথ্যকে ‘এনক্রিপ্ট’ করে ফেলে বা বলা যেতে পারে ‘তালা মেরে আটকে দেয়’ এটা অনেকটা এই রকম-যেন একজনের বাড়িতে ঢুকে আরেকজন লোক সব তালা-চাবি ভেঙে ফেলে নতুন তালা-চাবি লাগিয়ে দিল। তখন কম্পিউটারের আসল ব্যবহারকারী নিজে তার কম্পিউটারের কোথাও ঢুকতে পারবেন না। কম্পিউটার ঢুকতে চাইলে এক ধরনের ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে অর্থ দাবি করা হয়। এ জন্যই একে বলে ‘র‌্যানসমওয়্যার। এটি ওয়ানক্রাই নামেও পরিচিত।

অন্য অর্থে, র‍্যানসমওয়্যার’ হলো এমন এক ধরণের ম্যালওয়ার বা ভাইরাস, যা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ব্যবহারকারীকে প্রবেশে বাধা দেয়। অনেক সময় হার্ডডিস্কের অংশ বা ফাইল পাসওয়ার্ড দিয়ে এনক্রিপ্ট করে দেয়। পরে ওই কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফেরত দেওয়ার জন্য মুক্তিপণ বা অর্থ দাবি করা হয়। ‘ট্রোজান’ ভাইরাসের মতোই এটি এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

র‌্যানসমওয়্যার এর জনপ্রিয়তার কারনঃ

সাইবার-ক্রিমিনাল এবং তথ্য-চোরদের মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয়, কারন রেনসমওয়্যার দিয়ে কম্পিউটারের ডাটা আটকে টাকা আদায় করা যায়এটা বিটকয়েন দিয়ে টাকা লেনদেন করে, কারণ এর ফলে কে কাকে টাকা দিচ্ছে, কীভাবে দিচ্ছে, তা বের করা খুব কঠিন।

 

রেনসমওয়্যার কম্পিউটারের কি কি ক্ষতি করেঃ

  • র‍্যানসমওয়্যার ভাইরাসের আক্রমণে কম্পিউটার লক (অচল) হয়ে যায় এবং মনিটরে একটি বার্তা ভেসে উঠে। এতে কম্পিউটার চালানোর জন্য ৩০০ থেকে ৬০০ ডলার চাঁদা দাবি করা হয়। অনলাইন মুদ্রা ব্যবস্থা বিটকয়েনে এই মুক্তিপণ পরিশোধ করার কথা বলা হয়।
  • এটা নিজে নিজেই একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে চলাচল করতে পারে। ওয়ানাক্রাই একটা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢুকলে তা নিজে নিজেই অরক্ষিত কম্পিউটার খুঁজে বের করে এবং সেটাকেও সংক্রামিত করে।
  • একবার এ ভাইরাস কোনও নেটওয়ার্কে কার্যকর হতে পারলে তা দ্রুত পুরো অবকাঠামোটিতে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে আর কেউ আটকাতে পারে না
  • উইন্ডোজ পিসিগুলোতে এই ভাইরাস আক্রমনের হার অনেক বেশী। দ্রুত মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে র‌্যানসমওয়্যা্রঃ

ভাইরাসটি ভূয়া নিউজ লিংক, পর্ণ সাইট, স্প্যাম লিংক এবং ভূয়া ইমেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এছাড়া জনপ্রিয় অ্যাপের ছদ্মবরণেও ডিভাইসে ঢুকে পড়ছে এটি। শুধু তাই নয়, অন্যান্য ভাইরাসের মতো ফিশিং বা স্প্যাম ই-মেইলসহ ভুয়া সফটওয়্যার আপডেটের প্রলোভনেও ছড়াচ্ছে ক্ষতিকর এ ভাইরাস। রেনসমওয়্যার কম্পিউটারের প্রবেশ করার পর হার্ডড্রাইভে অবস্থিত সব ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলে। ফলে কম্পিউটার চালু করতে নিলে কম্পিউটারটি অটো রিস্টার্ট হবে। এনক্রিপশন কী ছাড়া (মুক্তিপন না দিয়ে) ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ঢোকা যাবে না। মুক্তিপন মানে এনক্রিপশন কী নিতে অর্থ দিতে হবে। আবার এর জন্য নির্ধারিত সময় বেধে দিয়েছে হ্যাকাররা। সময় সীমা শেষ হলে অর্থের পরিমাণ দিগুন হয়ে যাবে। বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেই কম্পিউটারের সকল ডাটা উদ্ধার করা যাবে।তাতেও সন্দেহ রয়েছে। কম্পিউটারে প্রবেশ করতে তিনশ-চারশ বিট কয়েন পরিশোধ করতে হবে যার আনুমানিক মূল্য চার-পাঁচশো ডলার।

 

হামলা পরবর্তী অবস্থাঃ

এটা ভয়াবহ সাইবার হামলা এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো খুব একটা আক্রান্ত হয়নি আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল ইউরোপ। সবচেয়ে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সেবায়। প্রায় প্রতিটা হাসপাতালের কম্পিউটার, প্রিন্টার হামলার শিকার হয় সাইবার হামলার পর দেশটির হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে রাখতে হয় আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন প্রতিষ্ঠান ফেডএক্স কর্পোরেশনও মারাত্মকভাবে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে

 

সন্দেহভাজনঃ

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রিচ বারজার বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী এতো বড় মাপের র‍্যানসমওয়্যার হামলা এর আগে দেখা যায়নি।’ তিনি ‘ওয়ানাক্রাই’কে এনএসএর টুলস বলে উল্লেখ করেছেনগত মাসে ‘শ্যাডো ব্রোকারস’ নামে একদল হ্যাকার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএর কিছু কোড প্রকাশ করেছিল গত মার্চে এটি ঠেকাতে একটি নিরাপত্তা প্যাচ ছাড়ে মাইক্রোসফট, কিন্তু অনেক কম্পিউটার তাতে আপডেট করা হয়নিএক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তাদের ইঞ্জিনিয়াররা রেনসমউইন৩২.ওয়ানাক্রিপ্ট নামের একটি ভাইরাস শনাক্ত করে ও তা থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে সংযুক্তি এনেছে

২০১৬ সালে আত্মপ্রকাশ করে হ্যাকিং গ্রুপ ‘শ্যাডো ব্রোকারস’জেমস বামফোর্ড, ম্যাট সুইশের মতো সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তারা একটি ‘হুইসেল ব্লোয়ার গ্রুপ’, এনএসএ-র ভেতরেও তাদের সহযোগী রয়েছে, যাদের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করেছেফাঁস হওয়া কয়েকটি নথিতে এনএসএ-র সীল দেখা গেছে তবে ওই নথিগুলো সঠিক কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়নি এনএসএ বিভিন্ন হ্যাকিং টুলস ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী সাইবার নজরদারি চালিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে গোপন নজরদারির বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করে সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন সাবেক এনএসএ গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেন।

 

র‌্যানসমওয়্যারে হাত থেকে বাঁচার উপায় ঃ

  • কম্পিউটারের সকল প্রয়োজনীয় ডাটার ব্যাকআপ রাখুন।
  • স্প্যাম বা সন্দেহজনক মেইল থেকে কখনোই ডাউনলোড বা ক্লিক করবেন না।
  • কোন ফাইল ডাউনলোড করার আগে অনলাইনে ওপেন করে দেখে নিবেন। এমন অনেক সাইট আছে যারা এই সুবিধা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে একটি (https://www.virustotal.com)
  • অপরিচিত অ্যাপস, সফটওয়্যার ডাউনলোড এবং ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকুন। বিভিন্ন চেনা জানা সফটওয়্যার এদের অফিশিয়াল সাইট থেকেই ডাউনলোড করুন।
  • ভাল অ্যান্টিভাইরাসের সহায়তা নিন।
  • প্যাচ এবং কী-জেন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

 

 

 

তথ্যঃ ওয়েব, সংকলকঃ জিয়া, আপলোড: ১৮/০৫/২০১৭ ইং।

md. ziaul haque

মূল কোম্পানীঃ

উবার টেকনোলজী ইনকর্পোরেটেড একটি ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক কোম্পানী। এটির হেড কোয়ার্টার হেডকোয়ার্টার সানফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া, ইউএসএ তে অবস্থিত। ২০০৯ সাল থেকে উবার তার ট্যাক্সি সেবা কার্যক্রম শুরু করে। এটির উদ্দোক্তা দুই জনঃ গেরেট ক্যাম্প এবং ত্রাভিস কালানিক

উবার কিঃ

উবার একটি অন ডিমান্ড ট্যাক্সি সেবা। এটি মোবাইল স্মার্র্টফোনের অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি সেবার নেটওয়ার্ক। উবারের লক্ষ্য হচ্ছে যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজ করে তোলা- সবার জন্য, সবখানে। উবারের কোন নিজস্ব ট্যাক্সি নেই। উবার শব্দটি ইংরেজীতে টপমোস্ট বা সুপার অনুকরনে নেয়ো হয়েছে। মূলত ্‌এটি একটি জার্মান শব্দ- über

কিভাবে ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারবেনঃ

উবারের ফ্রি অ্যাপের মাধ্যমে একজন যাত্রী নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি ট্যাক্সি ডেকে আনতে পারেন বা ভাড়া করতে পারেন অথবা একজন চালক ও যাত্রী উবারের ফ্রি অ্যাপের সাহায্যে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে নিতে পারেন।

কিভাবে উবারের সাথে যুক্ত হতে পারেনঃ

উবারের কিছু নির্ণায়ক যোগ্যতা পূরণ করে এমন ব্যক্তিগত গাড়ি আছে এমন যে কোন ব্যক্তিই উবার টিমের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

কার্যক্রমের বিস্তৃতিঃ

বিশ্বের ৭৪টি দেশের সাড়ে চারশ শহরে উবারের ট্যাক্সি সেবা কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৩৩তম শহর হিসেবে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করল প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে উবারের যাত্রাঃ

২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশের ঢাকায় বিশ্বখ্যাত অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি সেবা নেটওয়ার্ক উবারের কার্যক্রম শুরু হয়।

টেলিকম পার্টনারঃ ঢাকায় উবার এর টেলিকম পার্টনার গ্রামীণফোন

মোবাইল এ্যাপঃ

অ্যান্ড্রোয়েড এবং আইওএস থেকে উবারের ফ্রিঅ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

ঢাকায় উবার কার্যালয়ে যোগাযোগঃ

  • কর্পোরেট অফিসঃ স্যুট: এ (তৃতীয় তলা), মোতালেব টাওয়ার, ৮/২, পরীবাগ, ঢাকা-১০০০।
  • উত্তরা অফিসঃ বাড়ীঃ ৩৬, সেক্টরঃ ১২, সোনারগাও জনপথ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০।
  • বনানী অফিসঃ ২২ কামাল আতাতুর্ক এভিন্যু, ঢাকা ১২১৩।
  • আপনারা যারা উবার পার্টনার ড্রাইভার সাপোর্ট ফোরাম ব্যবহার না করে সরাসরি উবার অফিসে ফোন করতে চান তাদের জন্য উবার অফিসের সরাসরি ফোন নং +880 1735-714050। 
  • ওয়েব সাইট 

প্রফেশনাল উবার পার্টনার সাপোর্ট ফোরামঃ

রেফারেল কোড ব্যবহারের জন্য গাড়ীর মালিকের নাম, ফোন নাম্বার, গাড়ীর নাম্বার প্লেট, মডেল, সন, রং লিখে পাঠিয়ে দিন। উবার ঢাকা পার্টনার ও ড্রাইভার ফোরাম: 01757539696এই কোডটিকে পার্টনার রেফারেল কোডও বলা হয়ে থাকে। এই কোড ব্যবহারের মাধ্যমে জানতে পারবেন কিভাবে সপ্তাহে আপনার গাড়ী দিয়ে ২০০০০ টাকা উপার্জন করবেন। কখন চালালে উবারে বেশি আয় করা যায় কিভাবে ড্রাইভার কন্ট্রোল করবেন বা তাদেরকে কত টাকা দিবেন আমাদের কাছ থেকে আমাদের উবারের অফিসিয়াল প্রমো কোড ব্যবহারের 01757539696 এর বিনিময়ে জেনে নেওয়া যাবে।

রাইডার প্রোমো কোডঃ x8dsh

উবার ভাড়াঃ

  • সিএনজি প্রতি কিলো ভাড়া ১২ টাকা, ওয়েটিং প্রতি মিনিট টাকা
  • হলুদ ট্যাক্সি প্রতি কিলো ভাড়া ৩৪ - ৪০ টাকা, ওয়েটিং প্রতি মিনিট .২৫ পয়সা
  • উবার প্রতি কিলো ভাড়া ২১ টাকা, ওয়েটিং প্রতি মিনিট টাকা

কিভাবে ট্যাক্সি ভাড়া করবেনঃ

স্মার্ট শহর ঢাকা ডিজিটাল বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এখানে উবার এর যাত্রা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে পাশাপাশি মাত্র একটি বাটন চেপেই উবার আমাদের দৈনন্দিন পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তুলবে

উবার দিয়ে বেশ সহজে ট্যাক্সি ভাড়া করা যায় এর জন্য অ্যাপল স্টোর বা গুগল প্লে থেকে ফ্রি উবার অ্যাপ ডাউনলোড করে অ্যাপটিতে প্রথমে নাম, ই-মেইল, মুঠোফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। তারপর একটা সাংকেতিক নম্বর মুঠোফোনের এসএমএসে আসবে। এই সাংকেতিক নম্বর দিয়ে তারপর অ্যাপে লগইন করতে হবে। তারপর অ্যাপের মূল পাতায় মানচিত্রে দেখতে হবে আশেপাশে কোথাও উবারের ট্যাক্সি আছে কি না। আপনার অবস্থান অর্থাৎ কোথায় থেকে ট্যাক্সিতে উঠতে চান তা ঠিক করে দিন। গন্তব্য উল্লেখ করে দিতে হবে। একই পাতায় লেনদেনের ধরন ও প্রমোশনাল কোড যোগ করা যাবে। সম্ভাব্য ভাড়া দেখে নেওয়ার সুযোগও আছে। সব ঠিকঠাক থাকলে রিকোয়েস্ট উবারএক্সবোতাম চাপুন। ট্যাক্সি চালকের ছবি, পরিচয় ও গাড়ির ধরন দেখাবে।বাতিল না করলে নির্দিষ্ট সময় পরে ট্যাক্সি এসে হাজির হবে। মানচিত্রে ট্যাক্সির অবস্থান দেখাবে, প্রয়োজনে মুঠোফোনে যোগাযোগের সুযোগও আছে।যোগাযোগ নম্বরঃ 01757539696 

মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করুন উবার গাড়ী চালিয়ে।কিভাবেঃ

প্রথমে উবার অফিসে গিয়ে আমাদের উবার প্রমোশনাল কোড 01757539696 ব্যবহার করে আপনার প্রাইভেট কার উবারে ফ্রী নিবন্ধন করুন। নিবন্ধনের পর আপনার ড্রাইভারকে আপনার একাউন্টে নিবন্ধন করুন। প্রতি সপ্তাহে আপনার আয় আপনার ব্যাংক একাউন্টে চলে আসবে এবং ড্রাইভার প্রতিদিনই যাত্রীদের কাছ থেকে ক্যাশ কালেকশন করবে। যাত্রী মোবাইল থেকে লাইভ মনিটর করতে পারবেন ড্রাইভারের অবস্থান ও ইনকাম।

গাড়ী রেজিষ্ট্রেশনঃ

প্রতিদিন ঢাকায় গড়ে আনুমানিক ১০০-১২০ টি গাড়ী উবারে রেজিষ্ট্রেশন হচ্ছে। এখন প্রায় ৫ হাজারেরও বেশী প্রাইভেট কার উবারে রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে গাড়ী রেজিষ্ট্রেশনের জন্য উবারের বনানী বা উত্তরার অফিসে গাড়ীর সব কাগজপত্র, এন আই ডি (অরিজিনাল ও ফটোকপি), ২ কপি ছবি, আপনার নামে যে ব্যাংক একাউন্ট আছে সেই চেকবুক ও এই উবারের অফিসিয়াল প্রমো কোড 01757539696 দিবেন শুধুমাত্র প্রথমবারই এই কোড ব্যবহারের সুযোগ আছে। ড্রাইভারদের নিবন্ধনও ফ্রী। আপনার গাড়ী ও ড্রাইভারকে যদি উবার পার্টনার ড্রাইভার সাপোর্ট ফোরামের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে নিবন্ধন করতে চান তাহলে আপনার নাম, ফোন নং, গাড়ীর নাম্বার প্লেট নাম্বার, মডেল, সন, রং ইনবক্সে পাঠিয়ে দিয়ে সরাসরি কল করুন +8801757539696WhatsApp এ এই নাম্বার এ্যাড করে +18186175300 কল দিতে পারেন।

উবারে আপনার গাড়ী রেজিষ্ট্রেশন করালেই তা চালাতে হবেনা। আপনার সময় অনুযায়ী দিনে বা মাসে ১ ঘন্টা বা যে কোন আওয়ার বা না চালালেও কোন ফী দিতে হবেনা।

গাড়ীর ইন্স্যুরেন্সঃ

উবার রেজিষ্ট্রেশন শেষে আপনার গাড়ীর জন্য ফ্রী ইন্সুরেন্স করে দেবে ১ বছরের জন্য।

উবার ড্রাইভারঃ

উবার ড্রাইভাররা তাদের কাজে স্বাধীন যত কিলোমিটার তত টাকা উবার কোম্পানী ড্রাইভারদের তাদের ফোন দিয়ে সিসি ক্যামেরার মত মনিটর করে গাড়ীর ব্রেক থেকে শুরু করে ধাক্কা পর্যন্ত তারা ফোন দিয়ে মনিটর করে ভালো সেফ ড্রাইভারের জন্য উবার বোনাসেরও ব্যবস্থা আছে

উবার ড্রাইভারগন যেভাবে স্মার্ট ফোনে উবার এ্যাপস চালাবেন

উবার ড্রাইভারের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

কাস্টমার সার্ভিস অবশ্যই ভালো হতে হবে
 গাড়ী সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
 যাত্রী নেমে যাবার পর পিছনের সীটে কিছু ফেলে গেলো বা নোংরা করে গেলো কিনা তার জন্য প্রতি কলের পরেই দৃষ্টি দিতে হবে কিছু ফেলে গেলে মালিক কে সাথে সাথে জানাতে হবে

কাষ্টমার কমপ্লেইন করলে উবার সরাসরি ড্রাইভারকে কল দিবে
 যাত্রী উঠার পর তার দেয়া নির্দেশনা ফলো করতে হবেযাত্রা শুরু করার আগে তার গন্তব্যস্থল জিজ্ঞাসা করতে হবেযাত্রীর কোন পছন্দের রুট বা রাস্তা আছে কিনা জিজ্ঞাসা করে তা অনুসরণ করতে হবে
 অ্যাপস বা ফোন মিটারে ইন্টারনেট কানেকশন ঠিক মত না আসলে বা ফোন সচল না থাকলে ফোন রিষ্টার্ট বা পুনরায় আরম্ভ করে আবার ড্রাইভার অ্যাপে লগইন করতে হবেযাত্রীকে এই ব্যাপারে অবহিত করতে হবে মিটারে অনেক সময় অনেক কম টাকা আসতে পারে, এটা উবার কোম্পানী যাত্রীদের প্রমোশনাল হিসাবে দেয় তাই মিটারে যা আছে তাই নিতে হবেযাত্রী ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করলে ব্যালান্স শূন্য আসবে এবং ক্যাশ কালেক্ট অপশন আসবে না
কল শেষ করার পর আপনার মোবাইলে যে ভাড়া দেখাবে - সেই ভাড়াই কালেক্ট করবেনযাত্রীরা তাদের মোবাইলে দেখতে পারে যে কত টাকা ভাড়া হয়েছে ভাড়া বাড়িয়ে বলবেন না বা নিবেন না যাত্রীর কাছে রাইডের পর ইমেইল চলে আসে ডিটেলইস যাত্রী কমপ্লেইন করলে আপনার উবার ড্রাইভিং সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে 
 কোন টিপস বা বখশিশ চাওয়া যাবেনাযাত্রী টিপস দিতে বাধ্য ননড্রাইভারের সবচেয়ে বড় বখশিশ হচ্ছে যাত্রীর দেয়া ফাইভ ষ্টার রেটিং
 উবার সার্ভিসের মূল স্তম্ভ হলো রেটিং বা পাঁচ তারা গুনমানযাত্রী অসন্তুষ্ট হলে আপনাকে খারাপ রেটিং দিয়ে দিবে, এটাই স্বাভাবিকএমন করে আরও কয়েকজন খারাপ রেটিং দিলে ষ্টার পেলে আপনি আর উবার চালাতে পারবেন নাযাত্রীর অপছন্দগুলো আপনি টেরই পাবেন না
 যাত্রী যেমন আপনাকে রেটিং বা ষ্টার দেয়, কল শেষ করার পর আপনারও সুযোগ আসবে যাত্রীকে রেটিং দেবার
 উবারের কল ছাড়া কোন যাত্রী উঠানো সম্পূর্ন নিষিদ্ধউবার ফোন দিয়ে সব মনিটর করেগাড়ীর মালিক ড্রাইভারের গতিবিধি রিয়েল টাইমে মনিটরিং করতে পারে মালিককে না বলে কোন কল পিক আপ করলে মালিক ম্যাপ দেখে বুঝতে পারবে আপনার অবস্থানের কথা কিছু পয়সা অতিরিক্ত আয়ের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিবেন না, এতে আপনার প্রতি মালিকের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে এবং চাকুরীও হারাবেন 
 কল ক্যানসেল করার আগে ভাবুন কেন কল নিচ্ছেন না সব কলই আপনার সুবিধামতো পাবেন নাদূরে থাকলে যাত্রীকে বলুন আপনারা আসতে অনেক সময় লাগবে তাই কলটা ক্যানসেল করে দিলে কাছাকাছি কোন ড্রাইভার দ্রুত আপনাকে পিকআপ করতে পারবেন বেশী ক্যানসেল করলে আপনার রেটিং খারাপ হবে

ভালো রেটিং পেতে হলে একজন উবার ড্রাইভারের যে বিষয়গুলো জানতে হবেঃ
 গাড়িতে যাত্রী ওঠা মাত্র হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান,এবং যাত্রাপথে কোন কিছুর প্রয়োজন হলে সেটা আপনাকে জানাতে বলুন
যাত্রী যে ধরনেরই হউক না কেন, সবাইকে স্যার বা ম্যাডাম বলবেন
 যাত্রীর সাথে নিজ থেকে আলাপ তৈরির চেষ্টা করবেন না,এবং যাত্রীকে অপ্রাসঙ্গিক কোন প্রশ্ন করতে যাবেন না যাত্রী কোন বিষয়ে জানতে চাইলে শুধুমাত্র সেটিই তাকে জানান,এবং বাড়তি কথা এড়িয়ে যান
ধর্ম আর রাজনীতি বিষয়ে কোন ধরনের আলাপে যাবেন না যাত্রীর পক্ষ থেকে এসব প্রসঙ্গ আসলে তা বুদ্ধি করে এড়িয়ে যাবেন
 সার্ভিস চলাকালীন সময়ে মোবাইল ফোনে কথা বলবেন না, এটা যাত্রীর জন্য বিরক্তিকর হতে পারে জরুরি কল এলে ফোন ধরার আগে বিষয়টি জানিয়ে যাত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিন
 গাড়িতে যাত্রী থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলা নিষিদ্ধ উবার অফিস বা গাড়ীর মালিকের কাছ থেকে কল আসলে নিম্নস্বরে যাত্রীকে বলতে হবে,স্যার অফিস থেকে কল এসেছে একটু ফোনটা রিসিভ করতে হবে তারপর খুব দ্রুত কথা শেষ করতে হবে
 যাত্রাকালীন সময়ে যাত্রীর সাথে কথা বলা ব্যাতিত অন্য যে কোন সময় আপনার সামনের আয়না দিয়ে যাত্রীর দিকে বার বার তাকানো থেকে বিরত থাকুন,বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের ক্ষেত্রে

প্রতিটি যাত্রীর ক্ষেত্রে দুর্গন্ধ একটি অপছন্দনীয় বিষয়, বিশেষ করে সিগারেটের ধোঁয়া থেকে তৈরি গন্ধঅন্য যাত্রী,বিশেষ করে শিশুদের জন্য অস্বাস্থ্যকর সেই বিষয়টি বুঝিয়ে যাত্রীকে গাড়ির ভিতর ধূমপানে বাধা দিন

নিজের শরীরের গন্ধের প্রতি নজর দিনবগলতলা থেকে ঘামে প্রচন্ড দুর্গন্ধ হয়এসি গাড়ীতে সেই দুর্গন্ধ আরো প্রকট হয়শেভ ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন
গাড়িতে অতিরিক্ত একটি মোবাইল ফোন চার্জার রাখুন এবং গাড়িতে যে ফোন চার্জের ব্যাবস্থা আছে সে বিষয়ে যাত্রা শুরুর সময় যাত্রীকে অবগত করুন
 সম্ভব হলে ছোট সাইজের এক বা দুই বোতল পানি (মিনারেল ওয়াটার) গাড়ির সিট পকেটে রাখুন এবং এটা যে তার বা তাদের জন্য সেটা তাকে বা তাদেরকে জানিয়ে দিন

 প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থতা বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে অসন্তুষ্ট উত্তেজিত যাত্রীর সাথে তর্কে না গিয়ে তার প্রতি মনোযোগ দিন, তাকে কথা বলতে দিয়ে তার কথা শেষ করতে দিন,এবং অপেক্ষা করুন এতে করে আপনি যে তার কথা সম্মান মনোযোগ দিয়ে শুনছেন সেটা সে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেএই প্রক্রিয়াটি যে কোন উত্তেজিত কাস্টমারকে শান্ত করতে সাহায্য করে উত্তেজিত কাস্টমারের কথা শেষ হলে তার জায়গায় আপনি হলেও যে এমন অসন্তুষ্ট হতেন সেটা তাকে বলুন সামান্য কথাটি উত্তেজিত কাস্টমারকে আরও শান্ত করে তুলবে এবং পরিবেশ অনুকুলে আসবে
 কাস্টমার সার্ভিসে "তর্ক" বিষয়টা বিষক্রিয়ার মত, যা অসন্তুষ্ট কাস্টমারকে উত্তেজিত করার সম্ভাবনা রাখেযে কোন ভুলের ক্ষেত্রে পরক্ষনেই যাত্রীর কাছে ভুলটি স্বীকার করুন এবং দুঃখ প্রকাশ করে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন
গাড়ীর সিনজি বা অকটেন কাষ্টমার উঠানো বা নামানোর পর নিনকল ধরে সিএনজি বা অকটেন নিবেন না এতে কাষ্টমারের ওয়েটিং টাইম যোগ হয় এতে শূন্য ষ্টার পাবেন

উবার সপ্তাহ ও টাইম
উবারের সপ্তাহ শুরু হয় সোমবার থেকে রবিবার পর্যন্ত  উবারের প্রাইম বা মূল সময় হলো সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা  বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা 

উবার ড্রাইভারে পেমেন্ট এবং বোনাসঃ

  • উবার ড্রাইভারদের প্রতি বৃহস্পতিবার পেমেন্ট করা হয়। প্রতি সপ্তাহের বৃহষ্পতিবারে আগের সপ্তাহের সোম থেকে রবিবার পর্যন্ত করা কাজের দিনের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়ড্রাইভাররা তাদের ইনকাম লগ ইন করে উবার অ্যাপেই প্রতিদিন বা সপ্তাহ শেষে দেখতে পারে সব হিসাব উবারের কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে সারা বছর
  • উবারের প্রাইম টাইমে ২০-৫০ শতাংশ বেশী টাকা আয় হলে উবার কোম্পানী ড্রাইভারদের বোনাস হিসাবে দিয়ে থাকে তবে প্রতি সোম থেকে বৃহষ্পতিবার রবিবার এই ৫দিন মিলে ৪০ টার বেশী কল না কমপ্লীট বা শেষ করলে একষ্ট্রা বোনাস পাওয়া যাবেনাসপ্তাহের শুধু শুক্র শনিবারে ২০টি কল না শেষ করতে পারলে বোনাস পাওয়া যাবেনা
  • উল্লেখ্য যে, এই নাম্বার কোড ব্যবহার করে উবার অফিসে পার্টনার, ড্রাইভার যাত্রীরা সাইন আপ করলে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বোনাস পাবেন কোড ব্যবহার না করলে আপনি কোন বোনাসই পাবেন না

 

তথ্যঃ ওয়েব, সংকলকঃ জিয়া, তারিখঃ ১৩/০৫/২০১৭ ইং

md. ziaul haque

ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং

ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং হচ্ছে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাজার৷বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ভুবনে তরুণদের কাছে বহুল আলোচিত বিষয় এটি। পড়ালেখা শেষে বা পড়ালেখার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং করে যে কেউ গড়ে নিতে পারেন নিজের ভবিষ্যত্ ক্যারিয়ার৷

আউটসোর্সিং এর সংজ্ঞাঃ

ব্যবসা ক্ষেত্রে, আউটসোর্সিং বলতে কোন একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেয়াকে বুঝায় "আউটসোর্সিং" এর ধারনাটি এসেছে আমেরিকান শব্দ 'outside resourcing'' থেকেআউটসোর্সিং তথা ফ্রিল্যান্সিং শব্দের মূল অর্থ হল মুক্ত পেশা। অর্থাৎ মুক্তভাবে কাজ করে আয় করার পেশা। আর একটু সহজ ভাবে বললে, ইন্টারনেটের ব্যাবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কাজ করিয়ে নেয়। নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে এসব কাজ করানোকে আউটসোর্সিং বলে। যারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে দেন, তাঁদের ফ্রিল্যান্সার বলে।

কেন আউটসোর্সিং-

অনেক গুলো কারণ থাকতে পারে, যেমনকোয়ালিটি কাজ প্রয়োজন, মজুরির হার কমানো, টিমে এক্সপার্ট লোক না থাকা, সময় সেভ করা, নিজের কাজের চাপ কমানো, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং নিত্য অফিস খরচ হ্রাস করতে এবং হায়ার অপর্চুনিটি কাজে লাগাতে আউটসোর্স করা হয় এছাড়া কোম্পানিগুলো সাধারণত আউটসোর্সিং করে উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য অনেক সময় পর্যাপ্ত সময়, শ্রম অথবা প্রযুক্তির অভাবেও আউটসোর্সিং করা হয় 

কাজের ধরনঃ

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং ইনফরমেশন সিস্টেম, লেখা অনুবাদ, প্রশাসনিক সহায়তা, ডিজাইন, মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা, বিক্রয় বিপণন, ব্যবসা সেবা ইত্যাদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট- রয়েছে ওয়েবসাইট ডিজাইন, ওয়েব প্রোগ্রামিং, -কমার্স, ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন, ওয়েবসাইট টেস্টিং-প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টের মধ্যে ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন, গেম ডেভেলপমেন্ট, স্ক্রিপ ইউলিটি, সফটওয়ার প্লাগ ইনস, মোবাইল আইপ্লকেশন, ইন্টারফেস ডিজাইন, সফটওয়ার প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, টেস্টিং ভিওআইপি নেটওয়ার্কিং ইনফরমেশন সিস্টেমের মধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিবিএ ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইআরপি/সিআরপি ইত্যাদি লেখালেখি অনুবাদ কাজের জন্যে রয়েছে কারিগরি নিবন্ধন লেখা, কপি অনুবাদ, ক্রিয়েটিভ রাইটিং, আর্টিকেল রাইটিং, ওয়েভসাইট কনটেন্ট, ব্লগ ইত্যাদি ডিজাইন মাল্টিমিডিয়ার মধ্যে রয়েছে- গ্রাফিকস ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, ইলাস্ট্রেশন, প্রিন্ট ডিজাইন, থ্রিডি  মডেলিং, ক্যাড, অডিও ভিডিও প্রোডাকশন, ভয়েস ট্যালেন্ট, অ্যানিমিনেশন ইত্যাদি

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারা মূলত সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, কাস্টমার সার্ভিস, ডাটা এন্ট্রি, রাইটিং, সম্পাদনা, ব্লগিং, একাউন্টিং, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজশেন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রেজেটেশন থ্রিডি ডি মডেলিং, এনিমেশন এবং অনুবাদের কাজ বেশি করছে

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এবং ফ্রিল্যান্সার (Freelancer)

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) হচ্ছে যখন কোন ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ না করে চুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাজ করে থাকেন অর্থাত গতানুগতিক চাকুরীর বাইরে নিজের ইচ্ছামত কাজ করার স্বাধীনতা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিংআর ফ্রিল্যান্সার হচ্ছেন এমন একজন ব্যাক্তি যিনি কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি ছাড়া কাজ করেন আউটসোর্সিংয়ে এই ফ্রিল্যান্সারগন কাজ করে থাকে। একজন ফ্রিল্যান্সারের যেরকম রয়েছে কাজের ধরণ নির্ধারণের স্বাধীনতা, তেমনি রয়েছে যখন ইচ্ছা তখন কাজ করার স্বাধীনতা গতানুগতিক অফিস সময়ের মধ্যে ফ্রিল্যান্সার স্বীমাবদ্ধ নয় প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট, গেম, 3D এনিমেশন, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, সফ্টওয়্যার বাগ টেস্টিং, ডাটা এন্ট্রি - এর যেকোন এক বা একাধিক ক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সার কাজ করে থাকেন।

ফ্রিল্যান্সিং-এর ইতিহাস

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং-এর ইতিহাস খুব বেশি পুরানো নয় গত তিন-চার বছরে এই পেশা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে কাজটা শুরু করেছিল বিডিওএসএন, তারপরে বেসিস থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের অ্যাওয়ার্ড দেওয়ায় সেটা অন্য মাত্রা পায়

কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশে ফ্রিল্যান্সিং-এর ধারণাটি আগে থেকেই ছিল এর সুচনা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে “GURU” –সর্বপ্রথম ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যা ১৯৯৮ সালে SOFTmoonlighter.com হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় পরে Elance.com, RentAcoder.com, Odesk.com, GetAFreelancer.com, Freelancer.com, Limeexchange.com সহ আরো অনেক মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠিত হয়

ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং এর মধ্যে মূলত পার্থক্য

ফ্রীল্যান্স বা মুক্ত পেশা, ফ্রীল্যান্সার যিনি মুক্ত পেশাজীবী এটা একজন মানুষ কর্তৃক কর্মকান্ড যার নির্ধারিত কোন নিয়োগকর্তা থাকেনা একজন মুক্ত পেশাজীবী একইসাথে একজন  স্ব-নিযুক্ত কর্মজীবী বা পেশাজীবী আর আউটসোর্সিং হচ্ছে সেইসব মুক্ত পেশাজীবীদের কাজের উতস, যেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের কাজ বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে বিভিন্ন মুক্ত পেশাজীবীদের কাছ থেকে ঠিকাদারী (bid) পদ্ধতিতে চুক্তিবদ্ধ করে মূল কাজটি সমন্বয় এবং সম্পন্ন করে এবং এটা একটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ফ্রীল্যান্সিং একটি ব্যক্তিগত প্রক্রিয়া

আউটসোর্সিং ফ্রিল্যান্সিং শব্দ দুটি আমরা একই জিনিস বুঝলেও, অর্থ এবং কার্যগত পার্থক্য রয়েছে আউটসোর্সিং (Outsourcing) মানে নিজের কাজ কোন একটা মাধ্যমে অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেয়া আর ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) বলতে, মুক্ত বা স্বাধীনভাবে কাজ করা বোঝায় অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি হচ্ছে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি অন্যের কাজ করে দিবেন এবং কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট অর্থ পাবেন অনলাইনে কাজ করার জন্য অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে Freelancer, (Elance)ইল্যান্স এবং (oDesk)ওডেস্ক এর মধ্যে অন্যতম

ফ্রিল্যান্সিং শুরু পূর্বে

ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাইলে ৫টি কথা মাথায় রাখতে হবে; সঠিক গাইডলাইন, সঠিক প্রশিক্ষন, সঠিক পরিশ্রম, নিজের অধ্যবসায় এবং নিজের চেস্টা।

যে কোন কাজ শুরু করতে চাইলেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতার প্রয়োজন সর্ব প্রথম ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসতে হলেও আপনাকে যেকোন একটি ফিল্ডে দক্ষতা অর্জন করতে হবে

ইন্টারনেটে কোনো কাজ করতে হলে অবশ্যই কম্পিউটার ইন্টারনেটের বেসিক ব্যবহার জানা অত্যাবশ্যক কম্পিউটারের বেসিক হিসেবে আপনাকে জানতে হবে এমএসওয়ার্ড, এমএসএক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি আর ইন্টারনেটে কিভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে হয়, মেইলিং এবং ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন সম্পর্কেও জানতে হবে

ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে আরও একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে কমিউনিকেশন এর জন্য ইংরেজিতে দক্ষতাটাও দরকার ইংরেজিতে যদি খুব ভালো হন তাহলে ব্লগিং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন

আপনার যদি আঁকাআঁকি ভালো লাগে/ক্রিয়েটিভিটি থাকে তাহলে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে পারেন আবার আপনার যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের বেসিক নলেজ থাকে তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইন শিখতে পারেন

আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং সিএমএস ভিত্তিক কোর্স ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন

মোটামুটি পরিশ্রমী হলে আপনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অথবা ইমেইল মার্কেটিং কোর্স করতে পারেন

বিশ্বের প্রচুর ছেলে মেয়ে আউটসোর্সিং এর কাজ করে আত্ম-নির্ভরশীল হয়ে তাদের সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে অসংখ্য কাজ প্রতিদিন পাওয়া যায় আর প্রতিদিন অসংখ্য এসইও কাজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে জমা হচ্ছে এসইও চাহিদা সবসময়ই থাকবে। তাই এসইও এর কাজ শিখতে হবে।

ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে পাঁচ শতাধিক ধরণের কাজ রয়েছে, পছন্দমতো যেকোনো একটিকে বেঁছে নিতে হবে আপনাকে আর ক্যারিয়ারের ফিল্ড পছন্দের ক্ষেত্রে কাজের প্রতি আপনার আকর্ষন আছে কিনা, ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারবেন কিনা, ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে এরকম সংশ্লিস্ট কিছু বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে সিদ্ধান্তে আসার পর শুরু হবে মূল কাজ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন রিসোর্স থেকে শেখা যেতে পারে

অনলাইন রিসোর্স গুলো স্টেপ বাই স্টেপ পাওয়া যায়না বিধায় নতুনরা তেমন একটা সুবিধা করতে পারে না ভালোভাবে শিখতে হলে কিংবা দ্রুত সফল হতে হলে এই সেক্টরে যারা সফল তাদের গাইডলাইন নেওয়া প্রয়োজন যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে ফ্রিল্যান্সারা বেশি সময় দিতে পারেন না তাই যেসব ফ্রিল্যান্সারা প্রশিক্ষণ দেন তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন

ফ্রিল্যান্সিং যতটা সহজ ভাবছেন ততটা সহজ নয়, এখানে আপনাকে আপনার দক্ষতার পাশাপাশি যোগ্যতাও প্রমাণ করতে হবে আরও কয়েকটি গুন আপনার থাকতে হবে যেমন, পরিশ্রম করার মন মানুষিকতা, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্যশীলতা এবং সততা

ভালোভাবে কাজ শেখা হয়ে গেলে অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্সসহ এই ধরণের জনপ্রিয় সাইটগুলোতে কাজ করতে পারেন

যেগুলো শিখতে হবে ফ্রিল্যান্সিং কাজের পূর্বে

অফিস কোর্স (২০০৭ বা ২০০৪)বিশেষ করে : Ms word. . বেসিক ইন্টারনেট

) ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কি কি ধরনের কাজ কি পরিমানে আছে, আপনার জন্য উপযুক্ত কাজ কোনটি?

) ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কি কি প্রয়োজন এবং কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন

) সঠিক ভাবে বিড করার কৌশল, প্রোফাইল ৯০%-১০০% ভাগ যেভাবে সম্পন্ন করবেন

) upwork freelancer.com এর বিভিন্ন অংশের পরিচিতি

) ওয়েব-সাইট কম্পিটিটর এনালাইসিস এবং গুগোল এডসেন্সের মাধ্যমে আয়ের উপায়

) ওয়েব ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স, লোগো ডিজানিং, ইমেজএডিটিং এর মধ্যামে আয়ের উপায়

) আপনার প্রোফাইল এর পোর্টফোলিও পেজটি যেভাবে পরিপুর্ন করবেন

) ব্লগস্পট সাইটে যেভাবে আয় করবেন

) কভার লেটারএবং ওয়ার্কসাবমিশন 

আউটসোর্সিং কাজ পাওয়ার টিপস

অনলাইনে সহজে আউটসোর্সিংয়ের কাজ পেতে কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই চলে। নিচে সে রকম কিছু কৌশল দেওয়া হলো।

·          অনলাইনে কাজ পাওয়াটা নির্ভর করে কাজের মূল্যের উপর। অর্থাত আপনি কত কম মূল্যে (রেটে) আবেদন করেছেন তার ওপর।

·          যেসব বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড তাদের নিকট থেকে কাজ পাবেন আশা করা যায়। সুতরাং খেয়াল রাখতে হবে বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড কিনা।কোনো কনট্রাক্টরকে (ফ্রিল্যান্সার) ভাড়া বা হায়ার করতে হলে তার পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড থাকতে হয়।

·          কোনো একটা জব পোস্ট করার পর যত তাড়াতাড়ি সেটিতে আবেদন করবেন ততই ভালো।

·          আপনি যত বেশি সময় অনলাইনে (ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে) থাকবেন ততই আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ কিছু কিছু কাজ আছে, যেগুলো পোস্ট করার এক-দুই ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করে জমা দিতে হয়। যেমন ফেসবুকে বা অন্য কোনো সাইটে ভোট দেওয়া এবং কিছু ভোট সংগ্রহ করে দেওয়া; আবার হঠাৎ করে কোনো ওয়েবসাইটে সমস্যা হয়েছে তা ঠিক করে দেওয়া ইত্যাদি। কাজেই শুরুতে বেশি সময় অনলাইনে থাকার চেষ্টা করুন। যাতে বায়ার আপনাকে কোনো বার্তা পাঠালে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রত্যুত্তর দিতে পারেন।

·          মার্কেটপ্লেসগুলোতে দেখবেন প্রতি মিনিটে নতুন নতুন জব পোস্ট করা হচ্ছে,সেগুলোতে আবেদন করুন। যেসব জবে কোনো কনট্রাক্টরের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে,সেসবে আবেদন না করাই ভালো। কারণ বায়ার যদি এদের মধ্য পছন্দের কনট্রাক্টর পেয়ে যায় তাহলে আর অন্য কনট্রাক্টরের প্রোফাইল চেক করে দেখবে না।

·          যেসব জবে শর্ত দেওয়া আছে এবং সেগুলো যদি আপনি পূরণ করতে না পারেন তাহলে আবেদন না করাই ভালো।
যাঁরা ওডেস্কে দুই-তিনটা কাজ করেছেন,এখন বেশি মূল্য হারে আবেদন করতে চান, তাঁরা যে জবটিতে আবেদন করবেন সে জবের নিচে দেখুন বায়ারের আগের জবগুলোর তালিকা দেওয়া আছে। সেখানে যদি দেখেন বায়ার তাঁর আগের জবগুলোতে বেশি ডলার দিয়ে অন্য কনট্রাক্টরকে কাজ করিয়েছেন,তাহলে আবেদন করতে পারেন। আর যেসব বায়ার আগের জবগুলোতে বেশি ডলারে কাজ করায়নি, তাদের জবে বেশি রেটে আবেদন না করাই ভালো।

ফ্রিলেন্সার হিসেবে অর্থ আয় করার ৫টি ধাপ

ফ্রিলেন্সিং পেশায় সাফল্য পেতে আপনাকে যা যা করতে হবে:

১। ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করার চেষ্টা করুনঃ আপনি যদি বড় বড় ফ্রিলেন্সিং সাইট সমূহ যেমন Freelancer.com, Elance.com, Guru.com and UpWork.com ইত্যাদির কাজ অফার দেখেন তবে দেখবেন সেখানে বেশীরভাগ কাজ হচ্ছে ওয়েভ ডেভেলপমেন্টের কাজ। অতএব আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ জানে ফ্রিলেন্সিং পেশায় আসেন তবে ভালো আয় করতে পারবেন।

২। প্রোগ্রামিং এর কাজঃ ফ্রিলেন্সিং পেশায় ২য় বেস্ততম পেশা হচ্ছে প্রোগ্রামিং। নানান রকম প্রোগ্রামিং এর কাজের জন্য নানান ইস্কিলের লোক প্রয়োজন হয় প্রোগ্রামিং এর কাজে। আপনি যদি প্রোগ্রামিং জানেন এবং প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে ভালভাবে পরিচিত হন তবে ফ্রিলেন্সিং করে আপনার পক্ষে ভালো অর্থ আয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। আপনাকে প্রোগ্রামিং এর যে সব ল্যাংগুয়েজ এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে তা হচ্ছেঃ Java programming, Visual Basic programming, .Net programming, C++ programming।

৩। গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজঃ আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ জানেন তবে ফ্রিলেন্সিং এ আপনি প্রচুর কাজ পাবেন। পৃথিবী জুড়ে মানুষ গ্রাফিক্স সম্পর্কিত নানান কাজ করাছে যেমন লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, টি- শার্ট ডিজাইন ইত্যাদি। আপনার যদি ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনের দক্ষতা থাকে তবে আপনি ফ্রিলেন্সিং করে ভালো আয় করতে পারবেন।

৪। লেখা লিখির কাজঃ ফ্রিলেন্সিং জগতে নানান কাজের মাঝে লেখা লিখি যেমন ব্লগে আর্টিকেল লিখা, এসইও ডাইরেক্টরি আর্টিকেল লিখা, ক্রিয়েটিভ আর্টিকেল, একাডেমিক আর্টিকেল লিখা ইত্যাদি। আপনার যদি লেখালিখিতে ভালো আয়ত্ত থাকে তবে আপনি এর থেকেও ভালো উপার্জন করতে পারবেন।

৫। ডেটা এন্ট্রি কাজঃ বাংলাদেশ বর্তমানে ফ্রিলেন্স ডেটা এন্ট্রি সেক্টরে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক ফ্রিলেন্সার বিদেশীদের সাথে তাল মিলিয়ে ভাল আয় করে নিচ্ছেন। এখনও এই সেক্টরে প্রচুর কাজ পাওয়া যাচ্ছে। আপনি যদি সফল ভাবে বিড করতে পারেন তবে আপনি ভালো ভালো কাজ পাবেন এবং নিজে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

কিভাবে শুরু করবেন

প্রথমে যে কোন একটি ফ্রিল্যান্সিং সাইটে রেজিস্ট্রশন করে নিতে হবে রেজিস্ট্রশন করা সময় আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, ইমেইল ইত্যাদি সঠিকভাবে দিতে হবে রেজিস্ট্রেশনের একটি ধাপে আপনার একটি প্রোফাইল/রেজ্যুমে তৈরি করতে হবে যেখানে আপনি কোন কোন ক্ষেত্রে পারদর্শী তা উল্লেখ করবেন এখানে আপনি আপনার পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা, ওয়েবসাইট লিংক ইত্যাদি দিতে পারেন পরবর্তীকালে এই প্রোফাইল কাজ পাবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে

সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবার পর, এখন আপনি বিড করা শুরু করে দিতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে প্রতি মূহুর্তে নতুন কাজ আসছে আপনার পারদর্শীতা আনুযায়ী প্রতিটা কাজ দেখতে থাকুন প্রথম কয়েক দিন বিড করার কোন প্রয়োজন নেই এই কয়েকদিন ওয়েবসাইটি ভাল করে দেখে নিন ওয়েবসাইটের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন এবং সাহায্যকারী আর্টিকেল পড়ে ফেলতে পারেন প্রথমদিকে কাজ পাওয়া সহজ নয় তাই আপনাকে ধৈর্য্য সহকারে বিড করে যেতে হবে প্রথম কাজ পেতে হয়ত ১০ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে কয়েকটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আপনাকে ক্লায়েন্টরাই খুজে বের করবে

ফ্রিল্যান্সিং কাজ যেভাবে হয়

যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি (Employer) তার কোনো কাজ আউটসোর্সিং করাতে চান, তাহলে তিনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এসে সেই কাজটির জন্য ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে বিড (Bid) আমন্ত্রন করেন একটি বিডের মধ্যে একজন ফ্রিল্যান্সার উল্লেখ করেন যে তিনি কত দিনের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পারবেন, এজন্য তার পারিশ্রমিক কত হবে এভাবে একটি কাজের যে কয়টি বিড হয় সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে যোগ্য এবং সুবিধাজনক বিডটিকে Employer নির্বাচন করেন এরপর সেই ফ্রিল্যান্সারের সাথে তিনি যোগাযোগ করেন এবং কাজের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কাজ শেষে বিভিন্ন পদ্ধতিতে পে-মেন্ট করা হয়

ক্লায়েন্ট পাবেন কিভাবে

ফ্রিল্যান্সারগণ সবচেয়ে বেশি কাজ পান অন্য কারো রেফারেন্সের মাধ্যমে আপনার যদি পরিচিত এমন কেউ না থাকেন যিনি আপনাকে রেফার করতে পারেন, তাহলে সুন্দর প্রোফাইল বানিয়ে, সঠিক টাকা বিড/ আওয়ারলী রেট নির্ধারণ করে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন প্রথম কাজ পাওয়াটা অনেক ক্ষেত্রেই ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল আপনি দিনেও কাজ পেতে পারেন, আবার মাস- লেগে যাতে পারে এটি আপনার ধৈর্যের একটি বড় পরীক্ষা একবার কাজ পেয়ে গেলে, সেই কাজটি মন দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করুন এতে ক্লায়েন্ট খুশি হয়ে আপনাকে ভালো ফিডব্যাক দেবেন পরবর্তীতে আপনি এই ক্লায়েন্টের কাছ থেকেই নতুন কাজ পেতে পারেন

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে দুটি পদ্ধতিতে জব পাওয়া যেতে পারে যেমন- বিডিং সিস্টেম এবং নন-বিডিং সিস্টেম বিডিং সিস্টেমে ওডেক্স, ফ্রিল্যান্স, ইল্যান্স স্ক্রিপটল্যান্সে কাজ পাওয়া যায় তবে কাজ পাওয়াটা খুবই প্রতিযোগিতামূলক কাজ পেতে হলে ইংরেজিতে এবং সংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকা অত্যাবশ্যক নন-বিডিং সিস্টেমে মাইক্রোওয়ার্কস, মিউট ওয়ার্কস, মাই ইজি টাস্ক, জব বয়, পিটিসি, পিটিএস- কাজ পাওয়া যায় এক্ষেত্রে গুগল এডসেন্সে কাজ করে অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে  

কিভাবে বিড করবেন

প্রধানত দুই প্রকারে বিডিং করা হয়ঃ

·          Project Fee: কোনো একটি প্রজেক্ট যখন মার্কেটপ্লেসে দেওয়া হয়, তখন আপনি পুরো প্রজেক্টটি সম্পন্ন করতে কত পারিশ্রমিক নিবেন তা নিয়ে বিডিং করতে পারেন

·          Hourly Rate: এই পদ্ধতিতে আপনি কোনো একটি প্রজেক্টের জন্য কাজ করতে প্রতি ঘন্টায় কত পারিশ্রমিক নেবেন, তা নিয়ে বিড করতে পারেন

টাকা তুলবেন কিভাবে

 Bank-to-Bank Wire Transfer: কিছু কিছু মার্কেটপ্লেস থেকে সরাসরি টাকা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন তবে সব মার্কেটপ্লেস থেকে এটি করা যায় না, সেক্ষেত্রে অনলাইনে টাকা লেনদেনের বিভিন্ন সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন এই পদ্ধতিতে প্রথমে আপনার অর্থটি ডলার হিসেবে মার্কেটপ্লেসে আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে টাকা পাবার পর সেটি আপনি Skrill (প্রাক্তন Moneybookers) বা ধরনের কোনো মানি সার্ভিসের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনাকে মার্কেটপ্লেস ভেদে ট্রান্সফার ফি দিতে হতে পারে এরপর Skrill থেকে সেই টাকাটি আপনি আপনার দেশের কোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন এই ধাপে ব্যাংক আপনার কাছ থেকে আরেকটি ট্রান্সফার ফি কেটে নিতে পারে এক্ষেত্রে আপনার খেয়াল রাখতে হবে যে ব্যাংকটির যেনো অবশ্যই একটি SWIFT Code থাকে নতুবা আপনার টাকা Skrill থেকে ট্রান্সফার হবে না পুরো প্রক্রিয়াটি প্রথম ট্রান্স্যাকশনের ক্ষেত্রে প্রায় এক মাস লাগে পরবর্তী Transaction গুলো সাত দিনের মধ্যেই হয়ে যায়

. পেওনিয়ার কার্ড (Payoneer Card): নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে আপনি আপনার মার্কেটপ্লেস থেকে যেকোনো সময়ে অর্থ উত্তোলন করার জন্য একটি কার্ড পেতে পারেন এটি এক রকম ডেবিট কার্ডের মত এই কার্ড দিয়ে আপনি পৃথিবীর যেকোন স্থান থেকে ATM এর মাধ্যমে যেকোন সময়ে আপনার মার্কেটপ্লেসে জমানো টাকা তুলতে পারবেন এই কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটাও করতে পারবেন এমনকি এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত আপনার কোন আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব তাদের মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড থেকে আপনাকে টাকা পাঠাতে পারবেন 

. ক্লায়েন্ট এর নিকট থেকে সরাসরি ট্রান্সফারঃ যখন কেউ একজন আপনার রেগুলার ক্লায়েন্ট হয়ে যাবেন, তখন তার কাছ থেকে প্রজেক্ট পেতে আপনার আর মার্কেটপ্লেসে যেতে হবে না তিনি সরাসরি আপনার সাথে -মেইল বা অন্য কোনো উপায়ে যোগাযোগ করে প্রজেক্ট দিবেন এবং প্রজেক্টের পে-মেন্ট আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ট্রান্সফার করবেন

৪. বাংলাদেশে পেপাল কার্ড চালু হওয়ার কথা রয়েছে। খবরে প্রকাশ, সোনালী ব্যাংক পেপালের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়

ফ্রিল্যান্সিং / আউটসোর্সিং সাইট

UpWork

এই ওয়েবসাইটটি পূর্বে oDesk নামে পরিচিত ছিল, কিছুদিন পূর্বে UpWork পরিবর্তন হয়েছে, যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু ফিচার| Elance নামক আরেকটি জব মার্কেট এর সাথে সংযুক্ত হয়েছে| UpWork বর্তমানে ফ্রিল্যান্স মার্কেট লিডার| এই ওয়েবসাইটে বায়াররা বিভিন্ন ধরনের জব পোস্ট করে থাকেন, ফ্রীলেন্সারগন তাদের স্কিল অনুযায়ী অ্যাপ্লাই করেন| বায়ার সব আবেদনকারী মধ্যে থেকে বাছাই করে ইন্টারভিউ নিয়ে থাকেন| বেশিরভাগ ক্ষেত্রে UpWrok মেসেজ অথবা Skype chat এর মাধ্যমে ইন্টারভিউ নিয়ে থাকেন, কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও এই প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়|  এখানে আইটি সম্পর্কিত প্রায় সব রকম কাজ রয়েছে যেমনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং, ভিডিও প্রোডাকশন ,মার্কেটিং, ডাটা এন্ট্রি, রিসার্চ এর কাজ, অটো কেড এর কাজ ইত্যাদি

Envato

এটি Passive Income এর জন্যে উৎকৃষ্ট Market-place. এই Marketplace-e বেশ কইয়েকটি প্লাটফর্ম আছে, যেখানে আপনি আপনার তৈরি করা কাজ বিক্রি করতে পারবেন , যা পরবর্তিতে বায়ার কিনে নিয়ে নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করে ব্যবহার করবে| এই মার্কেটপ্লেসের বেশ কয়েকটি অংশ রয়েছে, কোন অংশে কি প্রোডাক্ট বিক্রয় করা যায় তা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলঃ

·          Graphic River – ডিজাইন টেমপ্লেট বিক্রয় করতে পারবেন যেমনঃ টিশার্ট, পোস্টকার্ড, ব্রশিউর, বিজনেস কার্ড, ফ্লায়ার, লোগো, ব্যাকগ্রাউন্ড, ফন্ট, ফটোশপ ব্রাশ, টেক্সট ইফেক্ট ইত্যাদি|

·          Code Canayan – ওয়েবওয়ার বিক্রয় করতে পারবেন, যেমনঃ পিএইচপি স্ক্রিপ্ট, ওয়ার্ডপ্রেস প্লুগিন, -কমার্চ প্লুগিন ইত্যাদি

·          Theme Forest – HTML ওয়েবসাইট টেমপ্লেট, ওয়ার্ডপ্রেস টেমপ্লেট, জুমলা টেমপ্লেট, -কমার্চ ওয়েব টেমপ্লেট বিক্রয় করতে পারবেন

·          PhotoDone – এই ওয়েব সাইট আপনি স্টক ফটোগ্রাফ বিক্রয় করতে পারবেন

·          3D Ocean – এই ওয়েবসাইট আপনি 3D মডেল বিক্রয় করতে পারবেন

·          Audio Jungle – আপনার নিজের কম্পোজ করা মিউজিক বিক্রয় করতে পারবেন

·          Video Hive – এই ওয়েবসাইট আপনার স্টক ভিডিও অথবা মোশনগ্রাফিক্স টেমপ্লেট বিক্রয় করতে পারবেন

Fiverr

Upwork এর মত আরেকটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হল Fiverr তবে এই মার্কেটপ্লেসের কার্যবলী  Upwork এর মত না এই মার্কেটপ্লেস হল একটি দোকানের মত একটি দোকানে যেমন সকল ধরনের পণ্য থাকে কাস্টমার বা গ্রাহক যা প্রয়োজন তা ক্রয় করে নিয়ে যায় ঠিক তেমনি Fiverr - ফ্রীলেন্সাররা নিজের কাজ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দিয়েগিগতৈরি করে ক্লায়েন্টের যেই সার্ভিস প্রয়োজন সেই সার্ভিসের একটি গিগ ক্রয় করে ফ্রীলেন্সারদের হায়ার করে প্রতিটি গিগের সর্বনিন্ম মূল্য ডলার এই মার্কেটপ্লেসে সকল ধরনের কাজ এর গিগ খোলা যায় যেমনঃ ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, PowerPoint Presentation, ডিজিটাল মার্কেটিং(এসইও, এসএমএম, ইমেইল মার্কেটিং), ল্যান্ডিং পেজ তৈরি, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি

99 Design

৯৯ ডিজাইন অন্যান্য মার্কেটপ্লেস থেকে ভিন্ন একটি মার্কেটপ্লেস এটি মুলত ডিজাইনারদের জন্য একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস যারা ডিজাইন করতে পারে যেমনঃ ওয়েব ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, ফেসবুক কভার ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডিজাইন ইত্যাদি তাদের জন্য এই মার্কেটপ্লেস এখানে কোন কাজের বিড করতে হয় না এখানে Client তার প্রয়োজন মত ডিজাইনের তথ্য উল্লেখ করে ডিজাইনাররা সেই তথ্য অনুযায়ী ডিজাইন করে তা জমা করে যার ডিজাইন Client এর ভালো লাগে তাকে সে জব পোষ্ট করার সময় উল্লেখিত মূল্য প্রদান করে বিষয়টি প্রতিযোগিতার মত ৯৯ ডিজাইন অন্যান্য মার্কেটপ্লেস থেকে ভিন্ন একটি মার্কেটপ্লেস এটি মুলত ডিজাইনারদের জন্য একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস যারা ডিজাইন করতে পারে যেমনঃ ওয়েব ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, ফেসবুক কভার ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডিজাইন ইত্যাদি তাদের জন্য এই মার্কেটপ্লেস এখানে কোন কাজের বিড করতে হয় না এখানে Client তার প্রয়োজন মত ডিজাইনের তথ্য উল্লেখ করে ডিজাইনাররা সেই তথ্য অনুযায়ী ডিজাইন করে তা জমা করে যার ডিজাইন Client এর ভালো লাগে তাকে সে জব পোষ্ট করার সময় উল্লেখিত মূল্য প্রদান করে বিষয়টি প্রতিযোগিতার মত

Freelancer

অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোর মধ্যে পুরাতন একটি মার্কেটপ্লেসের নাম হল Freelancer এই মার্কেট প্লেসে বিভিন্ন ধরণের অনেক জব রয়েছে আপনি আইটির প্রায় সকল সেক্টরের জব পাবেন এই মার্কেটপ্লেসে আইটি ছাড়াও আরও অনেক ধরনের জব রয়েছে এই মার্কেটপ্লেসে যেমনঃ একাউন্টিং এখানে আবেদন করাও সহজ এখানে একাউন্ট করতে কোন প্রকার ফি লাগে না তবে ফ্রী মেম্বারশিপ একাউন্টের মাধ্যমে মাসে টার বেশি জবে বিড করা যায় নাএই মার্কেটপ্লেসে প্রচুর পরিমান জব সাবমিট হয় তাই সকল রকমের আইটি জব পাওয়া যায় এবং সাথে সাথে আইটি এর বাইরেও জব পাওয়া যায়

RentACoder

রেন্ট--কোডার প্রায় দুই লক্ষ কোডার রেজিস্ট্রেশন করেছে এই সাইটে প্রতিদিনই প্রায় ২৫০০ এর উপর কাজ পাওয়া যায় সাইটের সার্ভিস চার্জ বা কমিশন হচ্ছে প্রতিটি কাজের মোট টাকার ১৫% যা কাজ সম্পন্ন হবার পর কোডারকে পরিশোধ করতে হয় এই প্রতিবেদনটি মূলত রেন্ট--কোডার সাইটকে ভিত্তি করে লেখা হয়েছে তবে মূল ধারনা প্রতিটি সাইটের ক্ষেত্রেই প্রায় একই

GetAFreelancer

এই সাইটে মোট কোডার বা প্রোভাইডারের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় সাত লক্ষ এই সাইটেও প্রায় ২৫০০ এর উপর কাজ প্রতিদিন পাওয়া যায় সাইটির সার্ভিস চার্জ হচ্ছে প্রতিটি কাজের মোট টাকার ১০% তবে গোল্ড মেম্বারদের জন্য কোন সার্ভিস চার্জ নেই গোল্ড মেম্বার হতে প্রতি মাসে আপনাকে মাত্র ১২ ডলার পরিশোধ করতে হবে নতুন ইউজারদের জন্য এই সাইটে ট্রায়াল প্রোজেক্ট নামে একটি বিশেষ ধরনের কাজ পাওয়া যায় যাতে শুধুমাত্র নতুন কোডারাই বিড করতে পারবে ফলে প্রথম কাজ পেতে আপনাকে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না

Joomlancers

এই সাইটে শুধুমাত্র Joomla এর কাজ পাওয়া যায় Joomla হচ্ছে একটি ওপেনসোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যারা Joomla পারদর্শী তারা এই সাইটে বিড করে দেখতে পারেন এখানে প্রায় ৫৫০০ ফ্রিল্যান্সার রেজিস্ট্রেশন করেছে আর এখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ টি কাজ পাওয়া যায় এই সাইটে কমিশন হিসেবে প্রতিটি কাজের ১০% টাকা কোডারকে পরিশোধ করতে হবে গোল্ড মেম্বার হতে হলে আপনাকে প্রতি মাসে ৫০ ডলার প্রদান করতে হবে

কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট : http://www.GetACoder.com, http://www.Scriptlance .com , পিটিসি, পিটিএস, জববয়, মাইক্রোওয়াকার্স 

ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়ার জন্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েবসাইটগুলো হচ্ছে মেগাটাইপাস ডটকম, ক্যাপসাটুক্যাশ ডটকম, গোগিটসাম ডটনেট ইত্যাদি

ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু অসুবিধা

) নিজের মেধার পূর্ণ ব্যবহার না করা

) আরেকটা অসুবিধা হচ্ছে কাজের পরিবেশ একাকীত্ব

) বাংলাদেশে এই পেশাটি এখনও সামাজিকভাবে তেমন একটা স্বীকৃতি পায় নি তবে দ্রুতই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী বদলে যাচ্ছে

) শেষ অসুবিধাটা হচ্ছে রাত জাগা 

৫)কাজ করার সুনির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, ক্লায়েন্ট যখন চাইবেন তখনই তাকে কাজের অগ্রগতি দেখাতে হবে এটি আপনার প্রাত্যহিক ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে

৬)সব ক্লায়েন্টের প্রতিশ্রুতি এক রকম থাকে না, কাজ শেষ হয়ে গেলেও কেউ কেউ সম্পূর্ণ পে-মেন্ট প্রতিশ্রুত সময়ের চেয়ে দেরিতে দেন

৭)যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং করছেন তাদের মাসিক আয় যথেষ্ট পরিমাণে ওঠানামা করতে পারে

বিবেচ্য বিষয়

. ফ্রিল্যান্সিং প্রজেক্টগুলোর একটি বড় অংশ আসে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে, তাদের সাথে আমাদের সময়ের পার্থক্য থেকে ১২ ঘন্টা সহজ প্রজেক্টগুলো পোস্ট হবার প্রায় সাথে সাথেই বিডিং শুরু হয়ে যায় তাই আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের শুরুতে রাতের বেলা বিড করতে হবে 

. কাজটি জেনুইন কিনা বুঝতে সবার আগে যিনি প্রজেক্টটি পোস্ট করেছেন তার অ্যাকাউন্টটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন তার সম্পর্কে অন্যদের ফিডব্যাকগুলো দেখে নিন তিনি পেমেন্ট ভেরিফাইড কিনা সেটা দেখুন বিড করার পর প্রজেক্ট পেয়ে গেলে তাকে প্রশ্ন করুন যে তিনি কিভাবে পে-মেন্ট দিতে চান, কবে দিতে পারবেন 

. ভালো ক্লায়েন্ট ধরে রাখার চেষ্টা করুন সব ক্লায়েন্টের কাছ থেকে আপনি একই ব্যবহার পাবেন না, যার ব্যবহার ভালো তাকে ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন ভবিষ্যতে তার হাত ধরেই আপনি ভালো প্রজেক্ট পেতে পারেন 

. আপনি যেই মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন সেখানে Escrow সার্ভিস থাকলে সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন Escrow হল মার্কেটপ্লেসে টাকা জমা রাখার একটি সার্ভিস যা কাজের শেষে আপনার পারিশ্রমিক পাওয়া নিশ্চিত করে কোনো একটি প্রজেক্টের বিষয়ে কথা বলার সময় আপনি ক্লায়েন্টকে অনুরোধ করতে পারেন পারিশ্রমিকের পুরো টাকাটি Escrow তে জমা রাখতে Escrow তে একবার টাকা রাখার পর তা ক্লায়েন্ট ফিরিয়ে নিতে পারবেন না প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গেলে তিনি Escrow থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা Discharge করে দিবেন যদি আপনার ক্লায়েন্ট টাকা না দেন, তাহলে এই Escrow সার্ভিসের মাধ্যমে আপনার পাওনা টাকা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী করতে পারবেন 

. কোনো কোনো প্রজেক্টের জন্য Employer ইন্টারভিউ এর ব্যবস্থা রাখেন যেসব প্রজেক্টের জন্য ইন্টারভিউ শুরু হয়ে গেছে সেগুলোতে বিড না করাই ভালো, কারণ ইন্টারভিউ যেহেতু শুরু হয়ে গেছে, সুতরাং সেগুলো থেকে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে

. কাজের চাপ সামাল দিতে শিখুন ফ্রিল্যান্সিং পেশায় সব সময় কাজের চাপ সমান থাকে না যখন চাপ অনেক বেশি থাকে তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রন করাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এর জন্য পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে একটি ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন সময়ানুবর্তীতা বজায় রাখুন 

. আধুনিক প্রযুক্তিগত উন্নতির দিকে চোখ রাখুন সব সময় আপনার কাজের মান উন্নয়ন করতে চেষ্টা করুন এটি আপনার ভাল প্রোফাইল ধরে রাখতে সহায়তা করবে 

. সহসাই কোনো প্রজেক্টের প্রস্তাব গ্রহণ না করে একটু ভেবে দেখুন কাজটি আপনি ১০০ ভাগ সম্পূর্ণ করতে পারবেন কিনা 

. কোনো কোনো মার্কেটপ্লেসে বিডিং করার সময় একটি Cover letter দিতে হয় এক্ষেত্রে Cover letter টি প্রাসঙ্গিক, হতে হবে সব কয়টি Cover letter একই ধরনের Template ব্যবহার করবেন না চেষ্টা করুন আপনার সব কয়টি Cover letter নিজে থেকে বানাতে, এতে আপনার সৃজনশীলতা প্রকাশ পাবে 

১০. আপনার কাজের জায়গাটি সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন কাজের মাঝে বিশ্রাম নিতে ভুলবেন না আপনার প্রাত্যহিক কাজগুলো মনে রাখতে একটি ছোটো নোটবুক সাথে রাখতে পারেন 

১১. ক্লায়েন্টের সাথে যেকোন ধরনের যোগাযোগ অথবা অডিও/ভিডিও ইন্টারভিউ এর সময় পেশাদারী পোশাক এবং ব্যবহার বজায় রাখুন 

১২. আপনার কাজ ক্লায়েন্টের পছন্দ হয়েছে কি-না তা জিজ্ঞেস করতে ভুলবেন না ক্লায়েন্টের feedback থেকে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন

 

সুন্দর ক্যারিয়ারের জন্য এখনই প্রস্তুতি নিন নিজেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের জন্য দক্ষ করুন নিজের এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য নিজেই অবদান রাখতে পারবেন একদিন নিজের সফলতার গল্প সবাইকে শুনাতে পারবেন

 তথ্যঃ ওয়েব, সংকলকঃ জিয়া, তারিখঃ ০৯/০৫/২০১৭ ইং

md. ziaul haque

কিছুদিন পূর্বে আইডিবি ভবন থেকে একটি সিস্টেম কিনলাম। তারা আমাকে উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল করে দিল। অফিসে এনে দেখি এটাতে আমার প্রিন্টার, স্ক্যানার সাপোর্ট করে না। তাই আমি যখন উইন্ডোজ সেভেন দিতে গেলাম, তখন দেখি এটা হার্ড ড্রাইভ পায় না। কিন্তু উইন্ডোজ ৮ বা ৮.০ বা ১০ এ হার্ড ড্রাইভ ডিটেক্ট করে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে ইউইএফআই, জিপিটি এবং এমবিআর সম্পর্কে বলল। আর বলল জিপিটি থেকে এমবিআর করলে উইন্ডোজ সেভেন রান করবে এবং প্রিন্টার স্ক্যানার সাপোর্ট করবে।

ওয়েব ঘেটে পেয়ে গেলাম তথ্য।

ইউএসবি ড্রাইভ থেকে সিস্টেমকে বুট করার প্রয়োজনে অথবা উইন্ডোজ ইনস্টলেশনের সময় বায়োসে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেটিংস প্রদান করতে হয়। কিন্তু ম্যাক সিস্টেমে কোন বায়োস থাকেনা, কেননা ম্যাক ইউইএফআই ব্যবহার করে। ইদানিং উইন্ডোজ পরিচালিত সিস্টেমেও বায়োস এর পরিবর্তে ইউইএফআই ব্যবহৃত হচ্ছে।

বায়োস এবং ইউইএফআই উভয়ই কম্পিউটারের দুটি ফার্মওয়্যার। বায়োস এর ফুল ফর্ম হচ্ছে “বেসিক ইনপুট এন্ড আউটপুট সিস্টেম। অন্যদিকে ইউইএফআই এর ফুল ফর্ম হচ্ছে ইউনিফাইড এক্সটেনসিবল ফার্মওয়্যার ইন্টারফেস।

হার্ড ডিস্কের ডাটা এর জন্য তথ্য সংরক্ষনের জন্য বায়োস মাস্টার বুট রেকর্ড (এমবিআর)ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে ইউইএফআই ব্যবহার করে জিপিট (গাইড পার্টিশন টেবিল)। এমবিআর এবং জিপিটি এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো যে, এমবিআর ব্যবহার করে ৩২ বিটের এন্ট্রিগুলো তার টেবিলের জন্য যেখানে ফিজিক্যাল পার্টিশান লিমিট ৪ পর্যন্ত থাকে। এখানে পার্টিশান প্রতি লিমিট থাকে ২ টেরাবাইট। অন্যদিকে জিপিটি ব্যবহার করে ৬৪ বিটের এন্ট্রিগুলো তার টেবিলের জন্য, এটি হার্ড ড্রাইভের সম্ভাব্য আয়তনের জন্য  তার সাপোর্টকে আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়।

ইউইএফআই একটি স্বাধীন প্লাটফর্ম। এটি কম্পিউটার বুট টাইমকে বৃদ্ধি করে এবং কম্পিউটার স্পীডকে গতিশীল করে। এটি একারনে যে, যদি কম্পিউটারে বিশাল আয়তনের হার্ড ড্রাইভ থাকে। এজন্য পূর্বে ইউএফআইকে কনফিগার করে নিতে হবে।

বায়োস এর চাইতে ইউইএফআই এর অনেক সুবিধা রয়েছে। এটির নিজস্ব বিল্ট ইন বুট ম্যানেজার থাকাতে পৃথক বুট লোডারের কোন প্রয়োজন নেই। ইউইএফআই বায়োসের সঙ্গী হয়ে কাজ করতে পারে। এটি বায়োসের উপরে বসতে পারে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। যেসকল ডিভাইসে বিশাল আয়তনের স্টোরেজ বা সিকিউরিটির প্রয়োজন পড়ে না, বায়োস সেখানে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সিস্টেম এনালিস্ট এবং ইঞ্জিনীয়ারগন বর্তমানে বায়োস এর পরিবর্তে ইউইএফআই ব্যবহারের উপর জোড় দিচ্ছেন।

বায়োসে অনায়াসে উইন্ডোজ ৭ বা যেকোন ভার্সন ইনস্টল দেয়া যায়। অন্যদিকে ইউইএফআই তে উইন্ডোজ সেভেন বা পূর্ববর্তী ভার্সনগুলো ইনস্টল দেয়া যায়না। কিন্ত উইন্ডোজ এর লেটেস্ট ভার্সনগুলো ইনস্টল দেয়া যায়। কারন হলো বায়োস এমবিআর ব্যবহার করে এবং ইউইএফআই ব্যবহার করে জিপিটি। তাই ইউইএফআইতে উইন্ডোজ সেভেন ইনস্টল করতে হলে জিপিটি কে এমবিআর করে নিতে হবে অথবা ডিস্কপার্ট কমান্ড লাইনের মাধ্যমে কমান্ড প্রম্পটে পার্টিশান ভেঙ্গে নতুন করে পার্টিশান করে নিতে হবে। আমি নিচে একটির ভিডিও ফাইল দিয়েছি। এভাবে আরো অনেক ভিডিও ফাইল ইউটিউবে রয়েছে।

জিপিটি থেকে এমবিআর করার স্টেপগুলো ভিডিও এর মাধ্যমে শিখে রাখুন।

 

...........................................তথ্যঃ ওয়েব, সংকলকঃ জিয়া, তারিখঃ ০৮/০৬/২০১৭ ইং

md. ziaul haque

ফেসবুক মার্কেটিং কি?

ফেসবুক সারা বিশ্বে জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।এই সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সারা পৃথিবীতে যেমন আলোচিত তেমন মার্কেটিং এর জন্য বেশী কার্যকর।

আপনার নিউজফিডে বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠান কিংবা নতুন প্রতিষ্ঠানের পন্য বা সেবা অথবা ওয়েবসাইট ইত্যাদির নিউজ বা বিজ্ঞাপন দেখা যায়। আবার এমন অনেক পোষ্ট বিভিন্ন অফার  সম্পর্কে তথ্য দেওয়া থাকে এবং পাওয়ার জন্য ক্লিক করতে বলা হয়ে। যখন ক্লিক করা হয় তখন দেখা যায় অন্য একটি ফেসবুক পেজে অথবা একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। ফেসবুকে এইসব কার্যকলাপকেই ফেসবুক মার্কেটিং বলে।

ফেসবুক মার্কেটিং কেন করবেন ?

বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রতিদিন ৭২৮ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারী ফেসবুক একাউন্টে এক্টিভ থাকে আর ১.২৩ বিলিয়ন মাসিক এক্টিভ ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে।সেই মতে বাংলাদেশে থেকে (তথ্য মন্ত্রনালয় ২০১৫ জুন এর জরিপ উল্লেখ আছে) প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি করে ফেসবুক একাউন্ট সৃষ্টি হচ্ছে।আর বাংলাদেশে মোট ফেসবুক ব্যবহারকারী কোটি ৫৭ লক্ষ। বর্তমানে নিশ্চই আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্টারনেট ব্যাবহারের মোট সময়ের ১৫.% ফেসবুকে ব্যবহার হয়৭০% মার্কেটারই নতুন গ্রাহক পাবার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করছেন।

প্রতিটি ফেসবুক ইউজার কোন না কোন প্রতিষ্ঠানের  পন্য বা সেবা (যেকোন ধরনের) গ্রহন করে। তাই প্রতিটি ইউজারই একজন গ্রাহক। এখন কথা হচ্ছে এক সাথে শুধুমত্র ফেসবুকেই কোটি ৫৭ লক্ষ গ্রাহক পাওয়া সম্ভব (তবে পন্য ভেদে)

আর সব চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ফেসবুকে টার্গেটেড নির্দিষ্ট ক্লাইয়ন্ট পাওয়া যায় তাই কোন কোম্পানির মার্কেটিং এর সফল একটি খাত ফেসবুক মার্কেটিং।

আনুমানিক ৮০% আমেরিকান বলে যে তারা কোন ব্র্যান্ডের সাথে যোগাযোগের জন্য অন্য কোন সামাজিক মাধ্যম, এ্যপ বা ওয়েবসাইটের চেয়ে ফেসবুককে বেশি পছন্দ করে।

একটি কাস্টমাইজড ফেসবুক মার্কেটিং কৌশল যা সামাজিক মাধ্যমের মার্কেটিং এর মূল মতবাদের উপর তৈরি তার সাহায্যে আপনি পেতে পারেনঃ

  • ব্র্যান্ড এর পরিচিতি বৃদ্ধি
  • আপনার বিদ্যমান ক্রেতাদের জন্য আনুষঙ্গিক কন্টেন্ট তৈরি এবং প্রচারের দক্ষতা এবং সেই সাথে নতুন ক্রেতা আকর্ষন করা
  • ক্রেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক

প্রতিদিন সারাবিশ্বের ২৫০ মিলিয়নেরও বেশি ভিজিট নিয়ে ফেসবুক এখনও পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ট্রাফিকযুক্ত ওয়েবসাইট।

একটি কাস্টমাইজড ফেসবুক মার্কেটিং কৌশল যা এই বৃহৎ প্লাটফর্মে জুড়ে দিবে গ্রাহক এবং ব্যবসায়ীককে যেখানে উভয়ের ভবিষ্যত বিদ্যমান।

কিভাবে কাষ্টমাইজড ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করা যায়ঃ-

লিগ্যালি অর্থাৎ আইনত ভাবে ফেসবুকে মার্কেটিং করার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন পরে।অনুমতি কথাটা বললে হয়তবা বলা যায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে প্রোডাক্ট এর পাবলিসিটি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ পেমেন্ট করতে হয়। ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য আলাদা একটি ডিপার্টমেন্ট রেখেছেে।এই ডিপার্টমেন্ট এর কাজ হচ্ছে সব সময় মার্কেটারদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন টার্গেটেড সাধারন ফেসবুক ইউজারদের কাছে পন্যে বা সেবা এর বিজ্ঞাপন সম্পর্কে তোলে ধরা। কোন মার্কেটারের পন্য বা সেবার চাহিদা পূরন হয়ে গেলে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

একটি বিষয় লক্ষ করবেন (যাদের ফেসবুক পেজ আছে), আপনার পেজে কোন ধরনের পোষ্ট পাবলিশ করার পরে নিচে Boost Post আবার অনেক সময় পেজের মধ্যে দেখা যায় Boost Page অথবা Boost Website এই ধরনের কিছু।

এখানে Boost Post হচ্ছে এই পোষ্টিকে টার্গেটেড ইউজারদের কাছে নিয়ে যাবে। Boost Page টার্গেটেদ ইউজারদেরকে সাজেষ্ট করবে পেজটিতে লাইক দেওয়ার জন্য আর Boost Website হচ্ছে টার্গেটড ইউজারদের কে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকর্ষন দেখাবে  এই সাইট টিতে ক্লিক করার জন্য।

এর মধ্যে যেকোন একটিতেই ক্লিক করলেই নতুন একটি ইন্টারফেস ওপেন হয় যার মধ্যে দেশ ভিত্তিক ইউজার, ডলারের পরিমান, ডেইলি কত ডলার বাজেট ইত্যাদি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে পেমেন্ট করতে হলে অবশ্যই ফেসবুক অনুমদিত কিছু ব্যাংক একাউন্ট প্রয়োজন।

ফেসবুকে মার্কেটিং করতে হলে যে কাজ গুলি করতে হয়ঃ

  • ফেসবুক এড তৈরি করে/ মেনেজ করে / অপটিমাইজেশন করে।
  • ফ্যান পেইজ ডিজাইন করে/ অপটিমাইজেশন করে। ডিজাইন করার জন্য নিচের ধাপ গুলি ফলো করবো।
  • Set up your Page
  • Identify your audience
  • Create compelling content
  • Advertise
  • Measure and adjust 
  • টারগেটেড ফ্যান বৃদ্ধি করে।
  • কাস্টম ট্যাব তৈরি করে।
  • প্রতিদিন রিলিটেড কনটেন্ট (পিকচার, স্ট্যাটাস, ভিডিও) পোস্ট করে।
  • কুইজ/ পোল/ গিভওয়ে / কন্টেস্ট দিয়ে।
  • কুপন ম্যানেজমেন্ট করে।
  • কাস্টম এপ্লিকেশন ডেভেলাপমেন্ট করে।
  • রেপুটেশন মেনেজমেন্ট করে।
  • Facebook এর মাধ্যমে আপনার ওয়েব সাইটের জন্য ট্রাফিক বৃদ্ধি করে।
  • Facebook Marketing Strategy তৈরি করে দিয়ে।
  • Brand and User Engagement Plan তৈরি করে দিয়ে।
  • Facebook Advertisements সিস্টেমটা বুজিয়ে দিয়ে।
  • আপনার বিজ্ঞাপন Analysis করে দিয়ে।

ফেসবুকে ইন্টার্ন করে মাসে হাজার ডলার!

স্নাতক সম্পন্ন করে চাকরির আশায় হন্য হয়ে ঘোরা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক প্রতিষ্ঠানটিতে ইন্টার্ন করে মাসে সর্বোচ্চ আট হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে সেই হিসাবে বছরে ৯৬ হাজারে ডলার আয় করতে পারেন একজন ইন্টার্ন প্রতি বছর বিশ্বের অনেক ছাত্র-ছাত্রী ফেসবুকে ইন্টার্ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার হাজার ২০০ শিক্ষার্থী (ইন্টার্ন) নিয়ে কাজ করছেন মার্ক জাকারবার্গ। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কীভাবে 'ফেসবুকে ইন্টার্ন' করা যায় তা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেনজাকারবার্গ তার একটি স্ট্যাটাসে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নদের নিয়ে একটি ছবি আপলোড করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, এবার বিশ্ব থেকে হাজার ২০০ জন ইন্টার্ন নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি সেখানে ঘোষণা দিয়েছেন, যদি কেউ ফেসবুকে ইন্টার্ন করতে আগ্রহী হয় তাহলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এজন্য তিনি একটি লিংক দিয়েছেন

লিংকটি হলো: https://www.facebook.com/careers/university

ফেসবুকে কিভাবে ইনকাম করতে পারবেন?

  • এফ কমার্স: এফ হলো ফেসবুক এর সংক্ষেপ আর কমার্স মানে সকলের জানা | যখন আপনি আপনার কমার্স কনটেন্ট কে ফেসবুকে সাজাচ্ছেন এবং একটি কাস্টমারকে প্রোডাক্ট দেখা বা কেনার সুযোগ করে দিচ্ছেন সেটাই এফ কমার্স | এক কথায় ফেসবুকের মধ্যে কাস্টমাইজড করা একটি কমার্স প্লাটফর্ম হলো এফ কমার্স | এর মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার টার্গেট কাস্টমার এর কাছে পৌছাতে পারবেন | এছাড়া শেয়ারিং এর কারণে প্রচার আরো দ্রুত বাপক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে | দ্রুত তম যোগাযোগ হবার কারণে আপনি সর্বদা কাস্টমার এর সাথে মত বিনিময় করতে পারছেন এবং ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাবার সুযোগ থাকছে | তাই যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার কাজে লাগাতে পারেন এফ কমার্স আপনার জন্যে সহজেই সফলতা বয়ে আনতে পারে যারা এভাবে কাজ করছেন, যারা এভাবে কাজ করছেন, তাদের মাসিক আয় হচ্ছে ১০,০০০টাকা - ৩০,০০০টাকা। কারও কারও ভাল ইনভেস্ট থাকার কারনে আরও বেশিও ইনকাম হচ্ছে। সেটা ১লাখ-২লাখও হতে পারে। প্রোডাক্ট: শাড়ি, মেয়েদের ড্রেস, গিফট আইটেম ইত্যাদি
  • টি-শার্ট মার্কেটিং: বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় ইনকাম সোর্স হচ্ছে টিসপ্রিং, যেটা হচ্ছে টি-শার্ট মার্কেটিং এজন্য শুধুমাত্র ফেসবুককেই ব্যবহার করা হয়।
  •  হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশন: হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশনের জন্য শুধুমাত্র ফেসবুক মার্কেটিং করে ইনকাম করা যায়। হোস্টিং সেল এর পরিমান বৃদ্ধির উপর আয় বাড়তে থাকে
  • লোকাল ব্যবসা: লোকাল যেকোন ব্যবসার প্রোফিট বৃদ্ধির জন্য এখন ফেসবুক মার্কেটিংকে সবাই ব্যবহার করছে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, ফ্যাশন হাউজ থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য ব্যবসাতেও ফেসবুকে মার্কেটিং করেই ইনকাম বৃদ্ধি করতে হয়।
  • লোকাল চাকুরি: ফেসবুকে প্রতিদিনই কোন পোস্টে বা গ্রুপ পেজে চাকুরী বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এই বিজ্ঞাপনগুলো এক্সপার্ট লোকদের চাকুরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
  • সাইটে ট্রাফিক আর সেখান হতে অ্যাডসেন্স: ফেসবুকের মাধ্যমে একটা সাইটে যত বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারবেন, তত সাইটের অ্যাডভার্টাইজ হবে, সাইট ভিজিটর পাবেন এবং আয় বৃদ্ধি পাবে।
  • ফাইবারের গিগ সেল বৃদ্ধি:  ফাইবার বর্তমানে অত্যধিক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা (ফাইভারে সেলার) তাদের কার্যক্ষমতা দক্ষতার ভিত্তিতে ক্লায়েন্টদের জন্য বিভিন্ন সার্ভিসের প্যাকেজ তৈরি করে তা বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখেন। ফাইভারে এরকরম এক বা একাধিক প্যাকেজ মিলে তৈরি সার্ভিসগুলো গিগ নামে পরিচিত যার মূল্য ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফাইভার প্রতি ডলার মূল্যের গিগ বিক্রিতে সেলারকে ডলার চার্জ করে; অর্থাৎ যেকোনো পরিমান সেলের ২০% চার্জ করে ফলে ৮০% রেভিনিউ সেলারের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ফাইভারে বর্তমানে বিভিন্ন সার্ভিসের উপর ৩০ লক্ষাধিক গিগ রয়েছে। ফাইভারে গিগের যত বেশি প্রমোশন চালাবেন, ততই গিগ সেল বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ফেসবুক প্রমোশন চালাতেও সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। সঠিক জ্ঞান ছাড়া গিগ প্রমোশন চালালে ফাইভারে ইনকাম বাড়বে, উল্টো ফাইভার অ্যাকাউন্টটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
  • মার্কেটপ্লেসে কাজ: অনলাইন মার্কেটপ্লেস, যেখানে ক্লায়েন্ট তার কাজ এর বর্ণনা দিয়ে এবং সেই কাজের জন্য তিনি কত টাকা দিবেন তার বর্ণনা দিয়ে কাজ পোস্ট করে এবং যারা সেই ধরনের কাজ পারে তাদের আবেদন করতে বলে। ওই কাজ যারা জানে তারা আবেদন করে। এবং তারা কত টাকার মধ্যে কাজ তা করে দিতে পারবে সেটা উল্লেখ করে। আবেদন কারীদের মধ্যে থেকে একজনকে ক্লায়েন্ট বেছে নেন তার কাজের জন্য।ফেসবুক যেহেতু মার্কেটিংয়ের অনেক বড় প্লাটফর্ম, সেহেতু মার্কেটপ্লেসে এখন প্রচুর কাজ পাওয়া যাচ্ছে সম্পর্কিত।

ফেসবুক মার্কেটিং পদ্ধতিগুলো:

১) অ্যাড লিড : লিড অ্যাড হল ফেসবুক প্রমোশন টুলস এর জগতে একটি নতুন সংযোজন। এই টুলস আপনার এবং আপনার কাস্টমার উভয়েরই কাজ সহজ করে দিবে। আগে যে বা যারা আমাদের পণ্য বা ব্যবসা নিয়ে আগ্রহী তাদের তথ্য আমরা ফেসবুক এর মাধ্যমে নিতে পারতাম না, অথবা নিতে হলে ক্রেতাদেরকে ওয়েবসাইটে সাবস্ক্রিপশন ফর্ম বা গুগল শিট পূরণ করাতে হত। যেটা ছিল ঝামেলাপূর্ণ এবং এই ফর্ম পূরণের ভয়ে অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করত না।

আপনার এসকল সমস্যার অনন্য সমাধান ফেসবুক লিড অ্যাড। এই টুলস এর মাধ্যমে আপনি আপনার পছন্দমত প্রশ্নসহ ফর্ম সাজাতে পারবেন যার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন যদি আপনার বর্তমান বা সম্ভাব্য কাস্টমার রাজি থাকে। আপনার কাস্টমার যদি আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে তবে ফেসবুক থেকে তার পাবলিককৃত প্রায় সকল তথ্যই আপনার ফর্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে। ক্রেতাকে কোন কষ্ট করতে হবে না। জাস্ট সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই হয়ে যাবে। এতে আপনি আপনার তথ্য পেয়ে যাবেন আর ক্রেতাও খুশি থাকবে। এতে করে আপনি পেয়ে যাবেন একটি সমৃদ্ধ বর্তমান এবং সম্ভাব্য কাস্টমার ডাটাবেইস যেটা দিয়ে আপনি রিমার্কেটিংও করতে পারবেন।

নিউজলেটার সাইনআপ, আগ্রহী তালিকা, অফার, কুপন, নতুন পণ্যের তথ্য সরবরাহ এবং এরকম আরো নানা টুলস এর মাধ্যমে আপনি লীড অ্যাড চালাতে পারেন। তবে অ্যাড চালানোর পূর্বে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেসি পলিসি যোগ করে দিতে হবে এবং এই শর্তে রাজি হতে হবে যে আপনার প্রতিষ্ঠান এই তথ্যের কোন অপব্যবহার করবে না।

ফেসবুকের স্টাডি আমাদের বলে যে লিড অ্যাডের মাধ্যমে লিড জেনারেশন অন্য যেকোনো ধরণের অ্যাড থেকে ৫০% সাশ্রয়ী। 

৩) সেলস ফানেল: মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সেলস ফানেল এর গুরুত্ব অপরিসীম।

একটা রিয়েল লাইফ উদাহরণ দিয়ে বুঝাই। বাসার পানির ট্যাংকি সবাই চিনেন। সেখানে মোটর দিয়ে ট্যাংকিতে পানি তুলছেন। পানিটা তুলছেন, মাটির নিচ থেকে কিংবা হয়ত ওয়াশার পানির পাইপ থেকে। পানি এসে জমছে ট্যাংকিতে। সেই পানি প্রতিটা ঘরের কল দিয়ে বের হচ্ছে বা পড়ছে। পুরো সিস্টেমটি হচ্ছে সেলস ফানেল। যদি ট্যাংকিতে পানি তোলা না হতো, একসময় সব পানি শেষ হয়ে যেত। তাই একদিক দিয়ে সম্ভাব্য পানির বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে টেনে ট্যাংকিতে পানি ভরা হচ্ছে। যাকে মার্কেটিংয়ের ভাষাতে লিড বলি। সেই লিডগুলো ট্যাংকিতে স্টোর করা হয়েছে। এবার লিডগুলোকে প্রয়োজনের সময় সেলে কনর্ভাট করেছি, যা ঘরের কল দিয়ে বের হয়েছে।

যেকোন কিছুর মার্কেটিং প্লান করলে, সম্ভাব্য লিডগুলোকে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বিভিন্ন উপায়ে কালেক্ট করে, নিজের কন্ট্রোলে কোন জায়গাতে স্টোর করতে হয়। তারপর সেগুলোকে নার্সিং করতে হয়। এগুলো নার্সিং করার কারনে সেগুলো সেলে কনর্ভাট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এবার যখন নিজের প্রোডাক্টকে তাদের কাছে বিক্রির জন্য উপস্থাপন করা হয়, তখন সেটা বিক্রির সম্ভাবনাটা বেড়ে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটাকে প্লান মাফিক সাজানোকেই সেলস ফানেল বলে।

৪) কনটেন্ট ডেভেলপ: কনটেন্ট বলতে আর্টিকেল, কোন লিখার লিংক, গ্রাফিক, ভিডিও সবকিছুকে কনটেন্ট বলে। কনটেন্ট ডেভেলপের ক্ষেত্রে প্রোডাক্ট সেল করা বিষয়টি মাথাতে রেখেই পরিকল্পনা করতে হবে। লিড সংগ্রহ, লিড নার্সিং, সেলস ফানেল তৈরির চিন্তা করে কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে। সম্ভাব্য কাস্টমারের বয়স, সেক্স, তাদের কেনার ক্ষমতা, কেনার অভ্যাস, তাদের আচরণ বুঝতে হবে, সেই অনুযায়ি কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে। সম্ভাব্য কাস্টমারদের ডাটা কালেক্ট করা এবং তাদের আচরণটা অ্যানালাইস করা জানতে হবে।

৬) নিউজ ফিড অ্যালগরিদম: নিউজফিডে সেই পোষ্টগুলোই প্রাধান্য পায় যে পোষ্টগুলো ব্যবহারকারী দেকতে চান। ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে নিউজফিডে প্রদর্শন করার জন্য পোষ্ট বাছাই করে ফেসবুক। ফেসবুকে কার ওয়্যালে কোন টিউন দেখাবে এটা একটা অ্যালগারিদম মেইনটেইন করে চলে, যেটাকে EDGE Rank বলে। আর অ্যালগারিদমের কারনেই আপনারে ফ্রেন্ড লিস্টের সবার টিউন আপনি দেখেননা, আপনার টিউনও সবাই দেখেনা। ফেসবুক মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়টির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

৭) সেগমেন্টেশন (ভাগ করা) সঠিক অডিয়েন্স কে টার্গেট করুন

সেগমেন্টেশন হল সকল কাস্টমার দের মধ্য থেকে যারা আপনার পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে বেশী আগ্রহী হবেন তাদের আলাদা করা, কারন তাদের কাছেই আপনার বিজ্ঞাপন টি পৌছানো সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই আগে আপনার অডিয়েন্স টার্গেট করুন, তারপর প্রচারনা করুন।

এমন কিছু ফিল্টার রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি অডিয়েন্স এর অবস্থান, বয়স, লিঙ্গ, পছন্দের তালিকা এমনকি পূর্ব ক্রয়ের রেকর্ড অনুসারে তাদের টার্গেট করতে পারবেন। আপনি যত নিখুতভাবে অডিয়েন্স টার্গেট করবেন, ততই আপনার সফল হবার সম্ভবনা বাড়বে। যেমন- ফেসবুকের ৮৫০ মিলিয়ন random user দের কাছে এড পৌছানোর চেয়ে ১০০ মিলিয়ন Effective User দের কাছে পৌছানো কার্যকর এবং সাশ্রয়ীও বটে।

৮) পণ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন

অডিয়েন্স দের কাছে আপনার পণ্যটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন যেন তারা আপনার পণ্যটি কিনতে আগ্রহী হয়। প্রতিদিনের  ম্যাগাজিন, পত্রিকা, টিভি কিংবা ওয়েব শতশত বিজ্ঞাপন, এতসব প্রতিযোগীতার মাঝে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই আপনাকে কৌশলী হতে হবে। ফেসবুক মার্কেটিং এর মাধ্যমে যখন আপনি পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন তখনই এর উদ্দেশ্য সফল হবে।

ফেসবুক এড এর প্রধান অংশগুলো হচ্ছে এর Title, Body Text এবং Image চেষ্টা করুন মূল বিষয় গুলো সংক্ষিপ্ত আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপন করতে।

৯) সঠিক সময় নির্ধারনফেসবুক ক্যাম্পেইন শিডিউলিং

ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি শুনে হয়তো অবাক হবেন যে, অনেক ইউজার দের রেসপন্স সাপ্তাহিক বার সময়ের উপর নির্ভর করে। সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন দেখতে পাবেন সাপ্তাহিক ছুটির দিন গুলোতে।

আপনার পণ্যের ধরন এবং ক্রেতা কারা হবেন তার উপর ভিত্তি করে ফেসবুক ক্যাম্পেইন এর সময় নির্ধারন করুন। সপ্তাহের কোন দিন কোন সময় আপনার ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে লাভজনক তা ডাটা রেট অডিয়েন্স রেসপন্স দেখে নির্ধারন করুন। ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য বিশেষ কিছু টুলস আছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার ফেসবুক এড গুলো কবে, কখন, কত সময়ের চালু রাখতে চান তা নির্ধারন করতে পারবেন। আর এই সময় নির্ধারণকেই আমরা বলছি ফেসবুক ক্যাম্পেইন। সঠিক এবং সুন্দর ক্যাপশান ব্যবহার করে প্রমোট করা হলে ভাল মার্কেটিং হয় ক্যাম্পেইন চলাকালীন আপনি ভাল রেস্পন্স পাবেন, ক্যাম্পেইন শেষেও সংগৃহীত লাইক গুলোকে যদি এঙ্গেজ রাখতে পারেন (পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে এঙ্গেজ রাখা নিয়ে) তবে তাদের মধ্যে থেকে অনেক কঞ্জিউমার পাবেন

১০) সঠিক বাজেট নির্ধারন করুন

আপনি কি ভাবছেন, বেশী বাজেট আপনাকে খুব তাড়াতাড়ি সাফল্য এনে দেবে? ধারনাটি কিন্তু মোটেই সত্যি নয়। ফেসবুক, অফিসিয়াল বিজ্ঞাপন দাতাদের সর্বোচ্চ বিড বাজেট নির্ধারণে নিরুৎসাহিত করে। তাই বাজেট নির্ধারণে অবশ্যই সতর্ক হন। আপনি চাইলে প্রতি ক্লিক অথবা প্রতি ক্যাম্পেইন অনুপাতে বাজেট নির্ধারণ করতে পারেন। আবার খুব কম রেটও ততটা কার্যকরী নাও হতে পারে।

১১) কনভারসেশন ট্রেকিং প্রতি এড এর জন্য আলাদা ভাবে সেল দেখুন

সাধারনত ফেসবুক আপনাকে প্রতিটি এড এর জন্য আলাদা ভাবে সেল রিপোর্ট দেখাবে না। তাই এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে কনভারসেশন ট্রেকিং প্রসেস ব্যবহার করা যা কিনা আপনাকে প্রতিটি এড এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে। ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আসলে আপনার পণ্যের জন্য কি ধরনের বিজ্ঞাপন বেশী কার্যকরী হবে তা একমাত্র বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এজন্য আপনাকে টেস্টিং পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে হবে। এসব কিছু আপনার জন্য আরো সহজ করবে Qwaya Tools এর ব্যবহার। Qwaya আপনাকে দিচ্ছে ফেসবুক এড এর সর্বোচ্চ Customization সুবিধা, যার সাহায্যে আপনি আপনার পণ্যের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এড টি নির্ধারণ করতে পারবেন।

১২) পেইড অ্যাডভার্টাইজিং: 

ফেসবুকে পেইড অ্যাডভার্টাইজিং চমৎকার একটা মার্কেটিং সলিউশন। কিন্তু দু:খের বিষয়, আমাদের দেশে মনে করে ১ডলার খরচ করে কত বেশি মানুষের কাছে যেতে পারলাম, তত বড় আমি মার্কেটার হয়ে গেছি। আসলে কত বেশি মানুষ টিউনটা দেখলো, সেটাতে আপনার স্বার্থকতা না, কতজন আপনার প্রোডাক্টটি কিনলো, সেটাতে মার্কেটিংয়ে সফলতা। সেজন্য সঠিক পেইড মার্কেটিং শিখতে হবে। পেইড অ্যাডভার্টাইজিং দুই ধরনের; () থার্ড পার্টি মার্কেটিং এবং () ফেসবুক বিজ্ঞাপন।

(ক) থার্ড পার্টি মার্কেটিং- থার্ড পার্টি মার্কেটিং বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ গ্রহণযোগ্য। এর মাধ্যমে ফেসবুকে বহুল ফ্যান সম্বলিত পেইজগুলো থেকে ব্রান্ডের পেইজটি প্রমোট করা হয়। এতে পেইজের লাইক বাড়ে। এই পদ্ধতিতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়ার চেয়ে অনেক কম খরচে অনেক লাইক বা ফ্যান পাওয়া যায়। লাইক সংখ্যা আগেই জানানো হয়। যাদের অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাইক দরকার হয় এবং বাজেটও কম থাকে। এই পদ্ধতি তাদের জন্য খুব ইফেক্টিভ।

(খ) ফেসবুক বিজ্ঞাপনঃ ফেসবুক বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন করা গেলে ভাল সাড়া পাওয়া যায়। ভাল বাজেট থাকতে হবে।

পেইড অ্যাডভার্টাজিং বা পেইড মার্কেটিং বিষয়ক কিছু দরকারী তথ্যঃ

পেইড ক্যাম্পেইনে লাইক বাড়াতে হলে ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে একটা কন্টেস্টের আয়োজন করতে হবে। ধরুন একটালাইক এন্ড শেয়ারকন্টেষ্ট করলেন পুরষ্কার হিসেবে আপনারই ব্র্যান্ডের কিছু একটা আর সেই কন্টেস্ট পোস্টটাইস্পন্সর্ড স্টোরিকরে দিন ৫০$ এর ক্যাম্পেইন যদি PPC 0.03$ রাখেন তবে মোটামুটি ৩৫০০ লাইক পাবেন সাথে ২০০০ এর মত শেয়ার যেখানে আপনি যদি শুধু নরমাল একটা পোস্ট শেয়ার করেন, তবে কত লাইক পাবেন সেটা ট্র্যাক করাই মুশকিল

ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে দক্ষ কোন ডিজাইনার দিয়ে ইমেজটা ডিজাইন করুন আর যদি স্পন্সর্ড স্টোরি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই একটা ৮০০X৪০০ বা কাছাকাছি সাইজের ছবি যুক্ত করে দিবেন, যাতে ভিজুয়াল মার্কেটিং হয়

• “Like now” , “Like us and be with us” এই ধরনের লাইন এখন কঞ্জিউমারদের আর আকৃষ্ট করে না। তাই এমন টেক্সট ব্যবহার করবেন যা কঞ্জিমারদের সাথে সাথেই এট্রাক্ট করবে

এখন অধিকাংশ ফেসবুক মার্কেটিং এজেন্সিই ক্লায়েন্টকে শুধু ক্যাম্পেইন শেষে ক্লিক এর পরিমান দেখায় ক্লায়েন্টের উচিত ক্যাম্পেইন শুরুতে ক্যাম্পেইন ডিজাইনটা দেখে নেয়া কারণ ফেসবুক এড ম্যানেজা আমাদের অনেক বেশি সুবিধা দিয়েছে এড ক্যাম্পেইন ডিজাইনের ক্ষেত্রে

নিজে ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ড দিয়ে এড দিতে গেলে খেয়াল রাখবেন আপনি যেখানে আছেন সেই এড্রেস বিলিং এড্রেস হিসেবে দিবেন যেকোন কার্ড ব্যবহার করবেন নাহ ফেসবুকে অনেক ফ্রড হয় বলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অনেক কার্ড ব্লক করে রেখেছে উক্ত কার্ড গুলোর মধ্যে কোনটা ব্যবহার করলে একাউন্টই বন্ধ করে দিতে পারে

যেকোন অফার ফেসবুক এডের মাধ্যমে প্রমোট করুন, এতে পরিচিতি বাড়ে

এড দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন লাইকারদের জন্য কিছু আকর্ষনীয় উপহার রাখুন যেমন নতুন লাইকাররা ১০% ছাড় পাবে

১৩) ফেসবুক গ্রুপঃ

অনলাইন ব্র্যান্ডগুলোর জন্য ফেসবুক গ্রুপ অত্যন্ত প্রয়োজন। পেইজের সাথে সাথে একটা গ্রুপ থাকা জরুরী। কারন পেইজে সবাই আপনার প্রোডাক্ট দেখতে পারবে, অর্ডার করতে পারবে, কিন্তু গ্রুপে নতুন কেউ এসে প্রোডাক্ট নিয়ে পুরনো আলোচনা দেখতে পারবে, যা খুই ইফেক্টিভ। প্রোডাক্ট নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলে আপনি রেসপন্স করার আগে অন্য গ্রুপ মেম্বাররাই রিপ্লাই দিয়ে দিবে। আর নতুন নতুন ক্রেতা যখন পেইজ থেকে পাবেন, তাদের গ্রুপে এড করে নিতে পারবেন। অর্থাত তাদেরকে পার্মানেন্টলি আপনার স্টোরে রেখে দেয়া। গ্রুপে ইচ্ছামত ফ্রেন্ড এড করা যায়, তাও আবার বিনা খরচে। আপনার কোন ক্রেতা যদি খুব খুশি হয় প্রোডাক্ট পেয়ে, তাকে অনুরোধ করতে পারবেন যাতে তিনি তার বন্ধুদের গ্রুপে এড করে নিন। এতে আরও সুন্দর ভাইরাল মার্কেটিং হবে।

১৪) ফেসবুক এড পিক্সেল

ফেসবুক পেইজের প্রমোশন থেকে হয়তো ডিরেক্ট সেলস আসবে না কিন্তু আপনি এই প্রমোশনের ফলাফল কে কাজে লাগাতে পারেন নানাবিধ উপায়ে। তেমনই একটি কার্যকরী পদ্ধতি হল Facebook Pixel  ফেসবুক পেইড ক্যাম্পেইনে সবচাইতে বেশি সফলতার  গোপন রহস্য হল Facebook Ad Pixel এর সর্বোত্তম ব্যবহার। আপনি যদি ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার প্রসার করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই ফেসবুক পিক্সেল সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে এটার ব্যবহার ছাড়া ফেসবুক অ্যাডের সর্বত্তম ব্যবহার কোন অবস্থায়ই সম্ভব নয় পিক্সেল কোড ব্যবহার করতে নিজের ফেইসবুক পেইজের অ্যাড অ্যাকাউন্ট থেকে পিক্সেল কোড সংগ্রহ করতে হবে এবং নিজের একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট যেখানে কোডটি রাখতে হবে।

Facebook Pixel ব্যবহারের সুবিধাঃ

  • ফেসবুক অ্যাডের পারফরমেন্স মনিটরিং। প্রত্যেকটি অর্ডার অথবা কনভার্শনের জন্যে কত ডলার খরচ হচ্ছে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব রাখা যাবে। আর পরবর্তীতে অ্যাড দেয়ার সময় বাজেটিং এর সুবিধা হবে।
  • ফেসবুক অ্যাড অপটিমাইজেশন অডিয়েন্স সিলেকশনে এগিয়ে থাকা। Facebook Pixel এর সাথে যদি “Optimize for website conversions” বিডিং অপশন হিসেবে যোগ করে দেওয়া যায়, ফেসবুক তাদেরকেই অ্যাডটি দেখাবে যাদের ক্রেতা বনে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
  • অডিয়েন্স রিটার্গেটিং করে পরে তাদেরকে টার্গেট করে আবার অ্যাড দেওয়া যাবে এবং তাদেরকে ক্রেতা হিসেবে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যাওয়া।

এটি দুধরনের। ()কনভার্সন ট্র্যাকিং পিক্সেল এবং () কাস্টম অডিয়েন্স পিক্সেল

ক) কনভার্সন ট্র্যাকিং পিক্সেল

যখন কোন ভিজিটর আপনার ল্যান্ডিং পেজে আসে এবং তার ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে এবং কিছু ক্রয় করে তখন এটাকেই বলা হয় কনভার্সন Conversion Tracking Pixel হল একটি ছোট JAVA Script Code যা ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন থেকে আপনি কী পরিমাণ কনভার্সন পেলেন তা ট্র্যাক করে এটা শুধু ফেসবুকেই ব্যবহার করা যায় Google Analytics এর মত যেকোনো সাইটের তথ্য সংগ্রহ সম্ভব নয়। আপনি যা ইনভেস্ট করলেন তার কতটুকু ফেরত পেলেন তা জানানোয় Facebook Conversion Tracking Pixelএর কাজ।

ফেসবুক প্রমোশনের ক্ষেত্রে যেভাবে Facebook Pixel ব্যবহার করবেন

  • Pixel তৈরি করে নিতে হবে প্রথমেই।
  • Ads Manager, ads create tool অথবা Power Editor (Chrome browser ব্যবহার করুন) যান।
  • অ্যাড ম্যানেজার থেকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ
  • টপ মেন্যু থেকে Toolsনির্বাচন করুন।
  •  Create A Pixel ক্লিক করুন।
  • View Pixel Code ক্লিক করুন এবং কোডটি Copy করুন।
  • Pixel টির একটি নাম দিন। একটি অ্যাড ম্যানেজার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পিক্সেল কোডই ব্যবহার করা যায়। তাই প্রাসঙ্গিক ব্যবসায়িক নামই দিন যেটি পরে ব্যবহার করা যাবে।

Facebook Pixel টি অ্যাড করুন আপনার ওয়েবসাইটে

  • কোডটি সংগ্রহ করে আপনার ওয়েবসাইটের যেই যেই পেইজ দেখাতে চান সেখানে <head>…</head> এর মাঝে সেই কোডটি পেস্ট করে দিন।
  • ব্যাস খুব সহজেই হয়ে গেল পিক্সেল আপনার ওয়েবসাইটে ইন্টিগ্রেশন। পিক্সেল টি কাজ করছে কিনা সেটি ভেরিফাই করার ব্যবস্থাও আছে। সেটি নিয়ে আগামী পর্বে আলোচনা করবো আশা করছি।

কনভার্সন ট্র্যাক করতে

যদি কনভার্সন ট্র্যাক করতে চান তাহলে আপনার পিক্সেল ল্যান্ডিং পেজে বসানোর পরিবর্তে এটা বসাতে হবে Thank You পেজে, অর্থাৎ <head> java script code <head/>এখানে বসাতে হবে। প্রতিটি কাম্পেইনের কনভার্সন ট্র্যাক করার জন্য আপনাকে নতুন করে পিক্সেল ক্রিয়েট করতে হবে।

যেভাবে পিক্সেল ভেরিফাই করবেন

আপনি আপনার পেজে যে পিক্সেল বসিয়েছেন তা ঠিকমত কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখাকেই বলে পিক্সেল ভেরিফিকেশন।এটা করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে তাহল, যেখানে পিক্সেল কোডটি বসিয়েছেন সেখানে যাবেন এবং ফিরে এসে ফেসবুকের পিক্সেল সেকশনে চেক করবেন। “Verified” লেখাটির পাশে সবুজ “Dot” থাকলেই বুঝবেন সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে।

পিক্সেল ভেরিফাই করতে-

  • পেজে কোডটি বসিয়ে Save  করার পর পেজটি ব্রাউজারে রিলোড করতে হবে।
  • Power Editor ব্যবহার করলে বিষয়টি আরও সহজ। শুধু আপনার ব্রাউজার ট্যাবটি রিফ্রেশ করলেই হবে।
  • Chrome  ব্যবহারকারীরা Facebook Pixel Helper  এক্সটেনশন টি ডাউনলোড করে সহজেই কাজটি করতে পারেন।
  • কনভার্সনের জন্য VALUE সেট করে দিন।  মনে করুন, আপনার প্রোডাক্টের মুল্য $97.এই মূল্যটা আপনি পিক্সেল কোডে বসিয়ে দিতে পারেন। এতে করে প্রতিটা কনভার্সনের বিপরীতে আপনার কত খরচ হল ফেসবুক আপনাকে জানিয়ে দেবে।

খ)  কাস্টম অডিয়েন্স পিক্সেল[ Retargeting ]

আপনাদের অভিজ্ঞতা থেকে এটা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে আপনি যখন ফেসবুক ব্রাউজ করেন তখন অনেক অ্যাড আপনার সামনে আসে। এগুলোর সব গুলোই কিন্তু অডিয়েন্স সেট আপের কারনেই আসে। মনে করুন, আপনি কোন এক সময় অ্যামাজনের ওয়েবসাইট ভিজিট করেছিলেন। এর পর থেকে আপনি যখনই ফেসবুকে আসছেন তখনই অ্যামাজনের অ্যাড দেখতে পাচ্ছেন। এটা কিন্তু কোন কাকতালীয় ব্যাপার নয়। এটা হল রিটারগেটিং। অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে ফেসবুকের ট্র্যাকিং কোডটি বসানো আছে। এটার মাধ্যমেই ফেসবুক আপনাকে ট্র্যাক করতে পারে। আপনি অ্যামাজনে যখন ভিজিট করেছিলেন তখন হয়ত কোন পন্য ক্রয় করেননি, কিন্তু ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে ফেসবুক অ্যামাজনের পন্য গুলোকে আপনার সামনে বারবার নিয়ে আসে। এতে করে অ্যামাজনের পন্য বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুন বেড়ে যায়। কারন সময় আপনার পন্যটি পছন্দ না হলেও পরবর্তীতে আপনার ভালো লাগতেই পারে। আপনি হয়তো ইতিমধ্যেই অনেক পরিশ্রম করছেন আপনার সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু তখন আপনার আর কিছুই করার থাকে না যখন ওরা আপনার সাইটে এসে কোন পন্য না কিনেই চলে যায় অথবা ইমেইল সাবস্ক্রিপশনও করে না।

ফেসবুক রিটারগেটিং এর মাধ্যমে এই ভিজিটর গুলোকে আপনার সাইটে নিয়ে পুনরায় নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।

অডিয়েন্সকে কাস্টমাইজ করতে

আপনি আপনার অডিয়েন্সকে কয়েক ভাবে কাস্টমাইজ করতে পারবেন-

  • যারা আপনার সাইটে এর আগেও এসেছে।
  • যারা আপনার Opt Inপেজে এসেছে কিন্তু Opt Inকরেনি।
  • যারা আপনার Sales পেজে এসেছে কিন্তু কিছু ক্রয় করেনি।
  • যারা আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার হতে পারে।

কোডটি কোথায় বসাতে হবে

আগের মতই Custom Audience Pixelএর কোডটি Head Tag এর মধ্যে বসাতে হবে। আপনি যে যে পেজের অডিয়েন্স ট্র্যাক করতে চান, সবখানেই কোডটি বসিয়ে দিলেই আপনার কাজ শেষ।

অ্যাড অডিয়েন্স সিলেক্ট করুন এবং রিটার্গেট করুন

  • Ads Manager  যান।
  • Tools  ক্লিক করুন  Audience সিলেক্ট করুন।
  • Create Audience সিলেক্ট করুন।
  • Custom Audience সিলেক্ট করুন।
  •  Website Traffic সিলেক্ট করুন।
  • Custom Audience এর একটি নাম দিন। একটি Website Traffic অপশন সিলেক্ট করুন। Create Audience  সিলেক্ট করুন।
  • নির্দিষ্ট কোন Keyword অথবা কোন একটি নির্দিষ্ট URL কোন কাস্টমার আসছে এইগুলোও আপনি নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন। যেমন ধরুন Salwar Kamiz নাম দিয়ে যদি কোন URL থাকে তবে সেটিতে কারা কারা আসছে তাদেরকে আপনি অডিয়েন্সের টার্গেট হিসেবে ঠিক করে দিতে পারেন।
  • কাস্টম অডিয়েন্স প্রথমে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে যত ভিজিটর আসবে ততই এই অডিয়েন্স লিস্ট বড় হতে থাকবে।
  • এই অডিয়েন্স এর হিস্ট্রি থাকবে ৩০~১৮০ দিন পর্যন্ত। এই কাস্টম অডিয়েন্সকে টার্গেট করে যখন তখন অ্যাড প্রমোশন দিতে পারবেন যখন আপনি কোন একটি প্রমোশনের জন্যে অডিয়েন্স সিলেক্ট করবেন।

১৫) রিমার্কেটিং টেকনিক: 

ফেসবুক পেইড মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কোন প্রোমোশন যদি একই ব্যক্তির কাছে বার বার নিয়ে আসতে পারেন,তাহলে প্রোডাক্টটি ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। এজন্য অডিয়েন্স ধরে রাখা,তাদের কাছে বার বার মার্কেটিং করে মেসেজ পৌছে দেওয়াটাই হচ্ছে রিমার্কেটিং।

১৬) ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া: 

কোন বিষয়ে নিজেকে এক্সপার্ট হিসেবে অনলাইনে মানুষের ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে পারাকে ইনফ্লুয়েন্সার বলে। ইনফ্লুয়েন্সার হলে মার্কেটিং করার কষ্ট কমে যায়। অল্প কষ্টে বেশি লাভ করা যায়। ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার টেকনিক জানা থাকতে হবে।

১৭) মাসিক মার্কেটিং রিপোর্ট পযবেক্ষণ: 

প্রতিটা মার্কেটিংয়ের প্রতিটা ফলাফল দেখার ব্যবস্থা রয়েছে ফেসবুকের কিছু টুলসে। সেগুলো অ্যানালাইস করতে না জেনে মার্কেটিং করলে কোন লাভ নাই। সেগুলো না জেনেই মার্কেটিং করলে অন্ধের মত সমুদ্রে হাতরানো হবে।

১৮) রিপোর্ট অনুযায়ি মার্কেটিং প্লান তৈরি: 

মাসিক রিপোর্ট অনুযায়ি পরবর্তী মাসের মার্কেটিং প্লানটা সাজাতে হয়। কোন ধরনের কনটেন্ট মানুষকে আকর্ষণ করতেছে, কোন সময়ে মানুষজন অনলাইনে বেশি থাকে সেগুলো জেনে মার্কেটিং করলে পরিশ্রম অনেক কমে যাবে, ইনকামটাও বাড়বে।

১৯) কম্পিটিটরদের অ্যানালাইস করা: 

আপনার যারা কম্পিটিটর তাদের অ্যানালাইস না করে মার্কেটিংয়ে নামলে মার্কেটিং করেতো কোন লাভ হবেনা। হতাশাটাই শুধু পাবেন। কম্পিটিটরদের থেকে আইডিয়া নিয়ে তারপর আপনার মার্কেটিং প্লান তৈরি করুন।

ফেসবুকে কোন টিউনগুলো দিলে মানুষের অ্যানগেজমেন্ট বাড়ে, কিভাবে মার্কেটিং করলে আপনার টিউন বেশি মানুষ দেখবে, কোনভাবে মার্কেটিং করলে আপনি প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন সেসব বিষয়েও ভালভাবে দক্ষতাটা অর্জন করার জন্য ২মাস নিজেকে সময় দিন।

ফেসবুক এড অপ্টিমাইজেশনঃ

ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য অনেক ধরনের এডভাটাইজিং প্রচলিত আছে। আছে উপস্থাপনের ভিন্নতা। আপনার পণ্য কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন কৌশল টি প্রযোজ্য হতে পারে তা জানতে কিছুটা সময় ব্যয় করুন। কারন সবসময় একই রকম এড এতটা আকর্ষণীয় নাও হতে পারে।
যে বিষয় গুলো অবশ্যই মনে রাখবেন-
• Grammar এর সঠিক ব্যবহার শুদ্ধ বানান নিশ্চিত করুন।
এমন ইমেজ ব্যবহার করুন যা আপনার পণ্য কে যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করবে এবং সেই সাথে অডিয়েন্সদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
সঠিক তথ্য দিন।

অ্যাড অপটিমাইজেশন করুন পিক্সেল দিয়ে

  • নতুন অ্যাড ক্রিয়েট করুন Power Editor অথবা Ads Create Tool থেকে।
  • “Increase Conversions on your website” অপশনটি নির্বাচন করুন।
  • যে Pixel টি তৈরি করেছেন সেটি নির্বাচন করে নিন।
  • অ্যাড টার্গেটিং এর বাকি ধাপগুলো শেষ করুন। একেবারে শেষে “Pricing and Bidding” সেকশানে “Website Conversions” নির্বাচন করে দিন। ফেসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার জন্যে আসলেই যারা সত্যিকারের ক্রেতা তাদের কাছেই দেখাবে এই অ্যাড।

যে কাজ গুলো কখনই করবেন না-

  • ইংরেজি তে কোন কনটেন্ট লিখার সময় কখনই সবগুলো CAPITAL LETTER কিংবা small letter লিখবেন না।
  • ইমেজ ব্যবহারে সতর্ক হন। পণ্যের সাথে অসংগতিপূর্ণ কোন ইমেজ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
  • ফেসবুকে স্ট্যাটাসে কিছু লিখতে পারা
  • অন্যের টিউনে টিউমেন্ট করতে পারা
  • ভাল লেখালেখি করতে পারা
  • অন্য গ্রুপে টিউমেন্ট করতে পারা
  • ফেকলাইক বৃদ্ধি করতে পারা
  • অন্যের গ্রুপে কিংবা অন্যের টিউনে গিয়ে লিংক শেয়ার করা
  • বাটপারি, মিথ্যা  প্রলোভন দিয়ে পেইজ প্রমোট করা

কার্যকরী কিছু টিপস

  • বিজ্ঞাপনে ‘’Call to action’’ অপশন টি রাখুন।
  • ‘’Contact info’’ অংশটি হাইলাইট করুন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফোন নাম্বার দিলে অবশ্যই সঠিক নাম্বার দিন।
  • অডিয়েন্সদের জন্য Comment অপশন টি রাখুন।
  • অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কিভাবে মার্কেটিং করছে তা পর্যালোচনা করুন এবং নিজের পণ্য কে ফোকাস করার চেষ্টা করুন।
  • আপনি যদি একের অধিক এড একই সময়ে চালু রাখেন তাহলে প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা Data Analyze করুন। যে বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে আপনি অডিয়েন্সদের কাছ থেকে বেশী Response পাচ্ছেন সেটিকে বেশী গুরুত্ব দিন। অন্যদিকে তুলনামূলক ভাবে কম সাড়া পাওয়া বিজ্ঞাপনটি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে পারেন।
  • খুব ভালো একটি প্রোফাইল পিকচার ব্যাবহার করুন, যেই পিকচার দিয়ে আপনার কোম্পানিকে মানুষ খুব সহজেই চিনতে পারবে। ভালো প্রোফাইল পিকচার পেতে হলে এখানে ক্লিক করুন অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন খুব ভালো ডিজাইন পেতে হলে।
  • কাভার ফটো, পিন পোস্ট, কল টু একশন বাটন অবশ্যই আর এদের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।
  • ট্র্যাকিং ইউ আর এল + ফেসবুক ইনসাইট ইউস করুন পেইজ পারফর্মেন্স দেখার জন্য।
  • মাঝে মাঝে পেইড পোস্ট করুন অরগানিক পোস্ট বাড়ানোর জন্য। আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন খুব ভালো ভাবে টারগেটেড পেইড মার্কেটিং করতে হলে।
  • আপনার টারগেটেড অডিয়েন্স খুঁজে বের  করুন।
  • আপনার ফ্রেন্ডদেরকে ইনভাইট করুন, মেসেজ দিন, কমেন্ট করলে রিপ্লাই দিন, তাদের সাথে পেইজ শেয়ার করুন, আপনার বিজনেস কন্টাকে যারা আছে তাদের ইনভাইট করুন।
  • খুব সুন্দর এবং দরকারি কনটেন্ট পোস্ট করুন, সস্তা মার্কেটিং করবেন না,লাইক কমেন্টস অ্যান্ড শেয়ার ভিক্ষা করবেন না।
  • ভ্যালিড সিস্টেম ইউস করে কাস্টমার এটাক করার চেস্টা করুন অথবা এইঙ্গেইজমেন্ট বাড়ান

পরীক্ষা মূলকভাবে দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পোস্টঃ

অধিকাংশ ব্যবসায় কোম্পানিগুলোই ফেসবুকে তাদের পোস্টগুলো ট্র্যাডিশনাল বিজনেস আওয়ারে পোস্ট করে থাকেন কিন্তু আপনার ভিজিটরদের একটা বড় অংশ বিদেশে থাকলে তখন কি হবে? সেক্ষেত্রে আপনি দিনের বা রাতের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পোস্ট করলে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল নিয়ে আসবে ট্রায়াল এন্ড এরর এর ভিত্তিতে আপনি আপনার জন্য পোস্টের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় টি খুজে পেতে পারেন অবশ্যই অটোমেটেড পোস্ট থেকে বিরত থাকা উচিত দরকার হলে  আপনি  ফেসবুকের শিডিউল টুলটি ব্যাবহার করতে পারেন এখানে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যখন একটা নতুন পোস্ট হবে আপনার অডিয়েন্স আশা করবেন যে, কেউ একজন জীবিত (জাগ্রত) আছেন সেক্ষেত্রে আপনি যখন তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের প্রশের উত্তর বা কুইরির রিপ্লাই দিতে পারবেন না , তখন তারা বুজে যাবে আপনি মৃত (ঘুমন্ত)

ভিজিটরদের কে আলোচনার সুযোগ দিনঃ

আপনি হয়ত নতুন একটি পণ্য বা নতুন কোন ডিজাইন নিয়ে আসতে চাচ্ছেন সেক্ষেত্রে আপনি আপনার ফ্যানদের থেকে তাদের ফিডব্যাক নিতে পারেন আপনি হয়ত তাদের মাঝে একটা জরিপ চালাতে পারেন বা ভোটের মাধ্যমে আপনার নতুন লোগোও বা পণ্যের রং সম্পর্কে তথ্য নিতে পারেন যা আপনাকে আপনার ব্যবসাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে এটা শুধু আপনার পণ্যের  ব্র্যন্ড লয়ালিটি বৃদ্ধি করবে তাই নয়, ফ্যানরা কি চাচ্ছে সে সম্পর্কেও আপনাকে ধারনা দিবে

ছবি ব্যাবহার করুনকেননা এটা বেশি দিন স্থায়ী হয়ঃ

ইমেজ সাধারণত বেশি শেয়ার করা হয়ে থাকে এক গবেষণায় দেখা গেছে  শুধুমাত্র টেক্সট বা লিঙ্ক এর চেয়ে ইমেজ  পোস্ট ৭০ গুন বেশি এনগ্যাজম্যান্ট পেয়ে থাকে এজন্য আপনাকে দামি ডি এস এল আর ক্যামেরা কিনতে হবে না আপনি আপানর স্মার্ট ফোনে ইনস্টাগ্রাম ডাউনলোড করে নিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে স্ন্যাপ নিতে এবং আপনার ফেবুক পেজে আপলোড দিতে পারেন শেয়ার করতে পারেন ভিডিও

আপনি নিজে নিজের সবচেয়ে বড় ফ্যান হউনঃ

সাম্প্রতিক ট্রেন্ড বা ফ্যা সম্পর্কে জানতে আপনার বিজনেস পেইজের বাইরের ফেসবুক কে ভালভাবে বুঝতে হবে। তাই যদি ইতিমধ্যেই আপনার একটি ব্যাক্তিগত একাউন্ট না থাকে আপনি আজই একটি একাউন্ট খুলে নিতে পারেন। এটা আপনাকে আপনাকে ফ্যানদের চোখে আপনার ব্যবসাকে দেখার সুযোগ করে দেবার পাশাপাশি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীরা কি করছে সেটা দেখার এবং অন্যান্য ইউজার দের সম্পর্কে ধারনা নেবার সুযোগ করে দিবে।

ফেসবুকের বাইরেও আপনার ফ্যানদের সাথে যোগাযোগ রাখুনঃ

এটা আপনি একটি ইমেইল লিস্ট দিয়ে করতে পারেন আপনি ইউজারদের কে আপনার মেইল লিস্ট   নাম লিপিবদ্ধ করার জন্য তাদের কে ইনসেন্টিভ দিতে পারেন আপনার ফেসবুক পেইজে প্রাসঙ্গিক মজার কন্টেন্ট পোস্ট করুন

কল টু একশান ব্যবহার করুনঃ

যেহেতু আপনি চান না ইউজার একবার মাত্র আপনার সাইট ভিজিত করে চলে যাক, তাই আপনি আপনার পেজের ট্যাবে একটিকল টু একশানগ্রাফিক ব্যাবহার করতে পারেন এটা লাইক বাটনের পাশেলাইক আসএর মত সাধারন হতে পারে ভিজিটররা যেন খুব সহজে আপনার ফ্যান এর পরিণত হয়ে তাদের ফিডে আপনাকে এড করে তার জন্য তাদেরকে সব রকমের সুযোগ করে দিন

হাইড এন্ড সিক খেলাঃ

আপনার যা আছে তার চাহিদা তৈরি করুন ভিজিটরদের জন্য কন্টেন্ট তৈরি করুন তাহলে তারা আপনার পেইজে লাইক দিতে উৎসাহিত হবে এগুলো হতে পারে বিশেষ কোন পণ্যের তথ্য, সাক্ষাৎকার, মেনু ইত্যাদি যা কিছু আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু উপায় আছে এটা করার (সেগুলো ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে) যেমনঃ এপস অব কাস্টম এফ বি এম এল (ফেসবুক মার্ক আপ ল্যাঙ্গুয়েজ) এগুলোর যে কোন কোনটা ব্যবহার করে যারা আপনার পেইজে লাইক দিবে তাদের কে ইক্লুসিভ কন্টেন্ট এক্সেস পাবার অপশান রয়েছে

সহজ ইউ আর এলঃ

আপনার বিজনেস পেজের জন্য একটি ভ্যানিটী ইউ অর এল তৈরি করতে পারেন এটা আপনার ফ্যানদের কে আপনার পেইজ টি আরও সহজে খুজে পেতে সাহায্য করবে

সাপ্তাহিক পিন পোস্ট করুনঃ

পিন্টারেস্ট এর পিন এর সাথে একে মেলাবেন না ফেসবুক আপনার ব্যাবসার কোন পোস্ট কে সপ্তাহের জন্য জন্য ফিচারড পোস্ট করে আপনার পেইজের উপরে রাখার সুযোগ দেয় তাই যে তথ্য কে আপনি চাচ্ছেন পুস করতে সেটা হতে পারে সেল , প্রমোশন বা কোন ইভন্ট সেগুলো কে আপনি পেইজের উপরে রাখতে পারেন পিন করতে আপনি নির্বাচিত পোষ্টে হোভার করে পেনসিল আইকন ক্লিক করে  “পিন টু পোস্ট”  সিলেক্ট করুন

মাইলস্টোন  প্রদর্শন  করুনঃ

শুধুমাত্র আপনার রিলেশান শিপ আপডেট বা গ্রাজুয়েশন ফেসবুক মাইলস্টোন নয় আপনি আপনার কোম্পনির বিভিন্ন অর্জন গুলোকে তুলে ধরতে পারেন সেটা হতে পারে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, নিদিষ্ট সংখ্যক ফ্যান এর লক্ষ্য পুরন অথবা নতুন কোন পণ্য সুচনা।

পোস্টের আকার

ফেসবুক পেজে লিংক না দিয়ে পোস্ট দিলে সেটা সবচেইয়ে বেশি লাইক এবং শেয়ার হয়। এর মধ্যে যে পোস্ট গুলো সবচেয়ে বেশি লম্বা সেগুলো সবচেয়ে বেশি শেয়ার হয়।

নিজেকে সূত্র হিসেবে ব্যাবহার করা

পেইজে কোনো পোস্টে আপনি নিজেকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করুন যেমন আমি দেখেছিবা আমি বিশ্বাস করিএরকম ভাবে। এই ধরনের পোস্টে গ্রাহকের আস্থা বাড়ে এবং বেশি বেশি শেয়ার হয়।

পোস্টের সেন্টিমেন্ট

যে পোস্ট গুলো নিরপেক্ষ ভাবে লেখা হয়, মানে হল যে পোস্ট গুলো সূস্পষ্টও নয় আবার অস্পষ্টও নয় এই ধরনের পোস্ট গুলো কম লাইক পায়। নেগেটিভ পোস্ট গুলো সবচেয়ে বেশি কমেন্ট পায় পজেটিভ পোস্ট গুলোর থেকে।

পোস্টের সময়

যে পোস্ট গুলো দিনের শেষে করা হয়, সেগুলো বেশি লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার পায় কারন এই সময়ে মানুষ কাজ শেষে বাড়িতে ফেরে এবং পার্সোনাল লাইফে প্রবেশ করে। এই সময়টাকে পিক আওয়ার বলে, সাধারনত সন্ধ্যা টা থেকে রাত তা পর্যন্ত।

পোস্টের দিন

যারেলার তথ্য মতে ছুটির দিনে তথা শনি এবং রবিবারে পোস্ট গুলোতে বেশি বেশি লাইক, শেয়ার এবং কমেন্ট হয়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই সময়টা হবে শুক্র এবং শনিবার।

ফেসবুকে মার্কেটিং বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। ছোট ব্যাবসা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গুলো ফেসবুকে তাদের পন্যের প্রচারনা চালিয়ে সফল হচ্ছে। তবে এই মার্কেটিং এর জন্যেও পরাশোনা করতে হবে কারন আপনি আপনার ব্যাবসার জন্যে কাস্টমার খুজতে বের হয়েছেন।

 

...........................................তথ্যঃ ওয়েব, সংকলকঃ জিয়া, তারিখঃ ০৫/০৬/২০১৭ ইং

md. ziaul haque

ইউটিউব আবিষ্কৃত হয় বাংলাদেশের ছেলে জাবেদ করিম দ্বারা এই ইউটিউব এখন বিশ্বের সব থেকে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব এখন গুগলের অধিভুক্ত

ইউটিউব মার্কেটিং আসলে কি?

ইউটিউব হচ্ছে একটা ভিডিও শেয়ারিং সাইট এবং পৃথিবীর সকল ভিডিও শেয়ার সাইটের মধ্যে ইউটিউব জনপ্রিয় এবং ইউজার বান্ধব ইউটিউবে ভিজিটর অনেক বেশী। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড এবং শেয়ারের মাধ্যমে কোন পণ্যের বা সেবার পরিচিতি ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে ইউটিউব মার্কেটিং এক কথায়, ইউটিউব ভিডিও এর মাধ্যমে কোন পণ্য বা সেবা মার্কেটিং করাকেই ইউটিউব মার্কেটিং বলে

কেন করবেন ইউটিউব মার্কেটিং?

  • ইউটিউব মার্কেটিং করলে খুব দ্রুত ট্রাফিক পাওয়া যায় যা একটি ওয়েবসাইটের জন্য অনেক সময়ের ব্যপার।
  • ইউটিউবে এসইও রেংকিং ড্রপ হয়না।
  • কোন প্রোডাক্টের ডিজাইন, ব্যবহারবিধি, দেখতে কেমন বা উতপাদনকারী, বিভিন্ন তথ্য একজন ক্রেতা ইউটিউব থেকে সহজেই দেখে নিতে পারেন। তারপরই উক্ত ক্রেতা সিদ্ধান্ত নেন প্রোডাক্টটি ক্রয়ের জন্য। ইউটিউব হচ্ছে ক্রেতাদের ঘাটি।

কি কি লাগবে?

  •  একটি ইউটিউব একাউন্ট
  •  একটি মোটামোটি ভালো মানের কম্পিউটার
  • ওয়েব ক্যাম
  • ডিজাটাল ক্যামেরা, আপনার মুঠোফোন টি কাজে লাগাতে পারেন, ভালো ক্যাম্যরা লাগবে
  • ইন্টারনেট কানেকশন
  • ভালো ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার
  • কিছু ভাল বন্ধু যারা নিঃস্বার্থভাবে আপনার সাথে কাজ করবে

 ইউটিউবে একাউন্ট খোলা

একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরী করুন নিজের সঠিক নাম, বয়স এবং ফোন নম্বর দিয়ে এই অ্যাকাউন্ট দিয়ে ইউটিউবে লগ ইন করুন সেখানে ‘Create Channel’ পাবেন তার মাধ্যমে নিজের চ্যানেল তৈরী করুন একটা ভালো প্রোফাইল পিকচার এবং কভার ফটো অ্যাড করুন এবং আপনার নিজের ক্যামেরায় তৈরী যে কোনো ফুটেজ আপলোড করুন 

কিভাবে অর্থ উপর্জন করা সম্ভব?

ইউটিউব সাধারণত ভিডিও দেখার একটি ওয়েবসাইট প্রতিনিয়ত এখানে অনেক ভিডিও আপলোড করা হয় কেউ হয়তো তার বা তার ব্যান্ড এর গানের ভিডিও আপলোড করেন তো কেউ আবার তার কোম্পানির কোন ভিডিও আবার কেউ আপলোড করেন মজার মজার ফানি ভিডিও তো কেউ শিক্ষণীয় কিছু ভিডিও দেখার সময় যে বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেই বিজ্ঞাপনের জন্যই আসলে ইনকামটি করা সম্ভব অবশ্যই সব ভিডিওতে বিজ্ঞাপন থাকে না যদি কেউ তার চ্যানেল বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য অনুমোদন দেয় তবেই বিজ্ঞাপন দেখানো হবে আর সেই বিজ্ঞাপন থেকে গুগল এর আয় হওয়া একটি অংশ চ্যানেল এর মালিককে দেয়া এটি প্রধানত গুগল অ্যাডসেন্স (Google AdSense) এর একটি অংশবিশেষ

কত টাকা উপার্জন সম্ভব

ইউটিউব থেকে টাকা আয়ের মূল উৎস হচ্ছে ভিউ যে ভিডিও যত বেশী ভিউ হবে সে ভিডিও তত বেশী অর্থ উপার্জন করবে তবে মোটামুটি ভাবে প্রতি হাজার মনোটাইজ ভিউতে থেকে ডলার অবধি আয় সম্ভব

কবে থেকে টাকা আয় সম্ভব

অ্যাডসেন্স অ্যাপ্লিকেশান অ্যাপ্রুভড হতে দুই থেকে তিন দিন লাগে একবার অ্যাপ্রুভড হয়ে গেলেই আপনার আয় শুরু

টাকা কবে থেকে পাবেন

ন্যূনতম ইনকাম ১০০ ডলার হলে আপনার বাড়িতে গুগল থেকে একটি চিঠি আসবে তাতে একটি কোড নম্বর থাকবে সেই কোড নম্বর দিয়ে আপনাকে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস দিতে হবে অর্থাৎ ব্যাঙ্ক নেম, অ্যাকাউন্ট হোল্ডার নেম, সুইফট কোড ইত্যাদি আপনার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট- আপনার নাম এবং ঠিকানা আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টের নামের সাথে মিল থাকতে হবে, নইলে এই টাকা আপনি পাবেন না তাই অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যেই নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে এবং সেখানে যে অ্যাড্রেস দেওয়া আছে সেটাই ব্যবহার করবেন

কত তাড়াতাড়ি টাকা আসবে?

ইউটিউব থেকে টাকা পেতে আপনাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে হতে পারে আপনার প্রথম টাকা পেতে পেতে এক বছর বা তার- বেশি লেগে গেল কিন্তু একবার টাকা আসা শুরু করলে এবং আপনার ভিডিও প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার ভিউ দিতে পারলে আপনাকে আর কোনো চাকরী করতে হবে না


সকলেই কি টাকা আয় করতে পারে?
আঠারো বছরের যে কেউ তার নিজের মৌলিক ভিডিও দিয়ে টাকা উপার্জন করতে পারে কিন্তু কার ভিডিও কত জনপ্রিয় হবে সেটা নির্ভর করছে কিছুটা আপনার দক্ষতা এবং আপনার ভাগ্যের উপর প্রচুর মানুষ যারা নিজের পোষা বিড়ালের ছবি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয় করছে আবার অনেকে আছে যারা পয়সা খরচ করে নিজেরা নানা রকম ভিডিও বানিয়েও এক ডলার আয় করতে পারছে না তাই সঠিক ভাবে যদি আপনি আপনার ইউটিউব অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করতে পারেন তাহলে ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা অসম্ভব নয়

মনেটাইজ ভিউ

ধরা যাক আপনার ভিডিওটে যে অ্যাড আসে, সেটা মিনিট-এর মাথায় এবার আপনার ভিডিওটি ৫০০০ ভিউ হয়েছে কিন্তু এর মধ্যে প্রায় হাজার জন হয়ত আপনার ভিডিও মিনিটের কম দেখেছে তাহলে হাজার ভিউ স্বত্তেও আপনার মনেটাইজ ভিউ হবে মাত্র হাজার মনেটাইজ ভিউ কত হয়েছে সেটা একমাত্র যার অ্যাকাউন্ট সেই দেখতে পারবে ‘Analytics’- ক্লিক করে 

যেভাবে শুরু করতে হবে

  • ইউটিউব থেকে আয় করতে আপনাকে প্রথমেই ইউটিউবে একটি চ্যানেল খুলতে হবে এছাড়া আপনার চ্যানেল ভালোভাবে সাজিয়ে নিতে হবে যেমন কভার ফটো, চ্যানেল আর্ট ইত্যাদি ব্যবহার করে চ্যানেলটি প্রফেশনাল ডিজাইনের করে নিতে হবে
  • চ্যানেলে আপলোড করার জন্য লাগবে ভালো মানের ভিডিও তবে এখানে কপি করা বা অন্যের ভিডিও আপলোড করা যাবে না অনুমতিপত্র ব্যতীত কোন ভিডিওতে কোন কপিরাইটেড গান বা দৃশ্য ব্যবহার করা যাবে না সবসময়ে চ্যানেল অনুযায়ী নির্দিষ্ট টপিক বা বিষয়ের উপরেই ভিডিও তৈরি করতে হবে প্রতিটি ভিডিওতে আপলোড করার সময় সঠিক নাম (Video Title) এবং প্রয়োজনীয় কীওয়ার্ড (Keyword) যুক্ত করতে হবে
  • ইউটিউব চ্যানেল তৈরীর আগে বেশ কয়েকটি ভিডিও আপলোড করে নিতে হবে এবং সেই সাথে সেই ভিডিও শেয়ার করে বেশ কিছু ভিজিটরও কালেক্ট করে নিতে হবে অর্থাৎ বেশ কয়েকজন যেন অবশ্যই ভিডিওগুলো দেখে থাকে
  • তারপর Monetization চালু করে নিতে হবে Monetization Enable হয়ে গেলে অ্যাক্টিভেশন ইমেইল এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার ভিতর ইমেইল চলে আসবে
  • এরপর আপনার ইউটিউব অ্যাকাউন্ট একটি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এর সাথে সংযুক্ত করতে হবে যদি আপনার আগে থেকেই অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট থাকে তবে সেই অ্যাকাউন্ট এর সাথে যুক্ত করতে পারেন অথবা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন তবে আপনার যদি আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকে তবে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে যাবেন না এতে আপনার আগের অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়ে যাবে সেই সাথে এই চ্যানেল এর ক্ষেত্রেও আপনি অ্যাডসেন্স পাবেন না মনে রাখবেন একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট অনেকগুলো ইউটিউব অ্যাকাউন্ট বা ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ব্যবহার করা যায় অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট এর প্রয়োজন নেই
  •  আপনার ইউটিউব অ্যাকাউন্ট অ্যাডসেন্স এর সাথে যুক্ত করতে বা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে  Account Monetization  ক্লিক করুন
  • একটি কথা অবশ্যই মনে রাখবেন ইউটিউব থেকে আয় করা অর্থ পরের মাসের ১৫ তারিখ অ্যাডসেন্স দেখানো হবে তাই এতে অস্থির হওয়ার কিছু নেই
  • আর কখনোই নিজের আপলোড করা ভিডিওতে থাকা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবেন না এতে আপনার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড বা বাতিল হতে পারে
  • ভিজিটর বাড়াতেও কোন রকম স্প্যাম ছড়াবেন না এতেও আপনার আয় বাড়বে না বরং কমে যাবে তবে সঠিক ভিডিও সঠিক জায়গায় শেয়ার করতে পারেন
  • চ্যানেল এবং ভিডিও উভয়ই অপটিমাজেশন করতে হবে।

Monetize কিভাবে করবেন

টাকা উপার্জন করতে হলে আপনাকে আপনার ভিডিওটি ‘Monetized’ করতে হবে ইউটিউবের Video Manager- ক্লিক করুন, বা-দিকে একটা লিস্ট আসবে সেখানে Channel-e ক্লিক করুন, সেখানে আপনি Monetization পাবেন এখান থেকে আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্টটি অ্যাকটিভ করতে হবে (অ্যাকটিভ করার উপায়টি লিখে সঠিক বোঝানো সম্ভব নয়, নিজে থেকে চেষ্টা করুন এবং স্টেপগুলি ফলো করুন) 

ইউটিউব ভিডিও Ranking 

ইউটিউব চ্যানেল এবং ইউটিউব ভিডিও আরও বেশী মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারেন এবং তা ভিউয়াররা যেন সহজেই খুজে পায় তার ব্যবস্থা করতে পারেন । সেজন্য দুটি পদ্ধতি নিম্নে বর্ণিত হলোঃ- (১) ইউটিউব চ্যানেল অপটিমাইজেশন এবং ইউটিউব ভিডিও অপটিমাইজেশন।

প্রথম ধাপঃ- ইউটিউব চ্যানেল অপটিমাইজেশন

ভিডিওটি যাতে ইউটিউব সার্চ সহজে খুজে পায় সেজন্য চ্যানেল অপটিমাইজেশন করতে হবে। চ্যানেল অপটিমাইজেশনের ধাপগুলো নিম্নরুপঃ-

  • আপনার চ্যানেলের নামটি সহজ, অর্থবোধক এবং সংক্ষিপ্ত বা ছোট হতে হবে। চ্যানেলের নাম শুনেই যেন বুঝা যায় চ্যানেলটি কি বিষয়ে তৈরী করা হয়েছে ? কি ধরনের ভিডিও এখানে পাওয়া যাবে ? চ্যানেলের নামটি যেন সহজে মনে রাখা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • ইউটিউব প্লেবুকের (লিংক) ব্যবহৃত ভাইস চ্যানেল (লিংক) সুন্দর বর্ণনার ভাল উদাহরণ হতে পারে। চ্যানেলের বর্ণনায় ব্যবহারকারী কি ধরনের ভিডিও পাবেন তার বর্ণনা দেওয়া থাকে । এর সাথে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড নির্বাচন করুন ।
  • এমন কোন আইকন বা লোগো নির্বাচন করুন যেন তা আপনার ব্রান্ডিং এর পরিচয় বহন করে। আকর্ষনীয় কাভার ফটো এবং আপনার প্রোফাইল তথ্য সমৃদ্ধ করুন । চেষ্টা করুন যত বেশী তথ্য প্রদান করা যায়।
  • আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত করুন। তাতে আপনার ভিজিটররা আপনার ইউটিউবে অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে।

দ্বিতীয় ধাপঃ- ভিডিও অপটিমাইজেশন

চ্যানেল অপটিমাইজেশনের পরবর্তী ধাপ ভিডিও অপটিমাইজেশন। গুগলের সার্চ রেজাল্টে কোনও ওয়েবসাইট বা নির্দিষ্ট পেজকে প্রথমে আনতে চাইলে যেমন সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন করতে হয় ঠিক তেমনি ইউটিউবের সার্চ রেজাল্টে কোনও ভিডিও কে প্রথমে আনতে হলে ইউটিউব ভিডিও অপ্টিমাইজেশন করতে হয় ভিডিও অপটিমাইজেশনের ধাপগুলো যেমন; (০১) অনপেজ অপটিমাইজেশন এবং (০২) অফপেজ অপটিমাইজেশন। খেয়াল রাখতে হবে, ভিডিও টা অবশ্যই HD কোয়ালিটির হতে হবে কমপক্ষে 720p আর 1080p হলে আরও ভালো হয়

(০১) অনপেজ অপটিমাইজেশন

  • রিলেভেন্ট কিওয়ার্ডসঃ  ভিডিও টাইটেলে রিলেভেন্ট কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন। কীওয়ার্ডটি সংক্ষিপ্ত করুন এবং যেন তা সংশ্লিষ্ট ভিডিউ এর সাথে সঙ্গতিপূর্ন হয়। ভিডিও ডেসক্রিপশনের প্রথম ৫০ শব্দের মধ্যে সবচাইতে রিলেভেন্ট কিওয়ার্ড উল্লেখ করা জরুরি ভিডিওর জন্য কোন কীওয়ার্ড নির্বাচন করার আগে সেই কীওয়ার্ড দিয়ে গুগল সার্চ করুন যদি সার্চ result ভিডিও দেখতে পান তখন সেই কীওয়ার্ড কে বিশেষ গুরত্ব দিন
  • ভিডিও টাইটেলঃ ভিডিওর টাইটেলে সবচেয়ে টার্গেটেড কিওয়ার্ড দিতে হবে কিওয়ার্ড দিয়ে টাইটেল শুরু করতে হবে আর খুব বেশি আকর্ষণীয় করতে হবে যেন দেখা মাত্রই বুঝা যায় এটাই সঠিক ভিডিও
  • ভিডিও ট্যাগঃ ইউটিউব মার্কেটিংয়ে ট্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভিডিও এর সাথে রিলেভেন্ট কিওয়ার্ড দিয়ে ভিডিও ট্যাগ যুক্ত করুন। অতিরিক্ত ট্যাগ প্রদান থেকে বিরত থাকুন। ইউটিউব আপনার এই ট্যাগগুলো দেখেই ভিওয়ারের কাছে আপনার ভিডিও দেখাবে
  • ভিডিও ডেসক্রিপশনঃ  খুব সুন্দর করে ইউটিউব ভিডিও এর ডেসক্রিপশন লিখতে হবে সাধারণত ৩০০+ শব্দের ডেসক্রিপশন ইউটিউব প্রাধান্য দেয় ডেসক্রিপশন হতে হবে ইউনিক আর সাজানো যেখানে ভিডিওর ব্যাপারে ইনফরমেশন দেয়া থাকবে ডেসক্রিপশনে বার কি ওয়ার্ড উল্লেখ করা ভাল
  • ট্রান্সক্রিপ্টঃ ভিডিও রেংকিং করাতে ট্রান্সক্রিপ্টের গুরুত্ব আছে সবচেয়ে ভাল কি ওয়ার্ড গুলো দিয়ে ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি করতে হয়
  •  অ্যানোটেশনঃ অ্যানোটেশন যুক্ত করুন। ভিডিও দেখার পর ব্যবহারকারীকে লাইক, কমেন্টস, সাবস্ক্রাইব করার জন্য মনে করিয়ে দেবে এই অ্যানোটেশন।
  • কার্ডঃ ইউটিউবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে কার্ড। এই কার্ড এনোটেশন এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে।
  • থাম্বনেলসঃ  ভিডিও তে কাষ্টমস থাম্বনেইল যুক্ত করা জরুরী। এটি ব্যবহারকারীকে ভিডিওটিতে ক্লিক করার জন্য প্রভাবিত করে।
  • প্লেলিস্টঃ ভিডিওটি ইউটিউব প্লেলিষ্ট যুক্ত করতে হবে।
  • চ্যানেল অথরিটিঃ ইউটিউব চ্যানেল অথারিটি ভিডিও রেংকিংয়ে ভূমিকা রাখে চ্যানেল অথারিটি বলতে ভিডিও ভিউ এর সাথে সাথে এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি , সাবস্ক্রাইবার এবং ওয়েবসাইট সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোর সাথে চ্যানেলের লিঙ্কিং

(০) অপেজ অপটিমাইজেশন

  • হাই রিটেনশন ভিউসঃ কতজন মানুষ আপনার ভিডিও দেখলো আর দেখলেও কত সময় দেখলো সেটা অনেক জরুরি হাই রিটেনশন ভিউ মূলত ভিডিওর টোটাল লেন্থের অন্তত ৫০%-৬০% পর্যন্ত দেখাকে বুঝায়
  • ভিডিও কমেন্টসঃ ভিডিও রেংকিং এবং চ্যানেল অথারিটি বাড়াতে কমেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ! একটি ভাল ভিডিওতে অনেক পজিটিভ কমেন্ট থাকেএর মানে ভিওয়ার ভিডিওটি গুরুত্ব দিয়েছে কোনও ভাল কমেন্টে ধন্যবাদ কিংবা কারো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানো রেংকিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
  • সাবস্ক্রাইবারসঃ ভিওয়ার ভিডিওটি পছন্দ করলে পরবর্তী ভিডিও বা আপডেটের জন্য সাবস্ক্রাইব করবে যেটা শুধু ইউটিউব না বরং গুগলের কাছেও প্রাধান্য সৃষ্টি করবে
  • ফেভারিটসঃ ভিডিও রেংকিংয়ের অন্যতম ফ্যাক্ট হচ্ছে কতজন মানুষ ভিডিওটি ফেভারিট করলো আর আর “Watch Later” লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করলো
  • থাম্বস আপস/ডাউনস বা লাইকস/ডিজলাইকসঃ ভিডিও লাইক বা ডিজলাইকের উপর ভিডিও রেংকিং নির্ভর করে কেউ ভিডিও পছন্দ করলে থাম্বস আপ দিবে আর বিরক্ত হলে থাম্বস ডাউন করবে এটা ভিজিটরের কাছে ভিডিও এর ভিডিও কোয়ালিটি আর নির্ভরশীলতাও প্রকাশ করে
  • ব্যাকলিঙ্কসঃ ইনবাউন্ড লিঙ্কসমূহকে ইউটিউব ব্যাংকলিঙ্কস হিসেবে গণ্য করে রিলেভেন্ট ব্যাকলিঙ্কস ইউটিউব ভিডিও রেংকিংয়ের জন্য উপকারী
  • সোশ্যাল শেয়ারস এবং এম্বেডসঃ ইউটিউব ভিডিও রেংকিংয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার এবং ব্লগ পোষ্টে এম্বেডের অনেক অনেক গুরুত্ব আছেঅর্থাত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদিতে শেয়ার করতে হবে। এগুলো ইউটিউব রেংকিং সিগন্যাল হিসেবে বিবেচিত হয়। চ্যানেল সেটিং ব্যবহার করে ইউটিউব ভিডিওগুলো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করা যায়।

ইউটিউব ভিডিও এর এসইও

ইউটিউব এর হাজারো ভিডিও এর মধ্যে টি পদ্ধতির মাধ্যমে আপনার ভিডিও কে নিয়ে আসুন রাঙ্কিং প্রতি মিনিটে ১০০ ঘন্টার বেশি ভিডিও আপলোড হয় ইউটিউব তাই আপনার ভিডিও কে রাঙ্কিং নিয়ে আসতে আজই করে ফেলুন SEO নিচের টি পদ্ধতির মাধ্যমে নিচে তার বর্ণনা করা হল-

1. Super-Long Video Descriptions:

ইউটিউব এবং গুগল ভিডিও দেখতে পারে না বুঝতেও পারে না সে জন্য ইউটিউব কে ভিডিওর বর্ণনার উপর নির্ভর করে ভিডিও কে বুঝতে হয় ইউটিউব ভিডিও সম্পর্কে যত ভাল বুঝতে পারবে, জানতে পারবে ততই সহজে রাঙ্ক করতে পারবে

2.  “Video Keywords” ব্যাবহার করা :

ইউটিউব  রাঙ্কিং করা ভাল তবে ইউটিউব এবং গুগল উভয়ই রাঙ্কিং করতে পারলে সেটা অনেক ভালআপনারা যখন গুগল সার্চ দেন মাঝে মাঝে কিছু ভিডিও দেখায় আবার দেখায় নাযখন কোন কীওয়ার্ড দিয়ে ভিডিও দেখায় সেই গুলি কিছু নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড সেই কীওয়ার্ড কে বলা হয় “Video Keywords”.  যেমন এখানে cute cats এবং ankle sprain এর মধ্যে  cute cats ভিডিও কীওয়ার্ড

3. Online communities থেকে ভিডিও views বাড়ানো  :

online communities যেমন Quora এবং Linkedln ইত্যাদি ভিডিও views বাড়ানোর জন্য অন্যতম মাধ্যমমানুষ সাধারণত কোন লিঙ্ক ক্লিক করতে চায় না কিন্ত অন্য কেউ শেয়ার করা  ভিডিও দেখেতাই এই সাইট গুলিতে ভিডিও শেয়ার করলে তাদের ভাল লাগলে তারা শেয়ার করে ভিডিওর সাথে সম্পর্কিত  ব্যক্তিদের মাঝে শেয়ার করলে সেটা অনেক ভাল ভিডিও সম্পর্কিত  বাক্তি দ্বারা  views বারলে এবং ভিডিওর কোয়ালিটি ভাল হলে ইউটিউব সেটাকে আগে রাঙ্কিং  করেভিডিও কে online communities তে শেয়ার করুন যাতে related views বারে যা ইউটিউব রাঙ্কিং সাহায্য  করে তবে  অবশ্যই ভাল কোয়ালিটির ভিডিও হতে হবে

4. Subscribing and Liking এর জন্য আহ্বান করা:

ইউটিউব এলগরিদম কোন  backlinks ব্যাবহার করে না যা ব্যাবহার করে তা হল user experience বা যারা ভিডিও দেখে তাদের অবিজ্ঞতা
Subscribing and Liking ইউটিউব এর জন্য সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন বিষয় যখন কেউ ভিডিও দেখার পর  সাবস্ক্রাইব করে এত করে ইউটিউব মনে করে সেই ভিডিও টা খুবি প্রয়োজনীয় এবং সবার পছন্দ করার মতা একটা ভিডিও ভিডিও লাইক অপেক্ষাকৃত কম গুরত্বপুর্ন  কিন্তু এটাও ইউটিউব  গননা করেআপনি এই কাজ গুলি করতে পারেন ভিডিও তে সাবস্ক্রাইব এবং লাইক আহ্বান করার মধমে ভিডিও শেষ দিকে সাবস্ক্রাইব এর আহ্বান করতে পারেন
** অর্থাৎ মানুষ কে ভিডিও তে  সাবস্ক্রাইব, লাইক, কমেন্ট করার জন্য আহ্বান করুন

5.Keyword-Rich Playlists তৈরি করা :

ইউটিউব ট্রাফিক বৃদ্ধি করার একটি অন্যতম সহজ পদ্ধতি হল ইউটিউব এর ভিডিও Playlists কে সুন্দর ভাবে সাজানোকারন সুন্দর ভাবে সাজানো থাকলে একটা ভিডিও দেখার পর আরেকটা ভিডিও দেখার প্রতি আগ্রহ জাগে
** অর্থাৎ ভিডিও Playlists কে সুন্দর ভাবে সাজাতে হবে

ইউটিউবের ভিডিও বানানোর জন্য আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার

1.    Screen o matic – এটি কম্পিউটারের স্ক্রীন রেকর্ড করার জন্য ভালোই কাজে দেয়। একই সাথে স্ক্রীন ও ভয়েস রেকর্ড ক্ষমতা সম্পন্ন এই সফটওয়্যারের পেইড ও ফ্রী ভার্সন ২টিই আছে বাজারে। ফ্রী সফটওয়্যার দিয়ে আপনি এক টানা ১৫ মিনিট ভিডিও করতে পারবেন।

2.   Wondershare video editor – ছোট খাটো চমৎকার একটি ভিডিও এডিট করার সফটওয়ার। এই ভিডিও এডিটর দিয়ে আপনি যে কোন ছোট খাটো ভিডিও এডিটের কাজ অনায়াসে করতে পারবেন।

3.   Camtasia – একটি মাত্র সফটওয়্যার দিয়ে আপনি স্ক্রীনরেকর্ড এবং এডিটের কাজ সেরে নিতে পারবেন। বর্তমানে অনেক প্রফেশনালরা এটাই ব্যাবহার করেন।

সিটিআর (CTR)

গুগল অ্যাডসেন্স তাদের এডের ভিউ এবং প্রাপ্ত ক্লিকের একটি অনুপাত করে এটিকে মুলত (clickthrough rate) সিটিআর বলা হয় আমার মতে এটি ১০এর নিচে থাকা উচিত সিটিআর ১৫ এর উপরে উঠে গেলে বিনা নোটিশে অ্যাডসেন্স ব্যান যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না এটিকে কমিয়ে রাখার জন্য নিজে থেকে ফেক ক্লিক থেকে বিরত থাকবেন নিজের শত্রু, পিটিসি ক্লিকার, রোবট ক্লিকার থেকে দূরে থাকবেন

ভিডিও ক্রিয়েশন আইডিয়া

নতুন এবং অভিজ্ঞ ইউটিউবারদের জন্য আটটি আলাদা রকম ভিডিও ক্রিয়েশন আইডিয়া নিম্নে উপস্থাপন করা হলো।ভিডিও রেকর্ড এনাবেল একটি স্মার্ট ফোন এবং ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ছাড়া কোন খরচই লাগবে না এই আইডিয়া গুলো নিয়ে কাজ করতে

  • অরিগামি টাইপের জিনিসের উপর ভিডিও
  • অরিগামি মানে কাগজকে টুকরা না করে শুধু মাত্র ভাজ করে সেটি দিয়ে পাখি, নৌকা, ফুল এই টাইপের জিনিস বানানো এছাড়া ফেলনা জিনিসকে (প্লাস্টিকের বোতল, পুরাতন কলম, পন্য বহনকারি কার্টুন, ফেলে দেওয়া বাক্স) কাজে লাগিয়ে কি করে ব্যবহার যোগ্য জিনিস বানানো যায় তার উপরে অসংখ্য ক্রিয়েটিভ ভিডিও বানাতে পারেন।
  • ঘরোয়া কাজের উপর ভিডিও বানাতে পারেন
  • বই বাধাই করা, ঘোলা আয়না কি করে পরিষ্কার করা যায়, রান্নাবান্না, সেলাই, বাগান পরিচর্যা এসব টপিকের উপর ভিডিও বানাতে পারেন- এসব জিনিস অনেকেই খুজে ইউটিউবে তার মানে বেশ ভালো অঙ্কের সাবস্ক্রাইবার পাবেন
  • পেইন্টিং
  • পেন্টিং মানে ছবি আকা না পেইন্টিং মানে বিশাল একটা বিষয় আপনি যদি ভালো আঁকতে পারেন তাহলে আপনি আপনার ইউটিব চ্যানেলে থ্রিডি পেইন্ট, ইলিউসন পেইন্ট, ফর্মাল পেইন্ট, এসবের উপর নিজের বানানো ভিডিও আপলোড করতে পারেন এই ভিডিও গুলো যদি ক্রিয়েটিভ এবং সহজ কিছু স্টেপের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন তাহলে এটিই হতে পারে আপনার মুল কাজের এবং আয়ের ক্ষেত্র
  • মাইক্রোকন্টোলিং নিয়ে ভিডিও – রোবট, সার্কিট, ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে নিজের বানানো অথবা অন্যের আইডিয়া থেকে বানানো প্রজেক্ট গুলো নিয়ে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করে ভিডিও বানানো যেতে পারে তাছাড়া আপনি চ্যানেলে আরো কিছু ভিডিও রাখতে পারেন যেমন নষ্ট রিমোট, টর্চ, ক্যালকুলেটর, প্রয়োজনিয় ইলেক্টনিক্স জিনিসপত্র কি করে ঠিক করা যায় তার উপর এক বন্যা শেয়ার পেতেও পারেন।
  • হয়ে যেতে পারেন শিক্ষক – আপনি হয়তো পিয়ানো, গীটার, তবলা বাজাতে পারেন অথবা আপনি অনেক ভালো নাচতে পারেন এখন আপনার মোবাইল ফোনটি ব্যাবহার করুন ইউটিউবএ আমাদের বাংলাদেশি এখনো কোন চ্যানেল নাই যেখানে পিয়ানো, গীটার, নাচ অথবা গান শিখানো হয় আপনি পারলে আপনিও শুরু করতে পারেন বেশ সাড়া পাবেন
  • খেলাধুলার উপর কিছু করতে পারেন – হয়তো আপনি অনেক ভালো সাইকেল চালাতে পারেন অথবা ভালো ক্রিকেট, ফুটবল খেলতে পারেন আপনি আপনার চ্যানেলে বিভিন্ন রকম ক্রিকেটের ভালো শর্ট খেলার কৌশল, ভালো ফুটবল খেলার কৌশল, সাইকেলের হরেক রকম স্টান্ট, শেয়ার করতে পারেন এই রকম বাংলা ভিডিওর অনেক অভাব আছে
  • নিজেকে ভালো করে উপস্থাপন করতে পারেন –  সেই দিন ফেসবুকে এক ভাইের সাথে কথা হল সে ভালো আরজে হতে পারতো হয়তো ভাগ্যের জন্য হতে পারে নাই আপনারও হয়তো সেই মেধা আছে সুন্দর করে আপনি মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড অন করে আপনি সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনাকে মজার কিছু ভঙ্গিমাতে উপস্থাপন করতে পারেন পারলে বন্ধুদের হেল্প নিতে পারেন মনে রাখবেন মানুষ অধিকাংশ সময় বিনোদনের জন্যই ইউটিউবে যায় আপনি যদি আপনার এই রকম বিনোদন মুলক চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তি-যুক্ত কিছু তুলে ধরতে পারেন তাহলে সাবস্ক্রাইবার তর তর করে বেড়ে যাবে।। তাছাড়া আপনি যদি নিজেকে আর ভালো করে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে আপনি পাঠ্যবইের কিছু বিশ্রী সমস্যার সহজ এবং সাবলীল সমাধান দিতে পারেন আপনার ভিডিওতে যেমন পিথাগোরাসের সেই উপপাদ্য, নিউটনের দাঁতভাঙ্গা প্রস্তাবনার সমাধান, গাণিতিক বিখ্যাত সমস্যা গুলোর সমাধান আর অবশ্যই ভিডিও আপলোড করার পরে এসইও করার কথা ভুলবেন না
  • নতুন আপডেট হতে পারে একটি চ্যানেল আইডিয়া – বিদেশে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সাম্প্রতিক হয়ে যাওয়া ঘটনা, দুর্ঘটনা, খেলার গুরুত্বপূর্ণ হাইলাইট, এসব উপস্থাপন করে আপনিও কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন নিজে উপস্থাপন করবেন লাগলে কিছু ছবি এড করতে পারেন সরাসরি কপি করবেন না

ইউটিউব থেকে টাকা আয়ের কয়েকটি উপায়

০১. অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে

ইউটিউব থেকে আয় করার জনপ্রিয় এবং বড় মাধ্যম অ্যাডসেন্স। শুধুমাত্র ইউটিউব অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে মাসে কয়েক লক্ষ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায়।

০২. পণ্য বিক্রি করে

কেউ কোন পণ্য কিনার জন্য মন স্থির করলে সেই পণ্য সম্পর্কে জানতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউটিউব ভিডিওই দেখে থাকে। সুতরাং প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভিডিও যুক্ত করে আপলোড করে নিজ পণ্য মার্কেটিং করে টাকা আয় করা যায়।

০৩. এফিলিয়েট প্রোডাক্ট এর রিভিউ করে

এটি ইউটিউব ব্যাবহারের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম এই ক্ষেত্রে মানুষ আমাজন বা অন্য কোন এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এর পণ্যের এফিলিয়েশন করে থাকে সাধারনত নিজের এফিলিয়েট লিঙ্ক ভিডিও এর ডেসক্রিপশনে দিয়ে দেওয়া হয় এবং ভিডিও তে সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিও প্রদান করা হয় সেই ভিডিও থাকাকালীন কেউ যদি লিঙ্কের মাধ্যমে গিয়ে কোন পণ্য ক্রয় করে থাকে তবে এফিলিয়েটর কমিশন পায়

. ইউটিউব এর পার্টনার হোন

বর্তমানে পৃথিবী ব্যাপী প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ইউটিউব পার্টনার আছেন পার্টনাররা ভাড়ার ভিত্তিতে ভিডিও অভারলেয় করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে এবং আয় ইউটিউব এর সাথে ভাগাভাগি করে নেয় তাদেরদে অনেক সময় ব্রান্ডদের এন্টারটেইনার বা ভিডিও মার্কেটার হিসেবে হায়ার করাও হয়ে থাকে অনেক সময় একটা ব্রান্ডের জন্য বিশেষ ভিডিও তৈরি করেও এরা অনেক টাকা উপার্জন করে

. আপনার ভিডিওর ডেসক্রিপশনে লিঙ্ক বিক্রি করুন

এটা অনেক মজার একটা আয় ধরুন যেকোনো বিষয়ের উপর আপনার একটা ভিডিও ইউটিউব প্রথম দিকে আছে এই মুহূর্তে এই ধরনের প্রোডাক্ট যাদের আছে আপনি চাইলেই তাদের কাছে এককালীন অথবা দীর্ঘমেয়াদী শর্তে একটা লিঙ্ক বিক্রি করতে পারেন যা আপনার ভিডিও এর ডেসক্রিপশনে থাকবে কয়েকটা ভিডিও তে এসইও করেই আপনি এইভাবে লিঙ্ক বিক্রি শুরু করতে পারেন তবে এই ক্ষেত্রে ভিডিও তে অবশ্যই ভালো মানের ভিসিটর থাকতে হবে আর এভাবে লিঙ্ক দিয়ে আপনি আপনার নিজের ওয়েবসাইট বা ওয়েব ব্লগেও প্রচুর পরিমান ট্রাফিক আনতে পারেন

০৬. ইউটিউবার

ইউটিউবে তারকা হয়ে ওঠাও হলিউডে তারকা হওয়ার মতো বিষয় তবে এখানে নিজেকেই ইউটিউবার হতে হয় ইউটিউবার হতে হলে নিজস্ব উপস্থাপনায় মজার মজার ভিডিও আপলোড করতে হয় আর ক্রমাগত চেষ্টা করে গেলে সাফল্য পেতেও দেরি হয় না

০৭. নতুন মোবাইল আনবক্সিং ভিডিও এবং রিভিউ প্রদানের মাধ্যমে

নতুন মোবাইল ফোন এর আনবক্সিং রিভিও ভিডিও এর ইউটিউবে অনেক চাহিদা রয়েছে, রিভিও দেয়ার সময় ইংরেজী তে কথা বলে দিতে পারেন

০৮. গেমস এর ভিডিও এবং রিভিউ প্রদানের মাধ্যমে

নতুন নতুন গেমস এর ভিডিও এবং রিভিউ এবং সেটা স্কিন রেকর্ড করে ইউটিউবে আপলোড করে ইনকাম করুন ইনকাম করতে পারেন, বর্তমানে এন্ড্রয়েড বা অ্যাপেল বা আইফোনে বিভিন্ন গেমস, এছাড়া পকিমন গো, ফিফা গেম, এবং মিনিক্রাফট গেম এর অনেক চাহিদা রয়েছে এই গুলা খেলে স্কিন রেকর্ড করে ইউটিউবে আপলোড করে হাল্কা এডিটিং করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন।

০৯. টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করে ইনকাম করুন

ইউটিউবে টিউটোরিয়াল ভিডিও এর অনেক চাহিদা রয়েছে, ফটোশপ, এবং বিভিন্ন ভিডিও এডিটং, ওয়েব ডিজাইন এর কাজ যারা জানেন, সেগুলোর উপর টিউটোরিয়াল তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন আর টিউটোরিয়াল ভিডিও ইউটিউবে ভিউ হয় অনেক

১০. শিশুতোষ বা শিশুর ফানি ভিডিও অথবা পোষা বিড়াল এর ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমেঃ

শিশুতোষ বা শিশুর ফানি ভিডিও অথবা পোষা বিড়াল এর ভিডিও গুলো মুঠোফোন এর মাধ্যমে ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করে দিন

. ওয়েব সাইটের ট্রাফিক বাড়ানোর জন্যঃ

এছাড়া আপনার ওয়েব সাইটের ট্রাফিক বাড়াহে আপনি ইউটিউব ব্যাবহার করতে পারেন, আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে টার্গেট করে ভিডিও বানাতে পারেন ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আপনি কি কি সার্ভিস দিতে চান সেটার উপর একটা ভিডিও তৈরি করেন এই ভিডিও আপনি পাওয়ার পয়েন্ট, উইন্ডোজ মুভি মেকার দিয়ে খুব সহজে ভিডিও তৈরি করতে পারেন এতে করে আপনার যখন আপনি ভিডিও আপলোড করবেন তখন ভিডিও এর ডেসক্রিপশন আপনার ওয়েব সাইটের লিংক দিয়ে দিবেন তাতে করে আপনার ওয়েব সাইটের ট্রাফিক বাড়বে সেখান থেকে একটা ইনকাম আসবে আবার আপলোড করা ভিডিও থেকেও ইনকাম আসবে

ভিডিও আপলোড করার ক্ষেত্রে যেই সকল বিষয়ে নজর রাখবেনঃ

  •  নিজের ক্যামেরা বা ফোন থেকে করা ভিডিও
  •  সম্পূর্ন ইউনিক এমন ভিডিও যেটি কেউ সত্ত্বাধিকারী বা দাবীদার নয়
  •  সব বয়সী লোকের কাছে গ্রহণযোগ্য
  • সঠিক অডিও স্ট্রিম
  • সঠিক ভিডিও বিট-রেট, ফ্রেম রেট, রেজুলেশন, অডিও বিট-রেট
  • কমিডি টাইপের কিছু